দেশজুড়ে পরিষেবা–সংক্রান্ত বহু সমস্যার মূলেই রয়েছে মৃত ব্যক্তিদের সক্রিয় আধার নম্বর। সরকারি নথি থেকে আর্থিক পরিষেবা— সব ক্ষেত্রেই এই ‘অস্তিত্বহীন’ আধারের মাধ্যমে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছিল বহুদিন ধরে। সেই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল ইউআইডিএআই। এক ধাক্কায় বাতিল করে দেওয়া হল ২ কোটিরও বেশি আধার নম্বর।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বুধবার জানানো হয়েছে, সরকারি নথিতে স্বচ্ছতা আনা এবং সম্ভাব্য অপব্যবহার আটকানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোন কোন আধার বাতিল হয়েছে? ইউআইডিএআই–র ব্যাখ্যা, কোনও জীবিত ব্যক্তির নয়, যে ২ কোটির বেশি আধার নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, সেগুলি সবই মৃত ব্যক্তিদের।
Advertisement
এখানে কেন্দ্রের রেজিস্ট্রার জেনারেল, রাজ্য সরকার এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাওয়া মৃত নাগরিকদের তালিকার সঙ্গে আধার–তথ্য মিলিয়ে মৃতদের একটি নির্দিষ্ট ডেটাবেস তৈরি করা হয়। সেই হিসেব ধরে একযোগে মৃত ব্যক্তিদের আধার বাতিল করা হয়েছে। ইউআইডিএআই স্পষ্ট জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির সক্রিয় আধার নম্বর অপব্যবহারের সুযোগ থেকে যায়। তাই দ্রুত নিষ্ক্রিয়করণ জরুরি।
Advertisement
সরকার আরও জানিয়েছে, কোন কোন আধারধারী নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর পরেও কার কার আধার এখনও সক্রিয় রয়েছে, নির্দিষ্ট এই তথ্য ‘মাই আধার’ অ্যাপের মাধ্যমে ইউআইডিএআই-কে জানাতে নাগরিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে মৃত ব্যক্তিদের সক্রিয় নথির ব্যবহার রোধ করা সহজ হবে।
তবে এখানেই শেষ নয়। দু’কোটি আধার বাতিল হলেও এখনও বহু মৃত ব্যক্তির আধার নম্বর সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাখিল করা তথ্যের অধিকারের আবেদনের জবাবে ইউআইডিএআই জানিয়েছিল, ২০১১ সালের পর গত ১১ বছরে মাত্র ১.১৫ কোটি আধার নিষ্ক্রিয় হয়েছিল। এবার কেন্দ্রের প্রকাশিত নতুন হিসেব বলছে, বাতিল আধারের সংখ্যা ২ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে।
প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে আধারকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা না হলেও প্রায় সব সরকারি পরিষেবা এই আধার কার্ড দেখিয়েই পাওয়া যায়। অন্যান্য নথি সংশোধন বা আপডেট করতেও আধার ব্যবহৃত হয়। ফলে মৃত ব্যক্তিদের সক্রিয় আধারের অপব্যবহার নিয়ে দিনদিন উদ্বেগ বাড়ছিল। সরকারের এই পদক্ষেপ সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমাতে পারে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
Advertisement



