পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে (Imran Khan) ঘিরে নতুন করে তীব্র জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আদৌ জীবিত কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনীতিতে। এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবি, কারাগারে থাকা ইমরান (Imran Khan) আর বেঁচে নেই। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। কিন্তু ইমরানের (Imran Khan) সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর পরিবার ও দলের নেতাদের সাক্ষাতে বিধিনিষেধ থাকায় সেই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান জুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। ইমরানের (Imran Khan) দল পিটিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ দূর করার জন্য অবিলম্বে পরিবার এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে। দলের তরফে সতর্কবার্তা, প্রয়োজন হলে ব্যাপক আন্দোলনে নামা হবে। এমনকী, দাবি করা হয়েছে, ইমরানের মুক্তি এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করার অধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনে কয়েক লক্ষ, এমনকী ২০ লক্ষ মানুষও রাস্তায় নামতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সইদ খানের দাবি ঘিরেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত তিনটি আলাদা সূত্র থেকে তিনি এমন তথ্য পেয়েছেন যে, ইমরান খান (Imran Khan) আর বেঁচে নেই। তবে সেই সূত্রগুলির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং তাঁর দাবির সত্যতা যাচাইও করা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইমরানের (Imran Khan) মৃত্যু সম্পর্কে পাকিস্তান সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষের তরফেও তাঁর মৃত্যুর কোনও নিশ্চিত খবর প্রকাশ করা হয়নি। ফলে একে আপাতত দাবি হিসাবেই দেখা হচ্ছে। কিন্তু ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের উপর বিধিনিষেধ থাকায় গুজব থামার বদলে আরও ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: দশ বছর প্রেমের পর বিয়ে, পর্তুগালে জর্জিনার সঙ্গে নতুন ইনিংস শুরু রোনাল্ডোর
পিটিআইয়ের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে ইমরানের (Imran Khan) পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের তাঁর সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়েও দলের তরফে বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইমরানকে (Imran Khan) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে রাখা হয়েছে।
ইমরান খান (Imran Khan) প্রায় তিন বছর ধরে জেলে রয়েছেন। তাঁর দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, তাঁকে দীর্ঘ সময় একা বন্দি করে রাখা হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে বাইরের যোগাযোগের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে সেই যোগাযোগ আরও সীমিত হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>🚨 BIG CLAIM: Pakistani journalist Wajahat S. Khan claims three senior Army officers fear Imran Khan may have died in prison, alleging Army Chief Asim Munir is hiding him from the public. <a href=”https://t.co/lqTerTm2qt”>pic.twitter.com/lqTerTm2qt</a></p>— GFN (@GFNIND) <a href=”https://x.com/GFNIND/status/2087490156660150610?ref_src=twsrc%5Etfw”>August 12, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
ইমরানের (Imran Khan) পরিবারও কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের দাবি, তাঁরা নিয়মিত ভাবে ইমরানের (Imran Khan) সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। সেই কারণেই তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
পিটিআইয়ের বক্তব্য, ইমরান (Imran Khan) সুস্থ থাকলে পরিবারকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দিতে সমস্যা কোথায়? দলের নেতাদের দাবি, কারা কর্তৃপক্ষের এই ‘অস্বচ্ছতা’ই সন্দেহ ও গুজব ছড়ানোর প্রধান কারণ।
ইমরানকে (Imran Khan) ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিটিআই। দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তাঁদের সমর্থকেরা ইমরানের (Imran Khan) মুক্তির দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির দিকে ‘লং মার্চ’-এর ডাকও দেওয়া হতে পারে।
পিটিআইয়ের সাম্প্রতিক আন্দোলন কর্মসূচি এমনিতেই পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনা তৈরি করেছে। ইমরান (Imran Khan) কারাবন্দি থাকার তিন বছর পূর্ণ হওয়ার সময়ও তাঁর মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার সমর্থক বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন। সেই আন্দোলন ঘিরে বহু সমর্থককে আটক করা হয়েছিল বলেও খবর। এবার ইমরানের (Imran Khan) জীবন নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বিভিন্ন মামলায় জেলে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Imran Khan)। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, হিংসায় প্ররোচনা-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। ইমরান (Imran Khan)এবং পিটিআইয়ের দাবি, অধিকাংশ মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মানবাধিকার সংগঠনগুলিও ইমরানের বন্দিজীবনের পরিস্থিতি নিয়ে অতীতে প্রশ্ন তুলেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে তাঁর দীর্ঘ সময়ের জেলজীবন এবং বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
ইমরান খানের (Imran Khan) মৃত্যুর দাবির সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়। পাকিস্তান সরকার বা কারা কর্তৃপক্ষের তরফেও এই মুহূর্তে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে কোনও ঘোষণা হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা চললেও নিশ্চিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— ইমরানের(Imran Khan) সঙ্গে তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের দেখা করার সুযোগ নিয়ে বিতর্ক যত বাড়বে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তত জটিল হতে পারে। পিটিআই ইতিমধ্যেই রাস্তায় নেমে শক্তি প্রদর্শনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জল্পনার অবসান ঘটাতে পাকিস্তান প্রশাসন ইমরানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ করে কি না, এখন সেদিকেই নজর।
দেখুন: আদ্যাপীঠে মাতৃআশ্রমের পুনর্নির্মাণ, নতুন গেট উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর