তাদেরই তৈরি ঘূর্ণি পিচে সার্ভিসেসকে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল বাংলা। রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) এলিট গ্রুপ ‘সি’-র ম্যাচে তৃতীয় দিনেই এল দুর্দান্ত জয়। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে সার্ভিসেসকে ৬০ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে (Ranji Trophy) টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল অনুষ্টুপ মজুমদারের দল। আর বাংলার এই জয়ের নেপথ্যের কারিগর অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদ ও প্রদীপ্ত প্রামাণিক।
এ দিন ম্যাচের শুরু থেকেই পিচ স্পিনারদের জন্য স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছিল। এতটাই যে, গোটা ম্যাচের ৪০টি উইকেটের মধ্যে ৩৯টিই নিলেন স্পিনাররা। পেসারদের ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র ১টি উইকেট। আর এই ঘূর্ণির ফায়দা পুরোপুরি তুলল বাংলার স্পিন আক্রমণ।
প্রথম ইনিংসে অভিমন্যু ঈশ্বরণের লড়াকু ৫৬ রানের ওপর ভর করে বাংলা তোলে ১৮৪ রান। জবাবে শাহবাজ আহমেদ (৪/৩৫) এবং আমির গনির (৪/৩১) স্পিন জুটির সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সার্ভিসেসের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১২২ রানেই শেষ হয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস।
৬২ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বাংলাও। রাহুল সিংয়ের (৫/৪৩) স্পিন বিষে কুপোকাত হয়ে ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস। সার্ভিসেসের সামনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ২০৯ রান।
আরও পড়ুন: ‘জেলার ২’ দেখার জন্য গোটা সিনেমা হলই ভাড়া নিলেন ‘রজনী’-র অন্ধ ভক্ত সঞ্জু
২০৯ রান তাড়া করতে নেমে লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন সার্ভিসেসের নীতিন তানওয়ার (৪৯)। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলার স্পিন আক্রমণের দাপট বজায় ছিল। প্রদীপ্ত প্রামাণিকের ৪ উইকেট এবং শাহবাজের ৩ উইকেটের মেলবন্ধনে শেষ দিনে ১৪৮ রানেই শেষ হয়ে যায় সার্ভিসেসের প্রতিরোধ।
চলতি ম্যাচে মহম্মদ শামিকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তাঁর জায়গায় দলে এসেছিলেন ভাই মহম্মদ কাইফ। তবে পেসারদের জন্য উইকেটে বিশেষ সাহায্য না থাকলেও, দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক অবশ্যই শাহবাজ আহমেদ। এই জয়ের ফলে রঞ্জি ট্রফির নক-আউটের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল বাংলা।
খেলা শুরুর আগে বোলিং করতে দেখা গিয়েছিল মহম্মদ শামিকে। কিন্তু কেন তিনি খেলেননি, ম্যাচ জয়ের পর সাংবাদিক বৈঠকে তার ব্যাখ্যা দিয়ে ভারতীয় পেসার বলেন, ‘এই পিচে দু’ থেকে চার ওভার বল করার কোনও মানে হয় না। তার চেয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের এবং দলের যে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তাদের সুযোগ দেওয়া ভাল। আমরা যত বেশি খেলব, ততই অভিজ্ঞতা বাড়বে।’
আরও পড়ুন: ৩০ দিনের নির্বাসন রোনাল্ডোর! জরিমানা ২৫৫ ইউরো, কোচের সঙ্গে বিবাদের জেরেই শাস্তি
নিজের ফিটনেস এবং ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়েও মুখ খোলেন শামি। বলেন, ‘২০২৭ বিশ্বকাপ এখনও এক বছর দূরে। আমি এত দূরের কথা ভাবি না। কারণ, কোনও মানুষের জীবনে কী ঘটবে, তা কেউ জানে না। আজ আমরা ক্রিকেট খেলছি, কিন্তু আগামী কাল কার কী হতে পারে, বা কে কোন পরিস্থিতিতে পড়বে, তা তো আমরা জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এত দূরের কথা ভেবে লাভ নেই। যে ম্যাচই পাও, খেলে যাও এবং নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করো। আমি সব সময় বলি, নিজের দক্ষতা এবং ফিটনেসের উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত।’
একটানা দীর্ঘ সময় বোলিং করা এবং নিজের ফিটনেস নিয়ে ভারতীয় পেসার বলেন, ‘বোলিংয়ের কথা বলতে গেলে, আজ আমি দেড় ঘণ্টা বোলিং করেছি। আমার ফিটনেস নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলা: প্রথম ইনিংস ১৮৪, দ্বিতীয় ইনিংস ১৪৬।
সার্ভিসেস: প্রথম ইনিংস ১২২, দ্বিতীয় ইনিংস ১৪৮ (নীতিন তানওয়ার ৪৯; প্রদীপ্ত প্রামাণিক ৪/৪৮, শাহবাজ আহমেদ ৩/৪৪)।
ফল: সার্ভিসেসকে ৬০ রানে হারাল বাংলা।
দেখুন: বিহারের কাটিহারে আরশোলা দিয়ে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ, দেখতে ভিড় দর্শনার্থীদের