• facebook
  • twitter
Monday, 19 January, 2026

নিজের উপার্জনে প্রথম শাড়িটা কলকাতা থেকেই কেনা: গিরিজা

একটি পডকাস্টে নীল শাড়ি পরে তাঁর ইন্টারভিউ ভাইরাল। কেউ কেউ বলছেন তিনি এই মুহূর্তে ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’। ‘তারে জমীন পর’, ‘জওয়ান’ সহ বহু ছবির অভিনেত্রী তিনি। মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের জাতীয় নাট্য উৎসবে নিজের নাটক নিয়ে ঝটিকা সফরে কলকাতায় গিরিজা ওক গোড়বোলে। তাঁর সঙ্গে কথা বললেন অতনু রায়।

নিজস্ব চিত্র

প্রশ্ন: থিয়েটারের প্রতি ভালবাসা কীভাবে শুরু?
গিরিজা: অনেক কারণ। তার মধ্যে প্রথম হল, আমার আর্টের সঙ্গে প্রথম ইন্ট্রোডাকশন বললে…গান। কিন্তু ভিজ্যুয়াল আর্টের সঙ্গে ইন্ট্রোডাকশন থিয়েটারের মাধ্যমেই। আমার বাবা শেষ পাঁচ দশক ধরে থিয়েটার করছেন। আমি ব্যাকস্টেজে, উইংসেই বড় হয়েছি আর বাবার নাটক দেখেছি। সংলাপগুলোও আমার প্রায় মুখস্থ হয়ে যেত। পরে আমি নিজে নাটক করতে গিয়ে দেখেছি সত্যিই একটা ম্যাজিক্যাল ব্যাপার রয়েছে। ফাঁকা স্টেজে দাঁড়িয়ে আমি যখন বলি, ‘এটা আমার মহল’, মানুষ বিশ্বাস করতে চান। থিয়েটারের এই ‘মেক-বিলিভ’ খেলাটা আমার পছন্দের।

আর যেটা টানে সেটা হল, দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কানেকশন। হাসি-কান্না-হাততালির বাইরেও দর্শকদের সঙ্গে আমাদের এমন একটা কানেকশন তৈরি হয় যেটা বলে বোঝানো অসম্ভব। নাটকের দুটো শো কখনও একরকম হয় না। মারাঠিতে নাটকের শো’কে আমরা বলি ‘প্রয়োগ’, মানে এক্সপেরিমেন্ট। নাটক আমাকে শিখিয়েছে একটা বাক্যকে ২০০ রকম ভাবে বলা যায়।

Advertisement

প্রশ্ন: একটা চরিত্র শুরু করার পর ভেতরে ভেতরে আপনার সঙ্গে চরিত্রটাও কি বড় হয়? না প্রথম শোনার সময় যা ছিল, তাই থাকে?
গিরিজা: এটা অনেকটাই গল্প আর চরিত্রটার উপরে নির্ভরশীল। এবারে কলকাতায় যে ‘থাকেশি সম্বাদ’ নিয়ে এলাম, এই চরিত্রটার কোনো নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন নেই তাই এই চরিত্র আমার সঙ্গে বড় হবে। আবার যদি কোনো চরিত্র বাস্তবের চরিত্রের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, যেমন আমি ‘গহরজান’ করি, সেটা একই থাকবে। তবে চরিত্রটার প্রতি আমার অ্যাপ্রোচ নিশ্চয়ই আমার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাবে।

Advertisement

প্রশ্ন: কলকাতায় জমিয়ে শীত। এবারে কলকাতায় এসে ঘুরলেন?
গিরিজা: তেমন নয়। কফি হাউস গিয়েছিলাম, কলেজস্ট্রিটে রাস্তায় হাঁটাচলা করলাম। আমার খুব ভাল লেগেছে। এই ঠান্ডাটা তো আমরা খুব এনজয় করছি, কারণ এটা মুম্বইতে পাই না। আমি তো কলকাতায় প্রায়ই আসি, প্রচুর ঘুরি।

প্রশ্ন: চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কী কী মাথায় রাখেন?
গিরিজা: আমি প্রথমে দেখি স্ক্রিপ্টের নিজের কতটা যোগ্যতা আছে বা ন্যারেটিভটা দাঁড়াচ্ছে কিনা। তারপরে আমি দেখি কাদের সঙ্গে কাজ করছি। মানে, তাঁদের মানসিকতাটা বুঝে নেওয়া। তারপরে দেখি, আমার কাছে কী সুযোগ আছে এই ছবিটাকে দেওয়ার মতো। আবার কখনো কখনো খুব বড় একটা প্রজেক্টের অংশ হওয়ার জন্য আমরা অনেক চরিত্র করি। যদি কোন অথরব্যাকড্ চরিত্র পাওয়া যায় তো কোনও কথাই নেই।

প্রশ্ন: রিজিওনাল অভিনেতার তকমা কষ্ট দেয়?
গিরিজা: এটা কিন্তু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির উপরও নির্ভর করে। আমরা ন্যাশনাল বলতে হিন্দি ছবির কথা বলছি। কিন্তু রিজিওনাল ইন্ডাস্ট্রি যদি ধরি, দক্ষিণ ভারতের ছবি তো কবেই বক্স অফিস কালেকশনে হিন্দি ছবিকে ছাপিয়ে গেছে! একটা ধারণা, হিন্দিতে কিছু করলে সেটা মেইনস্ট্রিম। আজ কিন্তু সেটা আর নেই। শেষ দশ বছরে আমরা প্রচুর ক্রসওভার দেখেছি। বিভিন্ন রিজিওনাল অভিনেতা কিন্তু হিন্দি বা অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজ করেছেন। তবে যতটা পরিমাণে রিজিওনাল অভিনেতা হিন্দিতে কাজ করছেন উল্টোটা কিন্তু ততটা হচ্ছে না। আমি আরও বেশি কাজ এরকম দেখতে চাই। আমার মনে হয় একটা সিনেমা সবসময় সিনেমা। সেটা যে ভাষাতেই তৈরি হোক। লজিস্টিক দিক থেকে হয়তো বিভিন্ন ভাষার ছবির ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা আলাদা আলাদা। আর আমরা যাঁরা অভিনয় করি, আমরা প্রত্যেকেই ভারতীয় অভিনেতা।

প্রশ্ন: কলকাতার ছবিতে কাজ করার ইচ্ছা আছে?
গিরিজা: অবশ্যই ইচ্ছা আছে। সেরকম যদি কোনো স্ক্রিপ্ট আমার কাছে আসে, আমি করতে চাইব। কারণ, আমি চাই অন্য ভাষার ছবি করতে। আমি যেরকম কন্নড় ছবি করেছি। আমি সম্প্রতি গুজরাটি একটা নাটক করছি। আমার বিভিন্ন ভাষা শিখতে এবং সেই ভাষার ইমোশন বুঝে সেই ভাষায় কাজ করার একটা ইচ্ছা আছে। ভাল চরিত্র পেলে তাহলে বাংলা ছবি অবশ্যই করতে চাইব।

প্রশ্ন: কলকাতার কী কী পছন্দ?
গিরিজা: আমার কলকাতার খাবার ভাল লাগে, কলকাতার মানুষ ভাল লাগে, শহরটাই ভাল লাগে। কলকাতা আমার কাছে অনেকটা টাইম মেশিনের মতো। এখানে এলে আমি যেন কয়েকটা দশক পিছিয়ে যাই। সাত বা আটের দশকের ফিলটা এখানে আছে, ওই ভাইবটা আছে। এখানে এখনও আমি পাঁচ টাকায় মাটির ভাঁড়ে চা পাওয়া যায়। একবার একটা গুজরাটি নাটকের জন্য এসেছিলাম। তখন এখানে অষ্টমী-নবমী। তার আগে পর্যন্ত আমার ধারণা ছিল মুম্বইতে গণপতির সময়ে যে ভিড়টা হয় সেটাই সবথেকে বড়। পুজোর কলকাতা আমার ভুল ভেঙ্গে দিয়েছে। পুরো দুটো রাত আমি ঠাকুর দেখেছিলাম, এত ভাল লেগেছিল। কলকাতা আর একটা বিশেষ কারণে আমার মনের কাছের।

প্রশ্ন: কী সেটা?
গিরিজা: আমি আমার জীবনের নিজের প্রথম উপার্জনে যে শাড়িটা কিনেছিলাম, সেটা কলকাতা থেকেই কেনা একটা ‘অফ হোয়াইট’ বালুচরী। সেটা এখনও আমি খুব যত্ন করে রেখে দিয়েছি। এখন আর খুব একটা পরি না, কারণ ভয় হয় যদি ছিঁড়ে যায়! ২০০৫ সালে শাড়িটা আমি কিনেছিলাম চার হাজার টাকায়! আমার কাছে শাড়িটা আজও একই রকমের গর্বের।

Advertisement