• facebook
  • twitter
Sunday, 1 February, 2026

ভরসা রাখতে হবে

জেলা আদালত বা হাইকোর্টের উপর সমাজের সংশয় এতটাই বাড়ছে যে সবাই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করতে চাইছে।

প্রতীকী চিত্র

ন্যায় বিচারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না বলেছিলেন,” justice means the existence of rules that provide an equal and fair opportunity to win against the most powerful, even the state itself”. কিন্তু সেই নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা বর্তমানে যে ক্রমশ সংশয়ের জন্ম দিয়েছে তা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বেশিরভাগ বিচারপতির মন্তব্যেই পরিষ্কার, যা সংবিধানের রক্ষাকর্তা হিসাবে বিচারবিভাগের পক্ষে একদমই কাম্য নয়। জেলা আদালত বা হাইকোর্টের উপর সমাজের সংশয় এতটাই বাড়ছে যে সবাই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করতে চাইছে। বিচারপতি সূর্যকান্ত মামলাকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা কেন কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করছেন না? হাইকোর্টকে এড়িয়ে গিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হলে হাইকোর্টের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা হয়।’ বলা বাহুল্য, সাধারণ মানুষ বিচারবিভাগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন নয়, তারা শুধু ন্যায়বিচার বোঝে। এদিকে নিজের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হবার পরে বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে ইন হাউস রিপোর্ট জমা পড়েছে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে, যদিও ভার্মা এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পদত্যাগ করতে রাজি নন। অন্যদিকে, দেশের সংবিধান এক চরম সংকটে দাঁড়িয়ে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে জানতে চান, সুপ্রিম কোর্ট কিভাবে রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতিকে বিল পাসের সময় বেঁধে দিতে পারে?

অভিযোগ আরোও গুরুতর যে, সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ক্ষমতা কি রাজ্যগুলো কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে? এই রকম একটা পরিস্থিতিতে দেশের প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না যে আক্ষেপ নিয়ে তাঁর আসন ছাড়লেন, বিচারপতি গাভাই সেটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করলেন। জনমানসে বিচারবিভাগের প্রতি আস্থা ফেরানোটা খুব দরকার, যখন ভারতীর বিচারব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের হবার চেষ্টা করছে। বিচারপতি খান্না বলেছিলেন, “public trust in judiciary cannot be commanded. It has to be earned”. দীর্ঘদিন ধরে বিচারবিভাগ সততা, নিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা দিয়ে যে আস্থা অর্জন করেছে, তা ভেঙে গেলে গণতন্ত্রের ক্ষতি হয়ে যাবে। বিচারপতি খান্না জানেন, দূর্নীতি যদি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় তাহলে বিচার প্রহসনে পরিণত হবে, সত্য কোনোদিন প্রকাশ পাবে না। নিজের কষ্ট বিচারপতি খান্না যেমন ব্যক্ত করেছেন,” truth deficit in legal profession bothers me”, তেমনই এর নেতিবাচক প্রভাব যে কত ভয়ঙ্কর তাও বিচারপতি উল্লেখ করেছেন তাঁর পর্যবেক্ষণে, “when a towering tree in the forest of justice steps back,the birds pause their songs and the wind moves difficultly”৷

Advertisement

দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্বীকার করেছে, “there are some judges who work very hard but at the same time, these are judges who are unnecessarily taking coffee breaks”. ফলে বিচার ব্যাহত হচ্ছে আর মামলার পাহাড় জমছে। বিচারপতির আসনেই বসেই গাভাই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বলেন, “মামলা জমে থাকা সকলের জন্যই উদ্বেগের।” তিনি সংস্কারের পক্ষে সরব হয়েছেন। একটা পরিকাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই দূষণ থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আমি চাইব নিম্ন আদালত থেকে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত সংস্কার করে মামলার বোঝা কমাতে হবে।” তিনি বলেন, “বিচারবিভাগই দেশের সাধারণ মানুষের শেষ আশা ভরসার জায়গা।” তাই দেশের প্রধান বিচারপতির আসনে বসেই তিনি যেমন আদালতের ব্যর্থতার কথা মেনে নিলেন, তেমনই সংবিধানের প্রতি আদালতের দায়বদ্ধতার কথাও মনে করিয়ে দিলেন।” বিচারপতি গাভাই বলেন, “বিচারবিভাগের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতেই হবে। কিছু ব্ল্যাক শিপ সর্বত্র থাকে।”

Advertisement

দেশের প্রধান বিচারপতি গাভাই একবার মজা করে আইনজীবী কপিল সিব্বলকে বলেছিলেন “আপনি মশাই নানা রাজ্যের হয়ে মামলা লড়েন। আর এক এক রাজ্যের হয়ে এক এক যুক্তি পেশ করেন।” কথাটা শুনে কপিল সিব্বল হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, “অবাক হবার কিছু নেই। বিচারপতিরাও এক এক মামলায় এক এক রকম রায় দেন।” বিচারপতি গাভাই হাসিখুশি মানুষ বলেই পরিচিত। তবে সিব্বল যে সেদিন ভুল কিছু বলেননি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আদালত নিজেও সেকথা স্বীকার করেছে। রেনুকা বনাম কর্ণাটক রাজ্যের মামলায় আদালত বলে, “inconsistency in approaches by benches will give rise to sharp practices… consistency in judicial outcomes is the hallmark of a responsible judiciary “. যদিও এর অন্যতম কারণ হিসাবে বিজেপি নেতা অমিত শাহ আইনের ড্রাফটিংকে দায়ী করেছেন। আইনের ব্যাখ্যাকর্তা হিসাবে আদালতই চূড়ান্ত, কারঈ সে-ই সংবিধানের রক্ষাকর্তা। এক মামলার পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়, “as the final interpreter of the constitution, the suprem court may something read a provision in way that might militate against our common sense but we have to defer to the court’s interpretation as just and fair”. বর্তমানে দেশের বিচারবিভাগ এক কঠিন পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে।

যে আদালত একসময় মিডিয়া ট্রায়ালের প্রস​ঙ্গে কঠোর মনোভাব দেখিয়ে এসেছে, ক্যান্টিন গসিপ বলে জনগণের অনাস্থাকে নাকচ করেছে আজ সেই আদালতই বলছে, “court as a public and open institution,must always remain Open to public observation,debate and criticism”. দেশের বিচারবিভাগ হরেক সমস্যার সামনে দাঁড়িয়ে। সমস্যা ঘরে বাইরে। দেশের প্রাক্তন বিচারপতি যখন আইনজীবীদের ড্রাফটিং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তখন অভিযোগ উঠছে, কানপুর শহরের অতিরিক্ত জেলা বিচারক নাকি জাজমেন্ট লিখতেই পারেন না। নতুন ফৌজদারি আইনকে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচুড় স্বাগত জানালেও অপর এক বিচারপতি চেলমেশ্বর একে নতুন বোতলে পুরানো মদ বলেই মনে করেন। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে দলীয় রাজনীতির পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের সম্পত্তির হিসাব চাইছে নাগরিক সমাজ। বিচারের আসন ছেড়ে অনেকেই সটান চলে আসছেন রাজনীতির ময়দানে। এবিষয়ে অবশ্য প্রধান বিচারপতি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, অবসরের পরে কোনো রাজনীতিতে যেতে ইচ্ছুক নন।

তবু সমাজের অংশ হিসাবে বিচারপতিদের সঙ্গে রাজনীতির লোকেদের দেখা করাটা অপরাধের কিছু নেই কারণ সমাজে থাকতে হলে একটা সৌজন্যতার পরিবেশ বজায় রাখা দরকার। উল্লেখ্য, অনেকেই মনে করেন,বর্তমান বিচারপতিদের আইন সম্পর্কে ধারণা থাকলেও সমাজতত্ত্বের উপর সঠিক ধারণা নেই। আইনের দরবারে আইনের বাইরে প্রশ্ন করা হচ্ছে ,যা প্রতিদিন বিতর্কের জন্ম নিচ্ছে। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বিরুদ্ধে উঠছে পক্ষপাতের অভিযোগ। দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন আর এক বিচারপতি রাকেশ কুমার। বিচারবিভাগকে রাজনৈতিকভাবে দখল করার চেষ্টা চলছে। রাজ্যের শাসক দল যেমন কলকাতা হাইকোর্টকে বিজেপি পার্টির বলে দাবি করছে। রাজনীতির জোরে আদালতের রায়কে উপেক্ষা করা একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের প্রতি ভদ্রতা শ্রদ্ধা যেমন রাজনীতির লোকেরা দেখাচ্ছেন না, তেমনই আইনজীবীরাও বিচারপতিদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। কলকাতা হাইকোর্টের এক খ্যাতনামা আইনজীবী এক বিচারপতির দক্ষতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন করেন।

এসবের পরে সাধারণ মানুষের মনে কিভাবে বিচারবিভাগের প্রতি আস্থা থাকবে এখন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ও ধর্মীয় উস্কানির অভিযোগও উঠে যখন বিচারপতি শেখরকুমার যাদব বলেন, “হিন্দুস্থানে সংখ্যাগুরু মানুষের ইচ্ছেতেই দেশ চলবে” বা, কোনো নাবালিকার স্তন খামচে ধরা, তার পাজামা ছেঁড়া রাস্তার ধারে কালভার্টের দিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্র ধর্ষণের চেষ্টা হিসাবে দেখতে নারাজ, বরং তাঁর কাছে এটি গুরুতর যৌন নিগ্রহ। বলা বাহুল্য, দেশে এই মুহূর্তে বিচারপতির সংখ্যা খুব কম। দেশে প্রতি ১০ লক্ষে বিচারক মাত্র ১৫ জন, যেখানে থাকা উচিত ৫০ জন। বর্তমানে হাইকোর্টগুলোতে ২১ শতাংশ পদ শূন্য। জেলা আদালতগুলোতে বিচারক প্রতি মামলার সংখ্যা গড়ে ২ হাজার ২০০।

এর পরেও অভিযোগ উঠছে, কেন্দ্রের শাসক দল নিজেদের লোক দীনেশ মাহেশ্বরিকে ল কমিশনের চেয়ারম্যান করেছে। এসব দেখে জনমানসে যে সংশয় আরোও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য। ল্যানসেট তাঁর রিপোর্টে দেশে রাজনৈতিক দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেছে এবং সেই দুর্নীতিতে ভুক্তভুগী দেশের অধিকাংশ নাগরিক। মানুষ তবু আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকে। India Justice Report ২০২৫ বলছে, ন্যায়বিচারে কলকাতা হাইকোর্টের স্থান অনেক নিচে, আগে রাজস্থান আর কেরল। এর পিছনে কতটা প্রশাসনিক গাফিলতি আছে সেটা তর্ক সাপেক্ষ। তবে মালিম্যাথ কমিটি স্বীকার করেছে বিচারে উচ্চবিত্তের প্রভাব রয়েছে। ফলে মামলার ভবিষ্যত কি কেউ জানে না। শুধু বিশ্বাসে ফাটল ধরেছে আর সাধারণ মানুষের টাকা খরচ হচ্ছে। বলা বাহুল্য, রাজ্যপালের সই ছাড়া আইন পাশ হয়ে যায় তখন রাজনৈতিক দিক থেকে ইতিবাচক মনে হলেও সুপ্রিম কোর্টের এইরূপ পদক্ষেপে আগামী দিনে সাংবিধানিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

এই মন্তব্যগুলোকে হাতিয়ার করে হাইকোর্ট বা জেলাকোর্টে বিধিবদ্ধ আইনের বাইরে এক গভীর জটিলতার জন্ম হবে বলেই অনেকের ধারণা। এটা বিচারের আধুনিকতা নাকি আইনের বাইরে গিয়ে পরিবেশ পরিস্থিতি বিচার করে আইনি মানসিকতা দিয়ে ঘটনাকে বিচার করা— সে তো সময় বলবে। বিচারব্যবস্থার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের সম্পর্ক রয়েছে এবং তা সাংবিধানিক বিধি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এখন সে সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে পারে। তখন আদালতকে সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অনেকেই জুডিশিয়াল এক্টিভিটিজিমের কথা স্মরণ করছেন। তবে যতো গণ্ডগোলের মূলে রয়েছে রাজনীতি। স্বাধীনতার পর থেকে বারবার রাজনৈতিক স্বার্থে সংবিধানকে ব্যবহার করে সংবিধানের আদর্শ কলুষিত করা হয়েছে। সংবিধান না জেনে সাংবিধানিক আসনে কাউকে বসালে সমস্যা সৃষ্টি হবারই কথা। সুপ্রিম কোর্ট বলছে, “President must decide on bills reserved by governor within three months: States can approach courts against President inaction. ”

এখন সমস্যার হলো, বিচারবিভাগ সবার ক্ষমতা, নীতি আদর্শ ঠিক করে দেয় কিন্তু তার ক্ষমতা ঠিক কতদূর সেটা বলা নেই। ফলে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সংবিধানের আদর্শ রক্ষায় বিচারবিভাগ সক্রিয় হয়ে উঠতেই পারে।কিন্তু এর ফলে সংবিধানের ১৪৩ নম্বর ও ১৪৫ নম্বর ধারার মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তাতে ফাটল ধরবে বলে অনেকে চিন্তা প্রকাশ করছে। সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা বলে সামগ্রিক বিচারের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট সক্রিয় হয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করলে সংবিধানের ৩৬১(১) ধারার সঙ্গে কিঞ্চিৎ বিরোধ বাঁধার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। সংবিধানের ১৪৩(১) ধারা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট যুক্তি দিচ্ছে, “president ought to seek our opinion if governor reserves bills claiming it is unconstitutional.” এর খারাপ দিকও থাকতে পারে। কারন সংবিধানের ১৪৫ নম্বর ধারা মতে rule of court এর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন দরকার এবং এই ধারাতে সবটাই প্রায় বিচারবিভাগীয় স্বার্থ জড়িত। এক্ষেত্রে যদি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনকে উপেক্ষা করা হয় তাহলে বিচারবিভাগের অতিসক্রিয়তা আবার প্রশ্নের সামনে দাঁড়াবে। নরেন্দ্র চাঁপাকাল ত্রিবেদী বনাম পাঞ্জাব মামলায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা তখনই প্রয়োগ করা যাবে যখন বিকল্প নেই।

প্রশ্ন এই বিকল্পও পদ্ধতি ঘিরে। বিকল্প পন্থার হদিস না দিয়ে সময় বেঁধে দিলে সাংবিধানিক ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। পরিস্থিতির নিরিখে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত হয়তো জরুরি ছিল কারণ, রাজনীতির কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার জন্য দায়ী রাজনীতি, সংবিধান নয়। ফলে সংবিধানের বিধি ভেঙে কিছু করতে গেলে ভবিষ্যতের দিকে ভাবা উচিত। সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা অবশ্যই বিচারবিভাগের রয়েছে এবং সেটা এ.এস.পি. রাজারাম বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলাতে সুপ্রিম কোর্ট স্বীকারও করেছে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপাল পদটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। মনে রাখা উচিত তাঁরা কেউ দলের মুখপাত্র নয়। ফলে রাজ্যের উপরে তাঁদের বসিয়ে সেই রাজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে দূষিত রাজনৈতিক লাভ ভোগ করলে সংবিধানের শাসন কোনোদিনই প্রকৃত অর্থে চালু হবে না। শুধু রাজনীতির ফলে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের মত পদকে অপমানিত হতে হচ্ছে। গণপরিষদের এক সভায় আম্বেদকর বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিনিধি হলেও শাসক নয়, তাঁকে মন্ত্রিসভার পরামর্শ মেনেই কাজ করতে হবে।

একই কথা রাম জাওয়া কাপুর বনাম পাঞ্জাব মামলায় ও ইউ. এন. রাও বনাম ইন্দিরা গান্ধী মামলায় সুপ্রিম কোর্টকেও বলতে শোনা যায়। ১৯৭৬ সালের ৪২ তম সংবিধান সংশোধনের পর ১৯৭৮ সালের ৪৪ তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয়। বিল পাশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের সীমাবদ্ধতা সংবিধানের ১১১ ও ২০০ নম্বর ধারায় বলা থাকলেও সময় নির্দিষ্ট করে কোথাও বলা নেই। ফলে এই ‘নব সংযোজন’ হবার পরে কেউ কেউ এই প্রশ্নও তুলতে পারে, বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করার একটা নির্দিষ্ট সময় থাকুক, যাতে নাগরিককে দীর্ঘদিন বিচারের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়। মৌলিক অবস্থান সবার এক হওয়া উচিত। সংবিধানের আদর্শ রক্ষার গুরু দায়িত্ব বিচারবিভাগের উপর। তাই সেই বিচারবিভাগকে নিরপেক্ষ ও সকল সংশয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবাক হয়ে যাচ্ছে যখন শুনতে হচ্ছে উত্তরপ্রদেশে দেওয়ানি মামলাকে ফৌজদারি মামলার ধারায় রূপান্তরিত করে পুলিশি জুলুম চলছে। হাইকোর্ট পুলিশকে সতর্ক করেছে, “police uniform not a licence to assult innocent citizen. “শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন, “দুনিয়াটা প্রতিদিন খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে।.. দূর্বার গতিতে বদলাচ্ছে সবকিছু।” Suresh Pal vs uttar Hariyana Bijli vitram Nigam Ltd and others মামলায় আদালত বলে, “law and society are never static and they are always dynamic.” কিন্তু মানসিকতার বদল হচ্ছে না সেই অর্থে। আইনের মলাট থেকে ঔপনিবেশিক রংটা মুছে গেলেও বাস্তবে জীবনের অধিকারকে লঙ্ঘন করে চলছে শোষণের উল্লাস। মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করছে কারণ যে ছবি মানুষ রাজনীতিতে দেখতে অভ্যস্ত সেগুলো সে আদালতের মধ্যে দেখতে চায় না। অনেক বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এই সমাজের জন্ম হয়েছে। রাজনীতির দূষণে যেন সেই সমাজের মৃত্যু না ঘটে। বিচারপতি গাভাই মনে করিয়ে দেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই সংবিধান বদল করা যায় না। যদি সংবিধানের আদর্শ হারিয়ে যায় তদদবে সেটা হবে প্যারাডাইস লস্ট। রহিংটন নরিমান লিখেছিলেন, “if basic structure doctrine ever goes,then God helps this country”৷

Advertisement