দশেরার শোভাযাত্রা ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। জানা গিয়েছে, জেএনইউ-এর ছাত্র সংসদের একাংশ আফজল গুরু, উমর খালিদ, শারজিল ইমাম, জি সাই বাবা এবং চারু মজুমদারদের রাবণ রূপী কুশপুতুল তৈরি করা হয় এবং তারপর তাদের দাহ করা হয়। এই কুশপুতুলগুলি দাহ করার উদ্যোগ নিয়েছিল এবিভিপি। এরপরেই দশেরার শোভাযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে এবিভিপি-র অভিযোগ। শোভাযাত্রা লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এবিভিপির তরফে জানানো হয়েছে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিই পাথর ছুড়েছে দশেরার মিছিলে। আহত হন বহু পড়ুয়া। যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত আইসা নামে সংগঠনটি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া শেষ পাওয়া খবরে মেলেনি।
এবিভিপি-র পরিচালনায় রাবণ দহন অনুষ্ঠান থেকে অশান্তির সূচনা। বৃহস্পতিবার রাতে জেএনইউ-এ এবিভিপি-র তরফে মা দুর্গার বিসর্জন এবং দশেরার ‘রাবণ-দহন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এবিভিপি-র দাবি, বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭টা নাগাদ শোভাযাত্রা চলাকালীন সবরমতী টি পয়েন্টের কাছে আচমকাই পাথরবৃষ্টি শুরু হয় শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করে। ছাত্র সংসদের যুগ্ম সম্পাদক তথা এবিভিপি-র নেতা বৈভব মীনার অভিযোগ, ‘দশেরাতে জেএনইউএসইউ সিদ্ধান্ত নেয় নকশালদের রাবণ হিসেবে বর্ণনা করে দাহ করা হবে। আমাদের এখানে নবরাত্রির পাশাপাশি দুর্গাপুজোও হয়। সেই মতো বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। শোভাযাত্রাও বের করা হয়। সেটি সবরমতী টি পয়েন্টের কাছাকাছি এসে পৌঁছতেই কয়েকটি বামপন্থী সংগঠনের সদস্যরা জুতো ও চটি ছুড়তে শুরু করে। এই হামলা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রাতৃত্ব এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির উপর আঘাত।’ এই ঘটনায় বহু পড়ুয়া আহত হন। এবিভিপির অভিযোগ, এআইএসএ, এসএফআই, ডিএসএফ-এর মতো ছাত্র সংগঠনগুলি হামলা চালিয়েছে দশেরার মিছিলে।Advertisement
কিন্তু পাথর ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইসা। তাদের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের আদলে রাবণের কুশপুতুল তৈরি করে রাবণ দহন আয়োজন করেছিল এবিভিপি। এই ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন উস্কানিমূলক এবং ইসলাম-বিদ্বেষের ঘৃণ্য প্রদর্শন। রাজনৈতিক স্বার্থের কথা ভেবেই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। ঘৃণার এই রাজনীতিকে জেএনইউ বরদাস্ত করবে না।’ আইসার প্রশ্ন, কেন নাথুরাম গডসের মতো ব্যক্তিত্বের আদলে রাবণের কুশপুতুল পোড়ানো হল না ? তবে গোটা বিষয়ে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রীকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে সিএএ বিরোধী আন্দোলন এবং দিল্লি হিংসায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল উমর, শারজিলদের। ওই হিংসার ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ইউএপিএ ধারায় মামলা চলছে তাঁদের বিরুদ্ধে।গত ৫ বছর ধরে তাঁরা জেলবন্দি।তাঁদের জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হয়েছে।