আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার অভিশপ্ত বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ প্রাণহানি হয়। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার তদন্তে স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। গত ১২ জুন আহমেদাবাদে ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান এআই-১৭১। সেই দুর্ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রের কাছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সেফটি ম্যাটার্স ফাউন্ডেশন’ সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশের আর্জি জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে তাদের পেশ করা আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক (এমসিএ) যে প্রাথমিক তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ‘এয়ারক্রাফট বা ইনভেস্টিগেশন অব অ্যাক্সিডেন্টস অ্যান্ড ইনসিডেন্টস রুলস, ২০১৭’-এর নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য জনসমক্ষে আনার কথা। অথচ মন্ত্রকের রিপোর্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে গিয়েছে।
Advertisement
সবচেয়ে বড় অভিযোগ, একমাত্র জীবিত যাত্রী বিশ্বাসকুমার রমেশের সাক্ষ্যপ্রমাণকে প্রাথমিক রিপোর্টে অন্তর্ভুক্তই করা হয়নি। ৪০ বছরের ওই ব্রিটিশ ব্যবসায়ী বলেন, দুর্ঘটনার আগে বিমানের ককপিটে সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
Advertisement
গত ১২ জুলাই এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) যে প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, তাতে উঠে আসে সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য। উড়ানের কয়েক সেকেন্ড পরই বিমানের দুটি ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ‘ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ’ হঠাৎ করে ‘রান’ থেকে ‘কাট-অফ’ অবস্থায় চলে যায়। তাতেই ইঞ্জিনের জোর কমে যায় এবং শেষ পর্যন্ত র্যাম এয়ার টারবাইন বা আরএটি চালু হলেও বিমানটি ভেঙে পড়ে।
তবে তদন্তকারীরা ধ্বংসস্তূপে যে প্রমাণ পেয়েছেন, তাতে দেখা গিয়েছে, বিমানের কার্যকরী সুইচগুলি ‘রান’ অবস্থাতেই ছিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে, প্রথমে কি কারও দ্বারা ইচ্ছে করে সুইচ ‘কাট-অফ’ করা হয়েছিল, পরে কি তা আবার চালু করা হয়? রিপোর্টে পাইলটদের কথোপকথনও উদ্ধৃত হয়েছে। সেখানে একজন পাইলট জিজ্ঞাসা করছেন, ‘তুমি কেন জ্বালানি বন্ধ করলে?’ অপরজন জবাব দেন, ‘না, আমি করিনি।’ তবে কে কী বলেছিলেন, তা নিশ্চিত করেনি এএআইবি।
ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস-এর সভাপতি ক্যাপ্টেন সিএস রনধাওয়া বলেন, ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ পরিবর্তন করা যায়, কেবলমাত্র মানুষের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে। এটি কোনওভাবেই দুর্ঘটনাবশত ঘটে না। তাঁর মতে, হয়তো বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল অথবা ডুয়াল ইঞ্জিন ফ্লেমআউটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
এদিকে অসামরিক বিমানমন্ত্রী গত জুলাই মাসেই সতর্ক করে বলেছিলেন, চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। তবে মন্ত্রক সূত্রে খবর, এআই-১৭১ দুর্ঘটনার তদন্ত প্রায় শেষের পথে। বছরের শেষ নাগাদ এএআইবি চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারে।
Advertisement



