বয়স মাত্র ১৮। অথচ এর মধ্যেই বিশ্বমঞ্চে পদক জিতেছেন। এশীয় স্তরেও সাফল্য এসেছে। ১৫ বছর বয়সেই ভারতের কনিষ্ঠতম শুটার হিসাবে অলিম্পিক্সের কোটা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু প্যারিস অলিম্পিকে শেষ পর্যন্ত জায়গা হয়নি। সেই আক্ষেপ এখন অতীত। সামনে নতুন লক্ষ্য—এশিয়ান গেমস। আর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় দেশকে গর্বিত করাই লক্ষ্য তিলোত্তমা সেনের ( Tilottama Sen)।
১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০তম এশিয়ান গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের পাশাপাশি ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশন্সেও নামবেন তিলোত্তমা। প্রস্তুতি চলছে নিজের মতো করে। লক্ষ্য একটাই—চাপ না নিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানো।
তিলোত্তমার ( Tilottama Sen) উত্থান যে কত দ্রুত, তাঁর পদকের তালিকাই তার প্রমাণ। ২০২২-এ মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। একই প্রতিযোগিতায় দলগত বিভাগে সোনা। সেই বছরই দেগুর এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপে একাধিক সোনা জেতেন।
২০২৩-এ আরও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেন তিলোত্তমা( Tilottama Sen)। কায়রোয় বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের কনিষ্ঠতম বিশ্বকাপ পদকজয়ী হন তিনি। সেই বছরই চ্যাংওয়নের এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো। সেই পদকের হাত ধরেই ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের জন্য ভারতের একটি কোটা নিশ্চিত হয়েছিল। একই প্রতিযোগিতায় দলগত ব্রোঞ্জও জেতেন।
জাতীয় গেমসেও তিলোত্তমার ( Tilottama Sen) সাফল্য নজর কেড়েছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রুপো জেতেন। যোগ্যতা পর্বে ৬৩৩.৬ পয়েন্ট করে জাতীয় রেকর্ডও গড়েছিলেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর বহুমুখী প্রতিভার আর একটি প্রমাণ মিলেছিল খেলো ইন্ডিয়া ইয়ুথ গেমসে। প্রথম বার ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশন্সে নেমেই রুপো জিতেছিলেন।
আরও পড়ুন: এশিয়াডে পাঁচতারা হোটেলে থাকা হবে না ভারতীয় ক্রিকেটনাদের, জানিয়ে দিল বোর্ডই
এর পর সেই ইভেন্টকেই নিজের অন্যতম অস্ত্র করে নিয়েছেন তিলোত্তমা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভোপালে জাতীয় শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশনসে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। স্কোর ৪৬৬.৯। শুধু তাই নয়, পর পর দু’বার এই ইভেন্টের জাতীয় সিলেকশন ট্রায়ালও জিতেছেন।
তবে তিলোত্তমার ( Tilottama Sen) কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ অবশ্যই প্যারিস। ১৫ বছর বয়সে অলিম্পিকের কোটা পেলেও ট্রায়ালের পরে মূল দলে জায়গা হয়নি। কঠিন সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিলোত্তমা ( Tilottama Sen) বলেন, ‘খুব হতাশ হয়েছিলাম। বিষয়টা মেনে নিতে আমার সময় লেগেছিল। কিন্তু আমি কখনও হাল ছাড়িনি। একজন অ্যাথলিটের যাত্রায় ধাক্কা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ।’
প্যারিসের সেই ব্যর্থতাই তাঁকে আরও শক্তিশালী করে। নিজের কাজে আরও বেশি মন দিতে শুরু করেন। প্রশিক্ষণে আরও জোর দেন। পাশাপাশি ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশনসেও মনোনিবেশ করেন। অলিম্পিকে জায়গা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা বদলে দিয়েছে তাঁর মানসিকতাও। তিলোত্তমার কথায়, ‘যখন গেমসে জায়গা পেলাম না, তখন শুটিংকেই আবার আনন্দের মনে হতে শুরু করে।’
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিও তাই খুব সহজ রেখেছেন তিনি। বাড়তি চাপ নিতে চান না। তিলোত্তমা ( Tilottama Sen)বলেছেন, ‘ধারাবাহিক থাকাই লক্ষ্য। জাপানে নিজের সেরা অবস্থায় থাকতে চাই। অনুশীলন ভালই চলছে। গেমস নিয়ে কোনও বাড়তি চাপ নেই।’
চাপ সামলানোর জন্য মানসিক প্রস্তুতিতেও জোর দিচ্ছেন এই তরুণ শুটার। তাঁর ( Tilottama Sen) মন্ত্র, ‘নিজের সঙ্গে কথা বলা, গান শোনা, নিজেকে অনুপ্রাণিত করা। আর এক বার একটাই শটের দিকে মন দেওয়া। এগুলোই এখন আমার কাজ।’
আরও পড়ুন: ইউএস ওপেন: দুই সেট পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন তিয়াফোর, শেষ চারে সাবালেঙ্কাও
তিলোত্তমার ( Tilottama Sen) এই মানসিক দৃঢ়তার পিছনে পরিবারের বড় ভূমিকা। শুটিংয়ে আসার আগে ভলিবল এবং কারাটেতেও ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাবার উৎসাহেই শুটিংকে বেছে নেন। তিলোত্তমা বলেছেন, ‘বাবা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। পরিবার সব সময় আমার পাশে থেকেছে। আমার কোচও টেকনিক্যাল দিক থেকে আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন।’
তাঁর ( Tilottama Sen) কেরিয়ারের আরও দু’টি ঘটনা চাপ সামলানোর ক্ষমতা তৈরি করে। কায়রোয় প্রথম বিশ্বকাপ পদক জেতার পথে অস্ত্রে সমস্যা হয়েছিল। তবুও লড়াই থামাননি। আর ১৫ বছর বয়সে অলিম্পিকের কোটা অর্জন করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
এ বার আইচি-নাগোয়ায় যাচ্ছেন আরও পরিণত তিলোত্তমা ( Tilottama Sen)। প্যারিসে জায়গা না পাওয়ার যন্ত্রণা এখনও কষ্ট দেয় তাঁকে। কিন্তু সেই ব্যর্থতা তাঁকে দমাতে পারেনি। নতুন ইভেন্টে সাফল্য, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং বড় প্রতিযোগিতার জন্য সহজ মানসিক প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে নতুন তিলোত্তমাকে( Tilottama Sen) দেখা যাবে এশিয়ান গেমসে। লক্ষ্য স্পষ্ট। প্রক্রিয়াও সহজ—এক বার একটাই শট। আর শেষ পর্যন্ত কী চান তিলোত্তমা? তাঁর উত্তরও সোজাসাপ্টা— ‘দেশকে গর্বিত করতে চাই।’
দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/YZXuUfHoK5Q?si=O_vawplr6yUwxY4F” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>