• facebook
  • twitter
Wednesday, 14 January, 2026

অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী অস্ত্র বাছাইয়ে মগ্ন ভারত, হাতে আসছে মার্কিন অ্যাপাচি

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, দু’টি লড়াকু জেটের মধ্যে তুল্যমূল্য বিচার করে পছন্দের যুদ্ধবিমান বায়ুসেনাকে বেছে নিতে বলা হয়েছে। এরপর দরদাম ও চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ভারতীয় সেনাবাহিনী সামরিক শক্তি বাড়াতে আরও বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করছে কেন্দ্র। সেনাবাহিনীর শক্তি বাড়াতে কেনা হচ্ছে অত্যাধুনিক কপ্টার। তাই এবার অ্য়াপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার আসতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। ভারত আগামী ২১ জুলাই আমেরিকা থেকে অ্যাপাচি অ্যাটাক কপ্টারের প্রথম ব্যাচ হাতে পেতে চলেছে, যা ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েন করা হবে বলে সূত্রের খবর।

এর আগে ২০১৫ সালে ২২টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কিনেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। ২০২০ সালের জুলাই মাসে সেই হেলিকপ্টারগুলি ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে আসে। যখন ট্রাম্প ভারতে এসেছিলেন, তখন ৬০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল ভারতের সঙ্গে, যার অধীনে ৬টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল। ভারতীয় বায়ুসেনা ১৫ মাস আগে রাজস্থানের যোধপুরে প্রথম অ্যাপাচি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করে। পাঠানকোট ও জোরহাটে ইতিমধ্যেই দুটি স্কোয়াড্রন সক্রিয় রয়েছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত উন্নত সামরিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সফল হলেও আগামীতে এই ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যে ফের সফল হবে, তা হলপ করা বলা সম্ভব নয়। কারণ শত্রুপক্ষ তাদের সামরিক অস্ত্রের বহর বাড়াচ্ছে। আসছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধ বিমান থেকে শুরু করে আরও বেশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন। সেজন্য ভারতকে এই সব অস্ত্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র হাতে রাখতেই হবে। সম্প্রতি এমনই বার্তা দিয়েছেন ভারতের বর্তমান সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল অনিল চৌহান। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘ভবিষ্যত সুরক্ষিত রাখার জন্য আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে দেশীয়ভাবে ব্যবহার করতে হবে।’

Advertisement

তিনি বুধবার দিল্লিতে ‘ইউএভি এবং কাউন্টার-ইউএএস (সি-ইউএএস) সিস্টেম’ শীর্ষক এক প্রদর্শনীতে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘গতকালের অস্ত্র ব্যবহার করে আজকের যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়। ভারতকে যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তিধর হয়ে উঠতে গেলে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে আরও বেশি করে সাবলীল হয়ে উঠতে হবে।’

তাঁর কথায়, অস্ত্র ও যুদ্ধের রণনীতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি আধুনিক, সাশ্রয়ী ও মহুমুখী হয়ে উঠেছে। একসময় যুদ্ধ মানে বোঝাত ভারী রাইফেল, যা এখন হয়ে উঠেছে হাল্কা, দীর্ঘ পাল্লার এবং রাতেও ব্যবহারের উপযোগী। ট্যাঙ্ক, বিমান আগের চেয়ে আরও হালকা, দ্রুতগতি সম্পন্ন ও নিরাপদ হয়ে উঠেছে। একইভাবে ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিতেও আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। অর্থাৎ আজকের যুদ্ধ ‘গতকালের প্রযুক্তি’ দিয়ে লড়া যাবে না।

জানা গিয়েছে, ভারত ইতিমধ্যে পৃথিবীর শক্তিশালী যুদ্ধ বিমান বাছাই শুরু করে দিয়েছে। তালিকায় রয়েছে ৬০টি শক্তিশালী জেট। তাঁদের মধ্যে সেরা যুদ্ধ বিমানগুলি বাছাই করে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

এদিকে দ্বিমুখী জোট গড়ে ভারতকে প্যাঁচে ফেলার চক্রান্ত করছে চিন ও পাকিস্তান। সেই সাঁড়াশি আক্রমণ ঠেকাতে তৎপর ভারতের আকাশ বাহিনী। যুদ্ধের সময়ে দ্রুত শত্রুর আকাশ দখল করতে এবার পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ’ শ্রেণির অন্তত তিন স্কোয়াড্রন লড়াকু জেট বহরে সামিল করতে চাইছে বায়ুসেনা বিভাগ। এর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে চলেছে দেশের সেনাবাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বায়ুসেনা বিভাগের এক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক দাবি করেছেন, এক সঙ্গে ৬০টা যুদ্ধবিমান বায়ুসেনার বহরে সামিল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু যেহেতু ঘরের মাটিতে পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ’ শ্রেণির লড়াকু জেট তৈরি হয় না, সেজন্য ভারত এ ব্যাপারে পুরোপুরি বিদেশের উপর নির্ভরশীল। আবার আমেরিকা এবং রাশিয়ারও আগ্রহ রয়েছে ভারতকে লড়াকু জেট বিক্রি করার ব্যাপারে।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আমেরিকা ও রাশিয়ার মনোভাব প্রকাশ্যে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে মার্কিন সংস্থা লকহিড মার্টিনের তৈরি ‘এফ-৩৫ লাইটনিং টু’ ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। অন্যদিকে, মস্কো তাদের ‘এসইউ-৫৭ ফেলন’কে নয়াদিল্লির কাছে বিক্রি করতে আগ্রহী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, দু’টি লড়াকু জেটের মধ্যে তুল্যমূল্য বিচার করে পছন্দের যুদ্ধবিমান বায়ুসেনাকে বেছে নিতে বলা হয়েছে। এরপর দরদাম ও চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, ভারতের সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল অনিল চৌহান বলেন, ‘ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশ ধীর গতিতে হলেও এর ব্যবহার বিপ্লব এনেছে। ড্রোনের প্রভাব উপলব্ধি করার পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে এই প্রযুক্তি। অপারেশন সিঁদুর আমাদের স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান ও চাহিদা অনুযায়ী দেশীয় কাউন্টার-ইউএএস সিস্টেমের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমাদের আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। প্রতিরক্ষা চাহিদার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

Advertisement