• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

মাত্র ৪৯ বছর বয়সেই প্রয়াত ভারতীয় তারকা শুটার জসপাল রানা

জসপাল রানা এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—প্রথমটি একজন অসাধারণ প্রতিযোগী শুটার হিসেবে, দ্বিতীয়টি একজন সফল কোচ ও মেন্টর হিসেবে

ভারতীয় ক্রীড়াজগতের জন্য এক গভীর শোকের দিন। দেশের অন্যতম সেরা শুটার, কোচ এবং অলিম্পিক পদকজয়ী শুটার জসপাল রানার মৃত্যু হল মাত্র ৪৯ বছর বয়সে। তাঁর প্রয়াণে শুধু ভারতীয় শুটিং নয়, গোটা দেশের ক্রীড়া মহল এক কিংবদন্তিকে হারাল।

জসপাল রানা এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—প্রথমটি একজন অসাধারণ প্রতিযোগী শুটার হিসেবে, দ্বিতীয়টি একজন সফল কোচ ও মেন্টর হিসেবে। এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে একাধিক সোনা জিতে তিনি ভারতীয় শুটিংকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পরে কোচ হিসেবে নতুন প্রজন্মের শুটারদের গড়ে তুলতেও অগ্রণী ভূমিকা নেন।

সাম্প্রতিক সময়ে জসপাল রানার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল অলিম্পিক পদকজয়ী শুটার মনু ভাকের-এর কোচ হিসেবে। প্যারিস অলিম্পিকে মনুর ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে রানার কৌশলগত পরিকল্পনা ও মানসিক প্রস্তুতির অবদান ছিল অপরিসীম। অনেকের মতে, ভারতীয় শুটিংয়ে নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল তাঁর হাত ধরেই।

ভারতে শুটিং আজ যে অন্যতম সফল অলিম্পিক ডিসিপ্লিন, তার ভিত্তি নির্মাণে জসপাল রানার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু পদক জেতেননি, একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন। তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করা, তাঁদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে মানসিকভাবে শক্ত করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী অভিনব বিন্দ্রা-সহ অসংখ্য ক্রীড়াবিদ ও প্রশাসক শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁরা সকলেই বলেছেন জসপাল রানা ভারতীয় শুটিংয়ের অন্যতম স্থপতি ছিলেন।

জসপাল রানার মৃত্যু শুধুমাত্র একজন প্রাক্তন চ্যাম্পিয়নের প্রয়াণ নয়, এটি ভারতীয় শুটিংয়ের এক যুগের সমাপ্তি। ১৯৯০-এর দশকে তিনি যেমন ভারতকে পদক এনে দিয়েছিলেন, তেমনই ২০২০-র দশকে কোচ হিসেবে নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলেন। একজন অ্যাথলিট থেকে মেন্টর—এই বিরল রূপান্তরের জন্যই তিনি ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতি দীর্ঘদিন অনুভূত হবে, তবে তাঁর তৈরি করা শিষ্যরাই ভবিষ্যতে তাঁর উত্তরাধিকার বহন করবেন।