চরম অব্যবস্থা ও হয়রানির মধ্যে দিয়ে মঙ্গলবার থেকে শুরু হল ৪৬তম সাব-জুনিয়র জাতীয় ভলিবল প্রতিযোগিতা। পশ্চিমবঙ্গ ভলিবল সংস্থার পরিচালনায় ও পোলবা স্পোর্টস অ্যাকাডেমির ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিযোগিতা ঘিরে খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা দিয়েছে। ব্যান্ডেল থেকে প্রায় তিরিশ কিলোমিটার দূরত্বে বিভিন্ন রাজ্যের খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য কোনও স্কুলঘর পাওয়া যায়নি। তাই পাশ্ববর্তী বিভিন্ন ক্লাবঘরে খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে খেলোয়াড়দের থাকার জায়গা নিয়ে তাদের ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটে।
অনেকেই বলেছেন, এইভাবে রাত অতিবাহিত করে ভালো খেলা সম্ভব নয়। সেখানে সেই অর্থে ভালো হোটেল নেই। প্রয়োজনে তারা বেশি অর্থ দিয়ে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতে পারতেন। কিন্তু তা সম্ভব নয় বলে জানান ভিনরাজ্যের কর্মকর্তা ও আম্পায়াররা। রাজ্য ভলিবল সংস্থার সচিবের কাছে তাঁরা প্রতিবাদ জানালে, তিনি লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে কোনও স্কুল পাওয়া যায়নি। তাই অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে। কলকাতা শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, তাই উচ্চমানের হোটেলের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। আশা করব, প্রত্যেকের সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন। এই প্রতিযোগিতা চলবে ১ মার্চ পর্যন্ত।
Advertisement
এদিকে জানা গিয়েছে, এই প্রতিযোগিতা আয়োজনে সচিব রথীন রায় চৌধুরি কার্যকরী সমিতির কোনওরকম পারমিশন নেননি। তবে তড়িঘড়ি করে তিনি সেক্রেটারিয়েট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা সেরে এই প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেন। বর্তমান রাজ্য ভলিবল সংস্থার সভাপতি মন্ত্রী ববি হাকিম জানেন কিনা, এই বিষয়ে স্পষ্ট কথা জানা যায়নি। শোনা গেছে খেলোয়াড়রা ভদ্রেশ্বর থেকে বাসে বা ট্রেকারে করে যাতায়াত করছেন। সবমিলিয়ে চরম অব্যবস্থার মধ্যে ৫৪টি ছেলেমেয়েদের দল অংশ নিচ্ছে। প্রায় ৭০০ জন প্রতিনিধি এই প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করার জন্য হাজির হয়েছেন। অনেকের অভিমত, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন কেন এই প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হল। প্রয়োজনে কিছুদিনের জন্য প্রতিযোগিতা পিছিয়ে দেওয়া যেত। তাতে বাংলার সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকত।
Advertisement
Advertisement



