পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আর বাড়াতে চায় না চিন। ইরান ও আমেরিকাকে সরাসরি আলোচনায় ফেরার বার্তা দিল বেজিং। সেই সঙ্গে দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সব পক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে চিন। বুধবার বেজিংয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকের পর এই বার্তা দিয়েছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই।
ওয়াং স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান ও আমেরিকা দু’পক্ষকেই যুক্তিপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে হবে। সংঘাত দীর্ঘায়িত করে কোনও পক্ষেরই লাভ নেই। তাই আগের ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’য় ফিরে গিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে সরাসরি ও সারগর্ভ আলোচনা করার কথাও বলেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী।
শুধু ইরান-আমেরিকা সংঘাতেই থেমে থাকেনি বেজিংয়ের বার্তা। ওয়াং সতর্ক করেছেন, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা যাতে ইয়েমেন এবং লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে না পড়ে। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে এমন কোনও পদক্ষেপ থেকে সব পক্ষের বিরত থাকা উচিত। সমস্যার সমাধান করতে হবে আলোচনার টেবিলে। এই সংঘাতের অন্যতম বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীতে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাপক ভাবে কমে গিয়েছে।
চিন জানিয়েছে, নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত ফিরিয়ে আনতে হবে। মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ যাতায়াত করেছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল সাত। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথে চলাচল করত বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচিও চিনকে জানিয়েছেন, তেহরান আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত চালিয়ে যেতে আগ্রহী নয়। নিজেদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি কূটনৈতিক পথে ফিরতে ইরান প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালী ফের খোলার ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে তেহরানের একটি সমঝোতা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে আমেরিকাকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে চিনের। বেজিং ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চিনের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে শুধু নিজেদের স্বার্থের কথা নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ব বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে চিন।
আরও পড়ুন: বিপর্যস্ত নেপালে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া ভূমিকম্প, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৯৯
ওয়াং জানিয়েছেন, ইরানের প্রতি চিনের নীতি স্থির রয়েছে। তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও বাড়াতে চায় বেজিং। সেই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইরানকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এই বার্তার ঠিক পরেই নজর আরও বেশি করে রয়েছে চিনের দিকে। চলতি মাসের শেষ দিকে আমেরিকায় চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে আরাঘচির বেজিং সফর এবং ইরান-আমেরিকা সংঘাত নিয়ে চিনের এই কড়া অবস্থান পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিতে নতুন কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।