• facebook
  • twitter
Thursday, 29 January, 2026

নীতীশ কলকাতা ছাড়লেন, পন্থের অনুশীলনে খুশি কোচ

ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট ম্যাচ নিয়ে ইডেন উদ্যানে ব্যস্ততা তুঙ্গে

নিজস্ব চিত্র

ইডেন উদ্যান এখন ক্রিকেট ভক্তদের আনাগোনায় ব্যস্ততা। পাশাপাশি, কর্মকর্তাদেরও আলোচনার শেষ নেই। সিএবি-র সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি থেকে শুরু করে সচিব বাবলু কোলের ঘরের সামনে মানুষের ভিড়। কীভাবে তাঁদের ট্যাকেল করবেন, তা নিয়ে বিস্তর পরিকল্পনা তৈরি করছেন সিএবি-র শীর্ষ কর্মকর্তারা। সেই অর্থে টিকিটের চাহিদা বিরাট কিছু আছে বলে মনে করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন বাদে লাল বলের ক্রিকেট দেখতে পাওয়া যাবে কলকাতায়। প্রথম দু-দিন হয়তো শীতের বেলায় কিছু ক্রিকেটপ্রেমী ইডেনে আসতে পারেন। তবে সেই ইডেনের মজাদার চরিত্রটা এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। শীত পড়লেই কলকাতায় যেমন সার্কাসের তাঁবু বিভিন্ন প্রান্তে বসত, ঠিক সেইভাবেই শীতের রোদকে উপভোগ করার জন্য পরিবারের সবাইকে দেখতে পাওয়া যেত অনেকটা চড়ুইভাতির আমেজটা তুলে নিতে। সেই ইডেন এখন কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা। কেউই কোনওরকম ব্যাগ বা অন্য কোনও জিনিস নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন না। তারপরে দিল্লিতে সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় যেভাবে ভয়ানক অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা ভাবা যায় না। সেই কারণেই ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট ম্যাচে শুধু খেলোয়াড়দের নয়, দর্শকদের কোনওরকম অসুবিধের মধ্যে না পড়তে হয়, তার জন্য নিরাপত্তা এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা ভাবা যাবে না।

আটোসাঁটো নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ইডেনে বুধবার দুই দলই অনুশীলন করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর মাঠে প্রবেশ করেই কিউরেটর সুজন মুখার্জিকে ডেকে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনায় মশগুল ছিলেন। অনুশীলনের মাঝেই অধিনায়ক শুভমন গিলকেও ডেকে নেন কোচ। আসলে ইডেনের উইকেট নিয়ে আলোচনা কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। বুধবারেও উইকেটের অবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে বেশ চিন্তিত কোচ শুভমন গিল। দুপুর ১২টা নাগাদ যখন ভারতীয় দল অনুশীলন করছিল, সেই সময় বেশ কিছু দর্শককে দেখা গেল মাঠে হাজির। অনুশীলনের সময় ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক, বোলিং কোচ মর্নিং মর্কেল ও সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতকেও দেখা গেল। প্রত্যেকেই তাঁরা খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করার জন্য সবসময় প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু অধিনায়ক শুভমনকে দেখা গেল বেশ উত্তেজিত। তার প্রধান কারণ হয়তো উইকেট দেখে তিনি কিছুতেই সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না। প্রথমে বলা হয়েছিল, স্পিনারদের সহায়ক হবে এই উইকেট। কিন্তু স্পিনাররা এই উইকেটে বল করে কীভাবে অঘটন ঘটাবে, তা কিছুতেই স্পষ্ট হচ্ছে না। আবার দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়রাও চাইছেন এমন উইকেট তৈরি হোক, যেখানে স্পিনাররা দলের মূল অস্ত্র হবেন। ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিলকে বার বার দেখা গিয়েছে উইকেটে হাত দিয়ে পরীক্ষা করছেন সত্যিই কি বোলার ও ব্যাটসম্যানরা বাড়তি সুযোগ আদায় করে নিতে পারবেন? শুভমন গিল ও কোচ গৌতম গম্ভীর প্রায় ১৫ মিনিট একান্ত আলোচনা করেন। আসলে ভারতীয় দলের স্বাথেই ইডেনের উইকেট স্পিনারদের জন্যই চেয়েছিলেন। হয়তো আরও বেশি স্পিন সহায়ক হওয়ার জন্যই তাঁরা কিউরেটরকে অনুরোধ করেছিলেন। সম্ভবত সেই কাজটা পুরোপুরি হয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, ব্যাটে-বলে ভালোই লড়াই হবে।
ভারতীয় দলে রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, ওয়াশিংটন সুন্দর ও অক্ষর প্যাটেল রয়েছেন স্পিনার হিসেবে। আবার দক্ষিণ আফ্রিকার দুই স্পিনার হয়তো চাপের মধ্যে রেখে দিতে পারেন ভারতীয় দলকে। শোনা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে খেলার পিচে জল দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই অল্প অল্প ঘাস রয়েছে উইকেটে। কোনও কোনও জায়গায় যেমন ঘাস রয়েছে, আবার কিছু জায়গায় ঘাস শুকিয়ে গিয়েছে। এই খবর যখন সৌরভ গাঙ্গুলির কাছে পৌঁছয়, তখন তিনি কোচ ও অধিনায়ককে ডেকে পাঠান। তবে, সৌরভ নিজে বলেছেন, উইকেট বেশ ভালোই হয়েছে। আশা করা যায়, ম্যাচ যত ঘুরবে, ততই উইকেটের চরিত্র বদলে যাবে। সব ক্রিকেটাররাই এই ধরনের উইকেটে ভালো খেলার চেষ্টা করবেন বলে বিশ্বাস। এমনকি উইকেটে ভালো বাউন্সও হবে। নিঃসন্দেহে বলা যায় স্পোর্টিং উইকেট হয়েছে।

Advertisement

এই মুহূর্তে অধিনায়ক শুভমন ব্রিগেডে প্রথম একাদশে কারা খেলতে পারেন, এই প্রশ্ন উঠতেই ভারতের সহকারী কোচ দুশখাতে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অপেক্ষা করুন না, সময় মতো সবকিছুই আপনারা জানতে পারবেন। শুধু তাই নয়, তিনি স্পষ্ট করেছেন, ধ্রুব জুরেলকে এই মুহূর্তে প্রথম একাদশের বাইরে রাখা খুব কঠিন ব্যাপার। তবে যে কোনও খেলোয়াড়ই বাদের তালিকায় থাকতে পারেন। তাই বলে ভাবার কোনও কারণ নেই। গত সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে ধ্রুব জুরেল যে খেলা খেলেছেন, তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তিনি প্রথম একাদশে আসতেই পারেন। সত্যিই যদি ধ্রুব জুরেল প্রথম একাদশে চলে আসেন, সেক্ষেত্রে নীতীশকুমার রেড্ডিকে বাইরে রাখতে হবে। কোচ নিশ্চয়ই জেতার জন্য কৌশল তৈরি করবেন। যে খেলোয়াড়দের প্রয়োজন রয়েছে ভারতকে জয় তুলে দিতে, তাঁদেরকেই রাখা হবে প্রথম একাদশে। ইডেনের উইকেট নিয়ে শুধু স্পিনাররা নয়, জোরে বোলাররাও ভালো বল করতে পারবেন বলে বিশ্বাস। শুরুর দিকে জোরে বোলাররা বিশেষ জায়গা পেলেও পরবর্তী সময়ে স্পিনাররা হাতের ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষ দলের উইকেট ভেঙে দিতে পারেন। ভারতীয় দলে কুলদীপ যাদব প্রথম একাদশে জায়গা পাবেন তা নতুন করে বলার নেই। তবে, ওয়াশিংটন সুন্দর, অক্ষর প্যাটেল ও রবীন্দ্র জাদেজার মধ্যে দু’জনের জায়গা হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররাও কোনওভাবেই হালকা চালে খেলার প্রবণতা দেখাবেন না, সেটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে তাঁদের অনুশীলন দেখে। আসলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা জয় তুলে নিয়েছে। তাই ভারতে আসার আগে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা দল।

Advertisement

ইতিমধ্যেই ভারতীয় দলের ১৫ জনের সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ১৪ নভেম্বর খেলা শুরু হওয়ার আগে কোচ গৌতম গম্ভীর অলরাউন্ডার নীতীশ কুমারকে কলকাতা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন নীতীশ অনুশীলনও করেছেন। শোনা গেছে অনুশীলনের মাঝেই নীতীশকে রাখা হবে না, এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই শুধু দলেই নয়, কলকাতাতেই থাকবেন না নীতীশ। তাঁকে রাজকোটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে ভারতীয় ‘এ’ দল। ওই দলে নীতীশ খেলবেন। তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলা হবে। সবকটি ম্যাচই হবে রাজকোটে। ১৩, ১৬ ও ১৯ নভেম্বর এই তিনটি একদিনের ম্যাচে নীতীশকে দেখা যাবে ভারতীয় এ দলে। আসলে নীতীশ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে চোট পেয়েছিলেন। চোট সারিয়ে দলে ফিরলেও কোচ গৌতম গম্ভীর তাঁকে টেস্ট দলে না রেখে ভারতীয় ‘এ’ দলে খেলার নির্দেশ দেন। আসলে কোচ চাইছেন না, ড্রেসিং রুমে বসে নীতীশ সময় কাটাক।
এদিন অনুশীলনে নজর কাড়লেন ঋষভ পন্থ। ইংল্যান্ড শিবিরে চোট পাওয়ার পরে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরেছেন মাঠে। ঋষভ বেশ কিছুক্ষণ নেটে নিজেকে ঝালিয়ে নিলেন। ব্যাটিং করার পরে কিপিং অনুশীলন করলেন। তাঁকে দেখেই মনে হয়েছে, পুরোপুরি সুস্থ। কোনওরকম সমস্যা নেই। এমনও হতে পারে, ধ্রুব জুরেল ও ঋষভ পন্থকে ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে দেখতে পাওয়া গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

Advertisement