ফ্লাইদুবাই বিমানে জঙ্গি হামলার চেষ্টা, ভারতীয় পাইলটকে কুঠার দিয়ে আঘাত কো-পাইলটের

Image: SNS

তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে ভারতীয় পাইলটকে (Captain Smit Machchhar) হামলার ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। মাঝ আকাশে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সহ-পাইলট হামাম আল হাম্মামি। তাঁর বিরুদ্ধে বিমানের ক্যাপ্টেনকে ককপিটে থাকা জরুরি কুঠার দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়ে মন্তব্য করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।

আমিরশাহির প্রসিকিউটর জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, বিমানের কো-পাইলট ক্যাপ্টেনের উপর হামলা চালিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনার পিছনে উদ্দেশ্য কী ছিল, এর সঙ্গে অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না এবং হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত শারীরিক ও ডিজিটাল প্রমাণ—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার পথে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানে এই ঘটনাটি ঘটে। তদন্ত সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আমিরশাহি।


আরও পড়ুন: তেল আভিভগামী বিমানে হামলায় অভিযুক্ত কো-পাইলটের পরিচয় খতিয়ে দেখতে চলছে তদন্ত

ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ককপিটের কুঠার দিয়ে হামলা

আমিরশাহির প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, ককপিটে থাকা জরুরি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা চালায় কো-পাইলট। ঘটনার সময় বিমানটি সৌদি আরবের আকাশসীমার উপর দিয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যেই আচমকা সেটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি ১৬ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতা নেমে আসে।

আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর কয়েক জন যাত্রী ককপিটে ঢুকে কো-পাইলটকে ধরে ফেলে। বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট পরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটিকে অবতরণ কারনো হয়।

আরও পড়ুন: এল আল বিমান, আল কায়দার নেতাদের ছবি, ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামির লিঙ্কডইউ পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

কো-পাইলটের অতীত নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে কো-পাইলটের নাম ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আমিরশাহির তরফে কো-পাইলটের পরিচয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, আল-হাম্মামি আগে ওমান এয়ারে কাজ করতেন। উগ্রপন্থী বিষয়বস্তু বা মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর তাঁকে বিমান চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রয়্যাল এয়ার মরক্কোতে তাঁ কাজ করার প্রসঙ্গ বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এরপর তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন।

এদিকে, আল-হাম্মামির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা একটি লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্টও তদন্তকারীদের নজর রয়েছে। ঘটনার পর ওই অ্যাকাউন্টে বিমান চলাচল সংক্রান্ত ফুটেজ এবং আল-কায়দার নেতাদের মধ্যে প্রয়াত নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি পোস্ট করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে হামলার পিছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, কিংবা এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা এখনও কিছু জানায়নি তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

দেখুন: আইকনিক চেনাব রেল ব্রিজ পেরোল বন্দে ভারত, গতি ১০০ কিমি