তিন বন্ধুর তর্ক এবং প্রভুভক্ত

Written by SNS May 11, 2024 2:21 pm

নীতীশ বসু

ল থেকে ফেরার সময় তীর্থ আর বিজু দেখতে পেলো রাজেশ রজক, সঞ্জয় মিত্র আর শেখর পালকে মোডে়র মাথায় দাঁডি়য়ে ঝগড়া করতে৷ ওরা একটু দূরে দাঁডি়য়ে ওদের কথা শুনে মনে মনে ভাবছিল, তাই তো? কে তাহলে প্রভু ভক্ত? কিন্ত্ত ওরা তো তিনজনই তিনজনের প্রিয় বন্ধু তাহলে? প্রভু ভক্ত জীব নিয়ে ঝগড়া কেন, শুনি তো আসলে কে বেশি প্রভুভক্ত ?

সঞ্জয় বলল, আমার কুকুর সবচেয়ে বেশি পশুদের মধ্যে প্রভুভক্ত৷ রাজেশ বলছে আমার গাধা বেশি, সে কথা শোনার পর শেখর বলছে আমার ঘোড়া সবচেয়ে বেশি প্রভুভক্ত৷ ওদের তিনজনের মধ্যে এই নিয়ে ভীষণ তর্ক থেকে হাতাহাতির পর্যায়ে গডি়য়ে গেল৷ তীর্থ অবাক হয়ে বিজুকে বলল এখন কি হবে? ওদের এই সমস্যা কি ভাবে মিটবে? আমারও তো জানা নেই কিন্ত্ত ওদের মধ্যে মারামারি শুরু হলে কি করব? এমন সময় ওই পথ দিয়ে আমাদের গ্রামের সদানন্দ পণ্ডিত যাচ্ছিলেন, তিনি তাদের ঝগড়া শুনে দাঁডি়য়ে পডে় ওদের ডেকে বললেন, তোদের কি সমস্যা? নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি করছিস কেন? ওরা তখন ওদের সমস্যার কথা বলল৷ সব শুনে পণ্ডিতমশাই বললেন, এই ব্যাপার? এর সমাধান আমি করে দিচ্ছি৷ ওরা তিনজনই বলল, ঠিক আছে বলুন, আমরা আপনার কথা মেনে নেব কিন্ত্ত সঠিক বিচার করবেন৷

পণ্ডিত মশাই প্রথমজন যার গাধা আছে তাকে বললেন, তোর গাধা প্রভুভক্ত নয় ও বাধ্য হয়ে তোর কাপড় ইত্যাদি পিঠে করে নিয়ে এসে তোর বাডি় পৌঁছে দেয়৷ লোকে বলে না গাধার মতো আজও সংসারের ঘানি টানছিস? ওর শরীর না চললেও করতে হয়৷ তাহলে ও কি করে প্রভুভক্ত হয়? এবার শেখরকে বললেন, ঘোড়া প্রভুভক্ত হয় সে রকম প্রভু পেলে যেমন রানা প্রতাপ সিং এর ঘোড়া চৈতক তার প্রভুকে যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছিল৷ অবশ্যি এমন প্রভুও হয় না আর চৈতকের মতো ঘোড়াও দেখা যায় না৷ তবে সঞ্জয়ের কথা সত্যি৷ প্রথমত এই কুকুরকে নিয়ে ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির মহাপ্রস্থানে গিয়েছিলেন মানে দেহ রেখেছিলেন৷ এছাড়া কুকুর প্রভুকে পাহারা দেয়, ওরা গোয়েন্দার কাজ করে, ঘ্রাণে দোষীকে খঁুজে বের করে দিতে পারে এমন কি ওদের জন্য বাডি়তে চোর ডাকাত ঢুকতে পারে না৷ তাহলে সার কথা হলো সব চেয়ে প্রভুভক্ত জীব কুকুর৷ পণ্ডিতের কথা শুনে কেউ আর কোন কথা না বলে সবাই মাথা নিচু করে বসে থাকল৷ ওদের বসে থাকতে দেখে পণ্ডিত মশাই বললেন, এবার তোদের সমস্যার সমাধান হয়েছে তো? ওরা সবাই একসঙ্গে বলল, হঁ্যা৷ এরপর পণ্ডিতমশাই চলে যাচ্ছিলেন এমন সময় ওদের একজন বলল, আমরা সামান্য ভুলের জন্য কত কি করে ফেলি৷ না আর নয় এবার থেকে আমরা আর ঝগড়াঝাটি করব না৷ পন্ডিত মশাই ওর কথা শুনে খুব খুশি হয়ে বললেন, ঠিক আছে বলেই খড়ম পায়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলেন আর ওরাও খুশি হয়ে সবাই সবাইকে জডি়য়ে ধরল৷ তীর্থ আর বিজুও খুব খুশি হয়ে মনে মনে ভাবতে লাগল তাই তো পণ্ডিত মশাইয়ের কথাই ঠিক৷ তাহলে কাল স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের বলতে হবে৷ তীর্থ বলল, চল আগে বাডি় যাই৷ দেরি হচ্ছে দেখে মা ঠাম্মা চিন্তা করছে, আর এই দেরি দেখে বাবাকে যদি ফোন করে জানিয়ে দেয় তাহলে? বিজু বলল, তুই ঠিক বলেছিস চল৷ ওরাও আর দেরি না করে বাডি়র দিকে
রওনা দিল৷