নেপালের ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশনের বিশেষজ্ঞ সৌহার্দ্র জোশীর বক্তব্য, শুধু ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নয়, হিমবাহ এলাকায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটলে তারও আগাম খবর চেয়েছিল কাঠমান্ডু। নেপালের আধিকারিকদের অভিযোগ, জলস্তর বৃদ্ধি, হিমবাহের পরিবর্তন বা ভূমিধসের মতো ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় বিপর্যয়ের (Nepal Flash Flood) আগে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল।
নেপালের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান ধর্মরাজ উপরেতির দাবি, ২৬ আগস্ট হিমবাহ-ধস ও তার জেরে হড়পা বান নামার আগে সাধারণ মানুষ কার্যত ৫ মিনিটও সময় পাননি। তাঁর কথায়, উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে পর্যাপ্ত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নেই এবং চিন-নেপালের মধ্যে আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থাও যথেষ্ট নয়।
তবে নেপালের অভিযোগ মানতে নারাজ চিন। কাঠমান্ডুর চিনা দূতাবাসের দাবি, সীমিত প্রযুক্তিগত ক্ষমতার মধ্যেও তিব্বত সংলগ্ন এলাকায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেপালকে দেওয়া হয়। দুর্গম হিমালয় এলাকায় বিপদের উপর নজরদারি চালানো অত্যন্ত কঠিন বলেও জানিয়েছে বেজিং।
চিনের আবহাওয়া সংক্রান্ত একটি সরকারি সংস্থার তরফে বিপর্যয়ের কয়েকদিন আগেই নেপালকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা এবং তার জেরে ভূমিধস ও হড়পা বানের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। তবে নেপালের দাবি, ভবিষ্যতে শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাস যথেষ্ট নয়। হিমবাহ, জলস্তর এবং পাহাড়ি অঞ্চলের আকস্মিক পরিবর্তন সম্পর্কে আরও ঘন ঘন তথ্য প্রয়োজন। এমনকী প্রতি ১০ মিনিট অন্তর হিমবাহ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন নেপালের জলবিদেরা।
২৬ আগস্টের বিপর্যয়ের (Nepal Flash Flood) ভয়াবহতা এখন স্পষ্ট উপগ্রহচিত্র এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আগে-পরে ছবিতে। রসুয়া অঞ্চলের সরু, সবুজ উপত্যকা এখন কাদা, পাথর ও পলিমাটিতে ঢাকা। নেপাল-তিব্বতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র গিরং বন্দরও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। বন্যার স্রোতে বহু রাস্তা, সেতু, বাড়ি ও পরিকাঠামো নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।
তবে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সব ছবি বা ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একটি ভাইরাল ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়ে থাকতে পারে বলে যাচাইয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য ছবিগুলির বেশ কিছু সত্যিই বন্যাবিধ্বস্ত এলাকার (Nepal Flash Flood)বলে জানা গিয়েছে।
দেখুন:
<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/Z8NwHIiC2-o?si=MsIk-ifpGZNTaMOY” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>