রসায়নে নোবেল কাগান ও সোয়াইকে, অণুর ‘ডান-বাঁ হাত’ রহস্যের সমাধান

Image: nobelprize.org/

একই অণুর দু’টি রূপ। দেখতে অবিকল এক, কিন্তু একটির সঙ্গে অন্যটিকে পুরোপুরি মেলানো অসম্ভব। অনেকটা মানুষের ডান ও বাঁ হাতের মতো। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এমন অণুর দু’টি রূপ কীভাবে তৈরি হয়, কেন একটি রূপ কখনও বেশি তৈরি হয়, রসায়নের দীর্ঘ দিনের সেই রহস্যের সমাধান করেছেন ফরাসি বিজ্ঞানী অরিঁ বরিস কাগান এবং জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই। এই আবিষ্কারের জন্যই ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার (Nobel Prize) পেলেন তাঁরা।

বুধবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস জানায়, ‘অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে অরৈখিক প্রভাব এবং স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের জন্য’ কাগান ও সোয়াইকে এই বছরের রসায়নে নোবেল (Nobel Prize) দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের গবেষণা দেখিয়েছে কীভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনও একটি ‘মিরর ইমেজ’ বা কাইরাল রূপ নিজের তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকেই আরও এগিয়ে দিতে পারে। 

আরও পড়ুন: বরফের অতলে মহাজাগতিক দূতের সন্ধান: পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন আইসকিউবের স্বপ্নদ্রষ্টা ফ্রান্সিস হ্যালজেন


বিষয়টি সহজ করে বোঝাতে নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান হাইনার লিঙ্কে মানুষের দুই হাতের উদাহরণ দিয়েছেন। ডান ও বাঁ হাত দেখতে একই রকম হলেও একটির উপর আর একটি পুরোপুরি বসানো যায় না। একইভাবে অনেক অণুরও দু’টি এমন রূপ থাকে। এগুলিকে বলা হয় ‘কাইরাল’ অণু। গ্রিক শব্দ ‘হাত’ থেকেই ‘কাইরাল’ শব্দটির উৎপত্তি।

কাগান ও সোয়াই দেখিয়েছেন, কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়ার শুরুতে যদি এই দুই রূপের মধ্যে একটির পরিমাণ সামান্য বেশি থাকে, তা হলে সেই বাড়তি অণুই পরবর্তী বিক্রিয়ায় অনুঘটকের মতো কাজ করতে পারে। ফলে একই ধরনের আরও অণু তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তৈরি হওয়া সেই অতিরিক্ত অণু আবার পরের ধাপের বিক্রিয়াকে একই দিকে ঠেলে দেয়। অনেকটা শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়ার মতো এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এর ফলে এক ধরনের ‘মিরর ইমেজ’ অন্যটির তুলনায় ক্রমশ বেশি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: শ্যাওলার প্রোটিনে লুকিয়ে মস্তিষ্কের সুইচ: মগজ-রহস্যে আলো ফেলে চিকিৎসায় নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

নোবেল কমিটির (Nobel Prize) চেয়ারম্যান হাইনার লিঙ্কের কথায়, প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানীরা এই রহস্যের সমাধান খুঁজছিলেন। কীভাবে কোনও রাসায়নিক ব্যবস্থায় বাইরে থেকে কোনও নির্দিষ্ট দিক চাপিয়ে না দিয়েও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘হোমোকাইরালিটি’ তৈরি হতে পারে, তাঁদের গবেষণা সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। ফ্রান্সের বুলোইন-বিলাঁকুরেতে জন্ম কাগানের। তিনি ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদের গবেষক। অন্য দিকে, জাপানের হিরোশিমায় জন্ম সোয়াই টোকিও ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত।

রসায়নে নোবেল (Nobel Prize) এ বছরের নোবেল পুরস্কারের তৃতীয় ঘোষণা। সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানে পুরস্কার ঘোষণার পর বুধবার রসায়নে বিজয়ীদের নাম জানানো হয়। পুরস্কার হিসেবে তাঁরা ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা ভাগ করে নেবেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে নোবেল পুরস্কার (Nobel Prize) প্রদান অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্ল গুস্তাফ তাঁদের হাতে পদক তুলে দেবেন।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/t9o69VyKXPI?si=q7sXcT6IRvtDBWIA” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>