পশ্চিম এশিয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তৎপর হল সৌদি আরব। লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা বাড়াতে সৌদির নেতৃত্বে বহুজাতিক সামুদ্রিক জোটের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই শুক্রবার সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আলাদা একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা আরও গুরুত্ব পেল।
গত ৩০ জুলাই সৌদি আরব ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ গড়ার উদ্যোগের কথা জানায়। মূল লক্ষ্য, বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছাড়াও তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডন, মিশর, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান এবং কোমোরোস এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে জানানো হয়েছে। জোটের প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আল-শেহরি। সদস্য দেশগুলির মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের পাশাপাশি নৌ-অভিযান পরিচালনার দায়িত্বও থাকবে তাঁর।
এই উদ্যোগের পিছনে মূল কারণ লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগ। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে ইরানের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠী বাব আল-মান্দেবে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের হুমকি দেয়। এরপর সৌদি ও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও সামনে আসে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ৪৭১টি Boeing 737 MAX বিমানে জরুরি পরিদর্শনের নির্দেশ এফএএ-র, ভারতে কটি রয়েছে জানেন?
লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বাব আল-মান্দেব প্রণালী। ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের জন্য এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জলপথে হামলা বা অবরোধ হলে জাহাজগুলিকে ঘুরপথে যেতে হয়। তাতে সময় ও পরিবহণের খরচ দুটোই বেড়ে যায়। এর মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তিন দেশ জানিয়েছে, তাদের কোনও একটি দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের উপর হামলা হিসেবেই দেখা হবে। ফলে একদিকে লোহিত সাগরে নৌ-নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ, অন্যদিকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা—দুই দিক থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা স্পষ্ট।