হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আশঙ্কায় ফের চড়ছে তেলের দাম

Image: IANS

ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরেই পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকার আরও যুদ্ধজাহাজ ও কয়েক হাজার সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে খবর। মার্কিন সেনা মোতায়েন বাড়তে থাকায় হরমুজ প্রণালী (Hormuz) ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তার প্রভাব পড়েচে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারেও।

শুক্রবার পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল পিছু ১০২-১০৬ ডলারের মধ্যে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯২-৯৪ ডলারের আশেপাশে ছিল। ভারতের মতো আমদানি নির্ভর দেশগুলির কাছে এই মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের প্রধান সূচক ব্রেন্টের পাশাপাশি ওমান ও দুবাইয়ের ক্রুডের দামও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই দামগুলির ভিত্তিতেই ‘ইন্ডিয়ান বাস্কেট’-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন:  তেল আভিভগামী বিমানে হামলায় অভিযুক্ত কো-পাইলটের পরিচয় খতিয়ে দেখতে চলছে তদন্ত


পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ পশ্চিম এশিয়ার দিকে এগোচ্ছে। নতুন সেনা মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনা ও নৌবাহিনী ২০ হাজারেরও বেশি হতে পারে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়লে হরমুজ প্রণালী (Hormuz) দিয়ে জ্বালানি পরিবহণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। আর সেই আশঙ্কাই এখন আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালীর (Hormuz) নিরাপত্তা ব্যবস্থারর অবনতি হলেই জাহাজ চলাচল ও বিমার খরচ বেড়ে যেতে পারে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?

পারস্য উপসাগরের সঙ্গে আরব সাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী (Hormuz) পশ্চিম এশিয়ার তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান জলপথ। ইরাক, কুয়েত, বাহরিন এবং কাতারের মতো দেশগুলির তেলবাহী জাহাজের জন্য এই পথ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে বিকল্প কিছু পরিবহণ ব্যবস্থা থাকলেও তা হরমুজের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়।

সৌদি আরব থেকে লোহিত সাগর হয়ে তেল পরিবহনের একটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। কিন্তু সেখানেও বাব আল-মান্দের প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক  গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একই সময়ে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থারর উপর চাপ বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: এল আল বিমান, আল কায়দার নেতাদের ছবি, ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামির লিঙ্কডইউ পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

বিকল্প পথে তেল আনলে বাড়বে সময় ও খরচ

হরমুজের (Hormuz)পাশাপাশি লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালকেও তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই পথ অনেক বেশি দীর্ঘ। আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে ভারত মহাসাগরে ঢুকতে হলে জাহাজকে অতিরিক্ত অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। ফলে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনই জ্বালানি, পরিবহন এবং বিমার খরচও বেশি লাগে।

বাজর সামলাতে জি৭-এর জরুরি পদক্ষেপ

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে শুক্রবার জরুরি পদক্ষেপ করেছে জি৭। সদস্য দেশগুলি আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার সমন্বয়ে চার মাস ধরে জরুরি ভিত্তিতে মজুত করে রাখা থেকে ১০০ মিলিয় ব্যারেল তেল ও জ্বালানি বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনের মধ্যে ডিজেল বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জি৭ জানিয়েছে, প্রয়োজনে আরও ডিজেল বাজারে ছাড়ার বিষয়েও আইইএ-র সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির মধ্যে জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছে।

দেখুন:আইকনিক চেনাব রেল ব্রিজ পেরোল বন্দে ভারত, গতি ১০০ কিমি