• facebook
  • twitter
Friday, 2 January, 2026

বছরের প্রথম দিনেই দিঘার জগন্নাথধামে জনসমুদ্র

একদিনেই লক্ষাধিক দর্শনার্থীর নজির

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

দিঘার জগন্নাথধামে মানুষের ঢল নামল নতুন বছরের প্রথম দিনেই। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একদিনেই লক্ষাধিক পুণ্যার্থী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার দর্শন সেরেছেন। এতদিন দিঘা মানেই ছিল সমুদ্রস্নান আর পর্যটনের আনন্দ। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠা জগন্নাথধাম দিঘার সেই চেনা ছকের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম দিনেই তার স্পষ্ট ছাপ পড়ল এই উপকূল শহরের প্রতিটি রন্ধ্রে।

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বুধবার রাত থেকেই ওল্ড দিঘা ও নিউ দিঘার রাজপথ আলোয় ঝলমল করে ওঠে। রঙিন আলোর সাজ, সঙ্গীত আর উৎসবের আবহে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে দিঘা। ঠিক রাত বারোটার সঙ্গে সঙ্গেই আতসবাজির ঝলকানিতে আকাশ আলো করে নতুন বছরকে বরণ করে নেন পর্যটকরা। সেই উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা থেকে জগন্নাথধামের সামনে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। বহু দর্শনার্থী আগে সমুদ্রতটে গিয়ে বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখেন, সূর্যপ্রণাম সেরে সোজা পা বাড়ান মন্দিরের দিকে।

Advertisement

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও ঘন হতে থাকে। মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল চারটে পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষ জগন্নাথদেবের দর্শন করেছেন। উদ্বোধনের মাত্র আট মাসের মধ্যেই এই জগন্নাথধাম যে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, বছরের প্রথম দিনের এই বিপুল ভিড় তারই প্রমাণ। মন্দির পরিচালন কমিটির সদস্যদের মতে, প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শনার্থীর সংখ্যা এক কোটির গণ্ডি ছুঁয়েছে, সঙ্গে বেড়েছে মন্দিরের আয়ও।

Advertisement

কলকাতার ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস জানান, ‘বছরের প্রথম দিন বিকেল পর্যন্ত লক্ষাধিক দর্শনার্থী জগন্নাথদেবের দর্শন সেরেছেন। ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রায় দেড়শোটি দেশ থেকে প্রায় পঁচিশ হাজার মানুষ এই মন্দিরে এসে পুজো দিয়েছেন। ভোর থেকেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।’ তিনি আরও জানান, গত এক মাস ধরে দর্শনার্থীদের জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিফিন, মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজে অন্নপ্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেই প্রসাদ পেতেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বহু মানুষকে।

সমুদ্রের গর্জন আর ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি মিলেমিশে ২০২৬ সালের প্রথম দিনটি দিঘার ইতিহাসে এক অনন্য স্মৃতি হয়ে রইল। পর্যটননগরী দিঘা যে ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিক তীর্থক্ষেত্র হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে, বছরের প্রথম দিনের এই জনসমাগম তারই স্পষ্ট বার্তা দিল।

কথিত আছে, যেখানে মানুষের আত্মিক মিলন হয়, সেখানেই দেবতা বিরাজ করেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরও মানুষের সেই লক্ষ আত্মার মিলন ঘটিয়েছে। ফলে সমস্ত রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধে উঠে দিঘার জগন্নাথ ধাম তাই প্রকৃত তীর্থস্থানের রূপ লাভ করেছে।

Advertisement