মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশে দায়ের হওয়া অভিযোগকে ঘিরে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, এই অভিযোগগুলি পরিকল্পিত ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রশাসনিক চাপ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে কোনও রকম ভয়, হুমকি বা চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না। কমিশনের বক্তব্য, গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি। সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।
Advertisement
২০২৬ সালের ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্ক। কমিশনের দাবি, এসআইআর পুরোপুরি আইন ও বিধি মেনেই চলছে। শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলিকে তারা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ধারাবাহিক চাপের অংশ হিসেবে দেখছে।
Advertisement
এই প্রতিক্রিয়া এসেছে এমন সময়ে, যখন পুরুলিয়ার এক প্রবীণ ভোটারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনলাইন তালিকায় নাম না থাকায় ওই প্রবীণ ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ পাওয়ার পরেই তিনি আত্মঘাতী হন বলে পরিবারের অভিযোগ।
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৭ ডিসেম্বরই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়েছিল— ২০০২ সালের তালিকায় থাকা কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অনলাইনে নাম না থাকা ভোটারদের শুনানিতে হাজির হতে হবে না।
কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য ভোটারদের হয়রানি নয়। শুধুই লক্ষ্য, ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল করা। ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি ব্যর্থ হবেই— শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে আইন ও গণতন্ত্র।
Advertisement



