রাজ্য পুলিশে একযোগে একাধিক রদবদলের সিদ্ধান্ত। মোট ১৬৮ জন পুলিশকর্তার বদলির নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য পুলিশের দপ্তর। এই দীর্ঘ তালিকায় নাম রয়েছে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারেরও। তাঁকে আইসি পদ থেকে সরিয়ে পাঠানো হয়েছে জলপাইগুড়িতে, সেখানে জেলা ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের (ডিআইবি) ইনস্পেক্টর পদে নতুন দায়িত্ব নিতে হবে তাঁকে।
তবে বোলপুরের আইসি লিটন হালদারের বদল ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কারণ, কয়েক মাস আগেই একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তাঁকে নাকি ফোন করে গালিগালাজ করেছিলেন তৃণমূলের বীরভূমের নেতা অনুব্রত মণ্ডল। ওই অডিও ভাইরাল হওয়ার পরে দলের তরফে অনুব্রতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে মামলাও রুজু করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন লিটন হালদার।
বুধবার রাতেই রাজ্য পুলিশের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, লিটন ছাড়াও ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ বিভিন্ন জেলার বহু থানার ও দপ্তরের আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের দাবি, ‘এটি সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক রুটিন বদলি।’ তাঁদের বক্তব্য, ‘এখানে কোনও আলাদা উদ্দেশ্য নেই, প্রতি কয়েক মাস অন্তর এমন বদলির পর্ব আসেই।’
তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের বক্তব্য, যিনি আইসি-কে অপমান এবং গালিগালাজ করলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কার্যত কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। উলটে যিনি আক্রান্ত ছিলেন, তাকেই বদলি করা হল। এতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, বোলপুর থানার আইসি হিসাবে লিটনের জায়গায় কে দায়িত্ব নেবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় পুলিশকর্মীদের একাংশ বলছেন, ‘লিটন হালদার দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব সামলেছেন। রুটিন বদলি হলেও এলাকায় নতুন করে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।’
রাজ্য পুলিশের এই ব্যাপক রদবদলকে অনেকে ভোট–পূর্ব কৌশল হিসেবেও দেখছেন। আবার প্রশাসন দাবি করছে, ‘এটি শুধুমাত্র বিভাগীয় প্রয়োজনেই বদলি করা হয়েছে।’ তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিতর্ক যে থামছে না, তা এই বদলির তালিকা প্রকাশের পরই পরিষ্কার।




