হড়পা বানের (Nepal Flash Flood) ভয়াবহ প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে নেপালের পর্যটন ব্যবসাতেও(Nepal Tourism)। বুধবারের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের (Nepal Flash Flood) পর থেকেই নতুন করে বুকিং কমেছে বলে দাবি সে দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের। শুধু নতুন বুকিং নয়, আগে থেকে করা বুকিংও বাতিল করেছেন অনেক পর্যটক। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী (Nepal Flash Flood) হলে পর্যটননির্ভর (Nepal Tourism) নেপালের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান (Nepal Flash Flood) নামে। তার আগে তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় তুষারধস হয় (Nepal Flash Flood)। বিপর্যয়ের পর (Nepal Flash Flood) নেপাল সরকার এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। ২৯০ জন ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী-সহ প্রায় দেড় হাজার মানুষের এখনও কোনও খোঁজ নেই। নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার কাজ। ভারতীয়দের অনেকেই কৈলাসে-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশে নেপালের ওই পথ ব্যবহার করছিলেন।
আরও পড়ুন: নেপালে মৃত কমপক্ষে ৪৬৯, নিখোঁজ ১৫০০, তার মধ্যে ভারতীয় রয়েছেন ২৯০
পুজোর মরসুমে নেপালে বাঙালি পর্যটকদের ভিড়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। কাঠমাণ্ডু ও পোখরার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা সার্কিটের মতো জনপ্রিয় ট্রেকিং রুট সারা বছরই ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের (Nepal Tourism) আকর্ষণ করে। কিন্তু দু’দিন আগে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতি বিপর্যয়ে পর্যটন মরসুমের (Nepal Tourism)উপর অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের (Nepal Flash Flood)কারণে পর্যটন ব্যবসায় ধাক্কা লাগা নেপালের কাছে নতুন কিছু নয়। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরেও নেপালের পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছিল। নেপালের সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত বছর জেন জি আন্দোলনের সময়ও পর্যটন ব্যবসায় ক্ষতির মুখ দেখেছিল। এর আগে ২০২৩ সালের বন্যা এবং ২০২৪ সালের অতিবৃষ্টি, ধস ও বন্যারও নেতিবাচক প্রবাব পড়েছিল নেপালে পর্যটন শিল্পে। তবে এ বারের বিপর্যয়ের অভিঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বিজয়কুমার সিংয়ের মতে, পাহাড়ের উপর অতিরিক্ত চাপও নেপালের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অরণ্য ধ্বংস, অপলিকল্পিত বাড়িঘর ও রাস্তা নির্মাণ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ এবং সুড়ঙ্গ তৈরির মতো কাজ নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাঁর কথায়, নেপালের পর্যটন মূলত পাহাড় নির্ভর। ফলে পাহাড়ি এলাকায় তৈরি হওয়া ঝুঁকির মূল্যায়ন জরুরি।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। হিমালয় দ্রুত বরফ গলে যাওয়া এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির জেরে কোশি অববাহিকার ৪২টি হিমবাহ-হ্রদকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি হ্রদ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদদের। কোশি অববাহিকার বাইরের বহু হিমবাহ-হ্রদ আবার এভারেস্ট অঞ্চলের কাছে অবস্থিত-যা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্বত-পর্যটন কেন্দ্র।
বিজয়কুমারের মতে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও তার ক্ষতি কমানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই নেপালের পক্ষে বিষয়টি উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
দুর্গম পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ভবিষ্যতে এরকম পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্যাটেলাইট ফোন এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখার উপরও জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, পর্যটন শিল্পকে স্বাভাবিক রাখতে হলে শুধু বিপর্যয়ের পর উদ্ধার নয়, আগাম সতর্কতা এবং পরিকাঠামোগত প্রস্তুতিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
দেখুন: নেপালের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ