একে আইএফএ শিল্ড ফাইনাল, তার ওপর ডার্বি— আজ সন্ধ্যায় যুবভারতীতে ফের ফুটবল-যুদ্ধের রণহুঙ্কার

Photo: Representational Image

‘আজ ডার্বি, আজ তোরা হারবি’—পাড়ায় পাড়ায় এই স্লোগান নিয়ে আজ তুলকালাম। ভারতীয় ফুটবলে এমন চিরপ্রতিদ্বন্দিতা আর কোথাও আছে নাকি? লাল-হলুদ আর সবুজ-মেরুনে রেষারেষি, এ একমাত্র এ দেশেই পাবেন।

ভুল হল, দেশের বাইরেও পাবেন। বাঙালি কোথায় নেই বলতে পারেন? কোপিয়াপো, কোরুম্বা, কামচটকা থেকে হনুলুলু— বিশ্বের সর্বত্রই বাঙালির বাস। আর বাঙালি থাকা মানেই মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল রেষারেষিও থাকবে। বাংলার ঘরে কেউ জন্মানোর সময়ই তো ঠিক হয়ে যায় যে, সদ্যোজাত মোহনবাগান, না ইস্টবেঙ্গল।

তার বাপ-ঠাকুরদারাই তো ঠিক করে দেন, এ ছেলে বা এ মেয়ে একটু বড় হয়ে কার জন্য গলা ফাটাবে। কেউ কেউ অবশ্য বিদ্রোহীও হয়ে ওঠে। মানে বাঙাল ঘরে মোহনবাগান-ভক্ত অথবা ঘটি পরিবারে ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। কিন্তু তাকে সারা জীবন কী যাতনা সহ্য করে যে, এই ভক্তির বোঝা বয়ে নিয়ে যেতে হয়, তা সেই বিদ্রোহীরাই জানে।


আর ডার্বির দিন? সে তো এক লঙ্কাকাণ্ড! এখন তো আবার শুধু সামনাসামনি হয় না। সমাজ মাধ্যম বলেও একটা যুদ্ধের জায়গা হয়েছে। সেখানে মাঝে মাঝে আবার শালীনতাও ছাড়িয়ে যান দু’পক্ষের সমর্থকেরা। মা-মাসি, বাবা-পিশিদের নিয়েও টানাটানি শুরু হয়ে যায়।

এ বড়ই বেদনাদায়ক। ডার্বি হলেও খেলাটা তো খেলাই। তাকে নিয়ে উন্মাদনার মধ্যেও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব তো থাকা উচিতই। কিন্তু কে আর বোঝাতে যাবে সেসব? সমাজমাধ্যমে একে অপরকে আক্রমণ বা ট্রোল করা তো এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

এ হেন পরিবেশের মধ্যেই আজ মরসুমের চতুর্থ ডার্বি। জাতীয় স্তরের ক্লাব মরসুমে এ তৃতীয় দ্বৈরথ। মানে দুই ডাগ আউটে স্প্যানিশ চাণক্য আন্তোনিও লোপেজ হাবাস এবং গ্রিক গুরু প্যানাগিওতিস দিমপেরিস থাকাকালীন এ দুই চিরশত্রুর তৃতীয় লড়াই। আগের দু’বার হয়েছিল ডুরান্ড কাপে। ডার্বি দিয়েই শুরু হয়েছিল ডুরান্ড, আবার ডার্বি দিয়েই শেষ।

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>History runs deep. Rivalry runs deeper 🔥 The Kolkata Derby is back, and this time, the #IFAShield is on the line 🏆 Mohun Bagan’s Chhangte &amp;amp; Lee Erwin face East Bengal’s Mohammed B. Rashid &amp;amp; Lalhlansanga in the Kolkata Derby. #EastBengalFC #MohunBagan https://t.co/5w2hUUdgNa</p>&mdash; FanCode (@FanCode) <a href=”https://x.com/FanCode/status/2107760718716223981?ref_src=twsrc%5Etfw”>October 7, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

প্রথমবার জিতেছিলেন দিমপেরিস। সেই ডার্বিতে হাবাসের প্রথম পরাজয়। পরের বার জিতে ডুরান্ডও জিতে নিয়েছিলেন হাবাস। ৪-১-এ কার্যত মাথা নত করে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের। তার পরে এই আজকের আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ফের মুখোমুখি দুই ইউরোরীয় কোচের দল।

যে ওজনের বোঝা নিয়ে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)  লক্ষ্মীবারে ডার্বি খেলতে নামবে, মোহনবাগানের লাগেজ-ব্যাগেজের ওজন কিন্তু ততটা নয়। হাবাসকে মাথায় রাখতে হচ্ছে আগামী সপ্তাহেই তাঁর দলকে ফের এই যুবভারতীতে নামতে হবে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বের কঠিন ম্যাচে। তার পরের সপ্তাহে আবার আইএসএলের প্রথম ম্যাচ।

আরও পড়ুন: আইএসএল দেখতে আর খরচ নয়! ইউটিউবে বিনামূল্যে ১৬৩ ম্যাচ, ফিরছে সোনিও

মোহনবাগানের (Mohan Bagan) সামনেও যে ম্যাচ নেই, তা নয়। শনিবার থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে এ বারের আইএসএল এবং তাদের ম্যাচ সোমবারেই, নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। কিন্তু ধারে ভারে আইএসএলের প্রথম ম্যাচ চেনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আর এএফসি-র ম্যাচ অচেনা ও কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে—দুটোর মধ্যে অনেকটাই ফারাক। এএফসি ম্যাচে পুরো দল সুস্থ অবস্থায় নামাতেই হবে হাবাসকে। তাই তাঁর মাথায় চিন্তা একটু বেশিই। মোহনবাগানকে (Mohan Bagan) হারিয়ে ডুরান্ডের পর শিল্ড জয়ের চ্যালেঞ্জের চেয়েও ফুটবলারদের এএফসি-র ম্যাচের জন্য পুরো সুস্থ রাখাটা আরো বড় চ্যালেঞ্জের।

তাই নিখুঁত হিসেব কষে দল নামাতে হবে তাঁকে। যাতে সাপও মরে আবার লাঠিও না ভাঙে। তার ওপর আছে সদ্য জাতীয় দলের হয়ে দশ দিনে তিন-তিনটি কঠিন ম্যাচ খেলে আসা তাঁর দলের ফুটবলাররা। অনেকেই হয়তো ভারতের পুরো ম্যাচে খেলেননি। কিন্তু যে প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন তাঁরা, তাঁদের নিজেদের নিংড়ে দিতে হয়েছে। সেই ধকলের পর এই ধকল নেওয়া তাঁদের পক্ষে সোজা হবে না।

দিমপেরিসের ক্ষেত্রেও একই চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে আছে। তাঁর দলের এবার বেশি খেলোয়াড় (৬ জন) জাতীয় শিবিরে ছিলেন। তিনজন খেলেছেনও নিয়মিত। যেমন আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর সিং ও অভিষেক সিং ডার্বির আগে দলের সঙ্গে শেষ অনুশীলনেই নামতে পারেননি। গত পরশুর উরুগুয়ে ম্যাচের পর গতকাল তাদের রিকভারির সুযোগ দিতেই হয়। মেহতাব সিং ভারতের জার্সি গায়ে বেশি সময় মাঠে থাকার সুযোগ পাননি। তাই তাঁকে পেতে পারে মোহনবাগান। কিন্তু বাকিদের পুরো ম্যাচে পাওয়া যাবে কি না, সেটাই দেখার।

অন্যদিকে হাবাস শিবিরে প্রভসুখন গিলকে নিয়ে চিন্তা নেই। তিনি খেলতে পারেন। কিন্তু ফুর্বা লাচেনপাকে বসিয়ে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা ঠিক করতে হবে কোচকে। জিকসন, জয় গুপ্তারাও খেলার মতো অবস্থায় থাকবেন। কিন্তু ডেভিড লালনসাঙ্গা ও এডমন্ড লালরিন্ডিকার মধ্যে কাকে নামাতে পারে ইস্টবেঙ্গল সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন: বাংলার রঞ্জি দলে ফিরলেন অভিযুক্ত অভিষেক, কাইফ, দলে মহম্মদ শামিও, অধিনায়ক অভিমন্যু

বিদেশিদের মধ্যে মহম্মদ রশিদ, ড্যানি রামিরেজকে হয়তো শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে। তবে আকে লোবা, লুকাস জেলিনোস্কিদের হয়তো রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে নামতে হবে। দিমপেরিসের আবার অন্য চিন্তা। ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিন ব্যাকে খেলার ঝুঁকি নেবেন বলে মনে হয় না। শুভাশিস বসু, আলবার্তো ও অ্যালেক্স সাজির সঙ্গে তাই রাহুল ভেকে, না মেহতাব সিংকে রাখবেন, সেটাই দেখার।

আপুইয়া, অনিরুদ্ধরা শুরু থেকেই মাঠে নামতে পারবেন কি না, এটাও একটা বড় প্রশ্ন। দুদিন আগেই একটা তীব্র আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছেন তাঁরা। মনবীর সম্পর্কেও একই কথা বলা যায়। তাই হয়তো এঁদের ছাড়াই প্রথম এগারো নামাতে হবে দিমপেরিসকে। তবে মাঝমাঠে সামির জেলকোভিচ ও দীপক টাংরিদের নামানো নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। যেমন সমস্যা নেই দুই উইঙ্গার দেজান দ্রাজিচ ও লালিয়ানজুয়ালা ছাংতেকে নিয়েও। মিগেল ফিগেরা, লি আরউইন এবং জেমি ম্যাকলারেনের মধ্য প্রথম দুজনের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, ম্যাকলারেনের রিহ্যাব এখনও চলছে।

গোল করা নিয়ে চিন্তায় রয়েছে মোহনবাগান শিবির (Mohan Bagan)। কারণ, শেষ দুই ম্যাচে মাত্র একটি গোল করতে পেরেছে তারা। প্রচুর লক্ষ্যভ্রষ্ট শট ও হেড থাকলেও গোলের দরজা খুলতে পারছেন না বাগান-তারকারা। মনবীর, ছাঙতে একসঙ্গে নামলে হয়তো সেই খরা কাটতে পারে।মোট কথা আজ সন্ধ্যায় শিল্ড ফাইনাল তথা কলকাতা ডার্বি (Kolkata Derby in IFA Shield) নিয়ে ধুন্দুমার কাণ্ড ঘটতে চলেছে যুবভারতীতে। বাংলা তো দ্বিখণ্ডিত হবেই, কিন্তু কোন খণ্ডের মুখে হাসি আর কার চোখে কান্না দেখা যাবে, সে তো আর কেউই জানে না। এর উত্তর সময়ের ওপরেই ছেড়ে দিতে হবে। ম্যাচ শুরু ৬.১৫ থেকে। যারা মাঠে যেতে পারবেন না, তাদের জন্য সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে ‘ফ্যানকোড’।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=EteQTOsjxUF_pEPE” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>