ঝোড়ো সেঞ্চুরির পর হালান্ডের মতো ধ্যনমগ্ন কেন অভিষেক শর্মা? নিজেই জানালেন কারণ

Image: SNS

তখন সদ্য ইতিহাস গড়েছেন অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি। ভেঙে দিয়েছেন রোহিত শর্মার ভারতীয় রেকর্ড। তার পরেই ব্যাট-গ্লাভস সরিয়ে রেখে মাঠে বসে পড়লেন ভারতীয় ওপেনার। চোখ বন্ধ, পা ভাঁজ করে একেবারে ধ্যানমগ্ন হওয়ার ভঙ্গি। মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল আর্লিং হালান্ডের  (Erling Haaland) কথা। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির নরওয়ের তারকার গোলের পর এমন ‘মেডিটেশন সেলিব্রেশন’ তো ফুটবলপ্রেমীদের পরিচিত দৃশ্য।

তা হলে কি হালান্ডকেই  (Erling Haaland) নকল করলেন অভিষেক (Abhishek Sharma) ? তিনি কিন্তু সে পথে হাঁটতে রাজি নন। বলছেন, তাঁর এই কাণ্ড হালান্ডকে নকল করে নয়। বরং গত ছ’মাস থেকে এক বছর ধরে নিজের জীবনে মেডিটেশন-এর গুরুত্ব বোঝাতেই এমন ভঙ্গি বেছে নিয়েছিলেন তিনি।

ম্যাচের পরে সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে অভিষেক (Abhishek Sharma) বলেন, ‘এটা আমি বেশ কিছু দিন ধরেই করছি। ছ’মাস থেকে এক বছর হবে। মেডিটেশনের দিকে আমি অনেকটা মন দিয়েছি। কারণ সারা বছর ক্রিকেট খেলতে গেলে একজন ক্রিকেটারের জীবনে অনেক ওঠাপড়া আসে’।


আরও পড়ুন: বৃষ্টির পর এ বার টাইফুনের আশঙ্কা! এশিয়ান গেমস শুরুর আগেই নাগোয়ায় আবহাওয়ার চোখরাঙানি

সেই ওঠাপড়ার মধ্যে মাথা ঠান্ডা রাখা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছেন অভিষেক (Abhishek Sharma)। তাঁর কথায়, ‘এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে নিজের মনকে স্থির রাখবেন? আমার মনে হয় ধ্যান আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। তাই আমি চেয়েছিলাম, কেউ এটা দেখলে বা কোনও ক্রিকেটার যদি মনে করেন যে এটা আমার গত ছ’মাস থেকে আট মাসে সত্যিই কাজে দিয়েছে, তা হলে তিনিও এটা চেষ্টা করতে পারেন’।

তাই শতরানের পরে এই বিশেষ উদ্‌যাপন। অভিষেকের (Abhishek Sharma) ব্যাখ্যায়, ‘এই কারণেই ওই নির্দিষ্ট উদ্‌যাপন করেছি। এটা এমন একটা জিনিস, যা আমাকে মানসিক ভাবে স্থির রাখে’।

অর্থাৎ, বাইরে থেকে হালান্ডের মতো দেখালেও অভিষেকের কাছে এই উদ্‌যাপনের অর্থ একেবারেই আলাদা। মাঠে নামার আগে এবং ম্যাচের চাপ সামলাতে মেডিটেশনকে নিজের রুটিনের অংশ করে নিয়েছেন তিনি। আর দিল্লিতে তাঁর সেই শান্ত ভঙ্গির ঠিক আগেই দেখা যায় তাঁর ঝোড়ো ইনিংস।

আরও পড়ুন: এশিয়াডে মাঝরাতে তুমুল হইচই, জিমন্যাস্ট প্রণতিকে পুরুষ কোচের সঙ্গে একই ঘর! রাত ২টো পর্যন্ত ভোগান্তি

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৩০ বলে শতরান করেন অভিষেক (Abhishek Sharma)। ৩৪ বলে ১০৮ রানের ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা ও ন’টি চার। ৩০ বলে শতরান করে রোহিতের ৩৫ বলের ভারতীয় রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি টেস্ট খেলিয়ে দেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি শতরানের নজিরও গড়েন তিনি।

আরও একটি নজির গড়েছেন অভিষেক (Abhishek Sharma)। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসাবে ৪০ বলের কমে দু’টি শতরান করেছেন তিনি। ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৭ বলে শতরান করেছিলেন ভারতীয় ওপেনার।

ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পরে মাঠেই বসে ধ্যান। দ্রুততম শতরানের সেই উদ্‌যাপন তাই শুধু কোনও ফুটবল তারকার ভঙ্গি নকল করার গল্প নয়—অভিষেকের ক্রমাগত ওঠাপড়ার মধ্যে নিজেকে স্থির রাখার বার্তা।

দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/786WUxabj-w?si=zw_UMRkWiDLCw1U7″ title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>