• facebook
  • twitter
Sunday, 1 February, 2026

বন্যজন্তুর হামলা রুখতে ভরসা পাকিস্তানি পিট বুল

হোম স্টে-র ম্যানেজার অরুণাশিস চক্রবর্তী বলেন, 'মালঙ্গি ও টবুর প্রতি আমরা অনেকটা ভরসা করি। ওরা থাকা মানে আমাদের হোম স্টে সুরক্ষিত থাকা।'

জঙ্গল এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা দিচ্ছে পাকিস্তানি পিট বুল। পাঁচ বছরের ওই দুই কুকুর পর্যটকদের রক্ষায় সদাসতর্ক। জলদাপাড়ার জঙ্গল লাগোয়া শিসামারা নদীর ধারে গড়ে ওঠা একটি হোম স্টে-তে গেলেই দেখা মিলবে তাদের। ওই এলাকায় নিত্যদিন বন্যজন্তুদের হামলা লেগেই থাকে। তাদের হাত থেকে পর্যটকদের বাঁচানোর পাশাপাশি হোম স্টে-র নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে পাকিস্তানি পিট বুল প্রজাতির দুই কুকুর মালঙ্গি ও টবুকে।

হোম স্টে-র ম্যানেজার অরুণাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘মালঙ্গি ও টবুর উপর আমরা অনেকটা ভরসা করি। ওরা থাকা মানে আমাদের হোম স্টে সুরক্ষিত থাকা। হাতি বা চিতাবাঘ যাই আসুক, ওরা সকলকে সতর্ক করে দেয়। বুনো জন্তুদেরও ভয় দেখিয়ে দেয়। ওরা পাকিস্তানি হলেও ওদের প্রতি ভরসা আমাদের ১০০ শতাংশ।’ হোম স্টে-র আরেক ম্যানেজার প্রদীপ রায় বলেন, ‘পহেলগাম ঘটনার পরে ওদের নিয়ে আমাদের একটু অস্বস্তি হয়েছে ঠিকই। তবে আপাতত সব ঠিকঠাকই আছে। ওরা নিরপরাধ পোষ্য। ওদের আর দোষ দিয়ে কী লাভ? আমাদের এই দুই কুকুর বেশ বিশ্বস্ত ও ভরসাযোগ্য। ওরা খুব শান্ত, ভদ্র। রাতে হোম স্টে পাহারা দেওয়ার জন্য ওদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’

Advertisement

পর্যটকরাও খুবই পছন্দ করেন মালঙ্গি আর টবুকে। কলকাতা থেকে এসে এখন ওই হোম স্টে-তে উঠেছেন সঙ্গীতা গুপ্ত। তিনি কুকুরপ্রেমী। সেই কারণেই দুই পাকিস্তানি পিট বুলের সঙ্গে পরিচয় তো বটেই, বেশ বন্ধুত্বও হয়ে গিয়েছে তাঁর। সঙ্গীতার কথায়, ‘দেখুন বন্য পশু বা পাখিদের মধ্যে কোনও বিদ্বেষ হয় না। দেশ-কাল ছাড়িয়ে ওদের ভালোবাসা ও প্রেম। তাতে কোনও কৃত্রিমতা থাকে না। আমি তো ওদের আদর করে এলাম। হোক না ওরা পাকিস্তানি, তাতে আমার বয়েই গেল।’

Advertisement

Advertisement