তেল আভিভগামী বিমানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ছুরি দিয়ে হামলা চালায় তাঁর সহ-পাইলট। সেই ওমান কো-পাইলটের বিরুদ্ধে উঠছে আল-কায়দার থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিযোগ। সিরিয়ায় থাকাকালীন উগ্রপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে আসা এবং আল-কায়দার মতাদর্শে দীক্ষিত হওয়ার সূত্রি উঠে আসছে। (Flydubai) (Tel Aviv)
৩০ সেপ্টেম্বর বিমানে হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কো-পাইলট হামাম আলহামামি আগে থেকেই উগ্রপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন কি না, তা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আল অ্যারাবিয়া ইংলিশ-এ তাঁর মতাদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
ইজরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আলহামামি আল-কায়দার মতাদর্শে দীক্ষিত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ধর্মীয় ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
এখন তাঁর পূর্ববর্তী কর্মজীবন, সিরিয়ায় থাকার সময় এবং ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর ককপিটে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনাকে পাশাপাশি রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।
সহ-পাইলটের অতীত কেটেছে সিরিয়ায়
আর অ্যারাবিয়া ইংলিশ সূত্রের দাবি, আলহামামি ওমানের বাইরে, বিশেষ করে সিরিয়ায়, দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন। সেখানে থাকার সময় তিনি উগ্রপন্থী ও চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে জন্ম আলহামামির। তাঁর বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। জীবনের বেশ কয়েকটি বছর তিনি আমিরশাহিতেই কাটিয়েছেন।
সিরিয়ায় তাঁর কাটানো সময় এখন তদন্তে উঠে এসেছে। আল অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, তাঁর মতাদর্শের জন্য এর আগে ওমানে তাঁকে বিমান চালাতে দেওয়া হয়নি।
সিএনএন এক কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময়ও তাঁর ‘র্যাডিকাল’ মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই কারণে তাঁকে প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে অন্য একটি দায়িত্বে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি।
ফক্স নিউজ-এর প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, উগ্রপন্থী ইসলামি ওয়েবসাইটে তাঁর যাতায়াতের বিষয়টি জানার পর ২০২৪ সালে ওমান এয়ার তাঁকে গ্রাউন্ডেড করেছিল। ওই সংবাদমাধ্যমের একটি সূত্রের দাবি, পরে তিনি দুবাই চলে যান এবং ফ্লাইদুবাই তাঁকে নিয়োগের আগে ওমান এয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সিএনএন-কে এক ইজরায়েলি আধিকারিক জানিয়েছেন, আলহামামি প্রায় আট মাস ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করেছিলেন। অন্য একটি সূত্রের দাবি, এর আগে তিনি রয়্যাল এয়ার মারোকেও কাজ করেছিলেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে তাঁর সম্পর্কে এই বিষয়গুলি থাকা সত্ত্বেও ফ্লাইদুবাই ককপিটে যোগ দেওয়ার আগে তা কতটা খুটিয়ে দেখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ‘আমাকে বারবার মারছিল’, ককপিটে হামলার ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ্যে
উদ্ধার হয়েছে ‘ফ্লি প্যালেস্টাইন’ লেখা সামগ্রী?
আলহামামির ব্যক্তিগত জিনিসপত্র থেকেও কিছু সামগ্রী উদ্ধারের দাবি সামনে এসেছে। i24NEWS- এর অনুযায়ী, তাঁর কাছ থেকে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা এবং অন্যান্য প্যালেস্টাইন-সমর্থক সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আলহামামি নিয়মিত প্যালেস্টাইনের পক্ষে মত প্রকাশ করতেন এবং ইজরায়েলের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন।
তবে কোনও রাজনৈতিক বা প্যালেস্টাইন-সমর্থক সামগ্রী পাওয়া মানেই সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। উগ্রপন্থার সঙ্গে তাঁর যোগ এবং হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে তদন্তকারীরা অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে এই বিষয়টিও পরীক্ষা করছেন।
তেল আভিভগামী বিমানে ঠিক কী ঘটেছিল
৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এপজেড১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল। অভিযোগ, মাঝ আকাশে ককপিটের ভিতরে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে হামলা করেন আলহামামি। এর পর বিমানটি আচমকা দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।
গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মচ্ছর হামলা প্রতিহত করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে পরে যাত্রী ও বিমানকর্মীরা মিলে কো-পাইলটকে ধরে ফেলেন। বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি বিমানচালকও পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
I24NEWS-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে আলহামামি জানিয়েছেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিমানটি ইজরায়েলে গিয়ে ক্র্যাশ করানো।
ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও তাঁর ‘অবিশ্বাস্য সাহস’-এর প্রশংসা করেছেন।
দেখুন: ‘ভারতীয়রা প্রাণ নেয় না, প্রাণ বাঁচাতে ঝুঁকি নেয়’, স্মিতকে মোদী