ভয়ঙ্কর হামলার ছক! ৯/ ১১-র অনুকরণে পরিকল্পনা, ফ্লাইদুবাই কো-পাইলটের মুখে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Image: SNS

ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) ইজরায়েলগামী বিমানে হামলার ঘটনায় কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির পরিকল্পনার তথ্য একের পর এক প্রকাশ্যে আসছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানোর একাধিক ছক কষেছিলেন ওমানের নাগরিক ওই কো-পাইলট। তাঁর পরিকল্পনা সফল হলে ৯/১১-র মতোই ভয়াবহ হামলার সাক্ষী হতে পারত গোটা বিশ্ব। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের (Smit Machchhar) জন্য তাঁর গোটা পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হেফাজতে রয়েছেন হামাম। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে বলে দাবি ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের। গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, হামাম তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন যে, ক্যাপ্টেন স্মিতকে খুন করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়াই ছিল তাঁর প্রাথমিক কাজ।

আরও পড়ুন: কেদারনাথ থেকে বর্জ্য নামাচ্ছেন পুণ্যার্থীরা, চার মাসে সাফ ১২ টন


পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ঠিক করা ছিল, তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমান (Flydubai) নিয়ে যাওয়া। সেখানে পৌঁছে কোনও বিমানের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘর্ষ ঘটানো। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলে তেল আভিভের কোনও উঁচু ভবনে বিমানটি (Flydubai)  আছড়ে ফেলার ব্লু প্রিন্টও  তৈরি রাখা ছিল। এমনকি জর্ডনে থাকা কোনও মার্কিন সেনা ঘাঁটিও ভেবে রাখা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের মতে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় আল কায়েদার হামলা থেকেই হামাম অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। সেই ঘটনার আদলে বিমানকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাপক প্রাণহানি ঘনটার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি জর্ডনের আকাশসীমার কাছে পৌঁছনোর পর হামাম তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু করেন। তার আগে পর্যন্ত তাঁর আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। জর্ডন পেরিয়ে ইজরায়েলের দিকে যাওয়ার সময় ককপিটের ভিতর ক্যাপ্টেন স্মিতকে (Smit Machchhar) আঘাত করেন তিনি। স্মিতকে (Smit Machchhar) সরিয়ে দিয়ে বিমানটিকে তেল আভিভ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যাতে প্রয়োজনীয় অবতরণের জন্য অনুমতি পেতে কোনও সমস্যা না হয়।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, দিল্লিতে বাড়ল উত্তাপ

কিন্তু তাঁর পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেন ক্যাপ্টেন স্মিত (Smit Machchhar)। রক্তাক্ত অবস্থায়ও হাল ছাড়েননি তিনি। ওই অবস্থাতেও কোনও রকমে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। সেই সুযোগে কয়েক জন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামকে ধরে ফেলে। বিমানে (Flydubai) থাকা অন্য দুই পাইলট বিমানের দায়িত্ব নিয়ে নেন। পরে যাত্রীসহ বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নিজের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়া দেখে বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন হামাম। তিনি অটোপাইলট বন্ধ করে দেন এবং দুই ইঞ্জিনিও বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। এর ফলে বিমানটি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। বিমানে (Flydubai) থাকা অন্য দুই পাইলট বিমানের দায়িত্ব না নিলে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে যেতে পারত। শেষ পর্যন্ত তাঁদের তৎপরতাতেই জরুরি অবতরণ সম্ভব হয় এবং হামামের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/NuJTfMJlJ0k?si=5by2qDDX8BU7Nxxw” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>