ভয়াবহ বন্যায় (Nepal Flash Flood) নেপাল যখন বিপর্যস্ত তখন দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর অন্যরকম নজির তৈরি করছে দেশের স্কুল পড়ুয়ারা। রাসুয়া ও আশপাশের এলাকায় বন্যায় ঘরবাড়ি, স্কুল ও পরিবার হারানো শিশুদের কথা জানতে পেরে নিজেদের জলখাবার ও হাতখরচের টাকা থেকে অনুদান দিচ্ছে তারা।
আছামের শোদশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ইউনিক কেসির উদ্যোগে প্রথম এই সংগ্রহ শুরু হয়। প্রায় ১,৫০০ পড়ুয়ার ওই স্কুলের চাইল্ড ক্লাবের সদস্যরা ক্লাসরুমে ঘুরে ঘুরে ৫ থেকে ৫০০ নেপালি রুপি করে সংগ্রহ করেন। ২ দিনে ওঠে ১৪,২৫৫ রুপি, যা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক ধন কুমার কেসির কথায়, ‘অনুদান বড় না ছোট সেটা বড় কথা নয়, উদ্যোগটাই বড়।’
কপিলবস্তুতেও একই ছবি। মাত্র ৭ ও ৯ বছরের দুই ছাত্রী নিজেদের জলখাবারের টাকা দান করেছে। তাদের দেখাদেখি সহপাঠীরাও ৫ থেকে ১০০ রুপি করে দেয়। ওই স্কুলে সংগ্রহ হয়েছে ১০,০৫০ রুপি। রাউতাহাটের ২৬ জন পড়ুয়া দিয়েছে ৪৭০ রুপি। কাঠমান্ডুর মনমইজু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা জলখাবারের খরচ বাঁচিয়ে সংগ্রহ করেছে ৩৭,১১০ রুপি।
আরও পড়ুন: ডিএ-জট কাটাতে ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৈঠক
বন্যায় (Nepal Flash Flood) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং। বহু স্কুল কাদা ও পলিমাটিতে ঢেকে গিয়েছে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ১,২৫০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ ৪,৮০০-রও বেশি। এখনও বহু এলাকায় পৌঁছতে পারেননি উদ্ধারকারীরা।
বিপুল সরকারি ও আন্তর্জাতিক সাহায্যের পাশাপাশি পড়ুয়াদের এই সামান্য অনুদান হয়তো বিপর্যয়ের(Nepal Flash Flood) ক্ষত মুছে দিতে পারবে না। কিন্তু নিজেদের ছোট ছোট প্রয়োজন ত্যাগ করে অন্য শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ দুর্যোগের অন্ধকারে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/k4BX9a-NBVE?si=-EF8Om5PkA17CL41″ title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>