সোমবার থেকে খুলে গেল দুধিয়ার বিকল্প সেতু। চাকা গড়াল শিলিগুড়ি-মিরিক পথে। গত ৫ অক্টোবরের টানা বর্ষণে তছনছ হয়ে গিয়েছিল উত্তরবঙ্গ। ফুলে ফেঁপে উঠেছিল বালাসন নদী। ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়েছিল বালাসন নদীর উপর লোহার দুধিয়া সেতু। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল শিলিগুড়ি-মিরিক। এর ফলে পর্যটক, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম সমস্যায় পড়েন। বালাসন নদীর উপর দুধিয়া সেতু ভেঙে পড়ার পর প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এই পথ বন্ধ ছিল। স্থায়ী সেতু মেরামতের কাজ এখনই সম্পন্ন করাও চটজলদি সম্ভব ছিল না।
তবে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ৭ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, অস্থায়ীভাবে দ্রুত সেতু তৈরি করে দেওয়া হবে। পূর্ত দপ্তর হিউম পাইপ বসিয়ে একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেয়।অবশেষে স্বস্তির খবর দুধিয়া-মিরিক রোডের যাত্রী ও পর্যটকদের জন্য। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ২০ দিনের মাথাতেই খুলে গেল দুধিয়ার বিকল্প সেতু। তবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলা হয়েছে ১০ টনের বেশি ভারী গাড়ি চলাচল করবে না অস্থায়ী ওই সেতু দিয়ে।
Advertisement
এই সেতু না হওয়া পর্যন্ত কার্যত থমকে ছিল উত্তরবঙ্গের উল্লেখযোগ্য যোগাযোগের একটি মাধ্যম। তবে সেতু খুলে যেতেই বেজায় খুশি পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে শিলিগুড়ি ও মিরিকের যোগাযোগ ব্যবস্থাও। প্রায় ২২০ মিটার দীর্ঘ এই বিকল্প রাস্তায় আপাতত ছোট গাড়ি চলবে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে পরবর্তীতে বড় যানবাহনের অনুমতিও দেওয়া হতে পারে। প্রশাসনের আশা, নতুন এই পথ চালু হলে দুধিয়া ও মিরিক অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটনে ফের প্রাণ ফিরে আসবে। অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল গত ১০ অক্টোবর। ১৬ দিনের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় উত্তরবঙ্গের পূর্ত দপ্তরকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি মুখ্যমন্ত্রী।
Advertisement
Advertisement



