টেনিস দেখতে এসেছেন, না কি ইনস্টাগ্রামের ভিডিও বানাতে? ইউএস ওপেনে এ বার এই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে। গ্যালারি থেকে ম্যাচ দেখা নয়, বরং ছবি তোলা, সেলফি লাইট জ্বালিয়ে ভিডিও বানানো, এমনকি খেলা চলাকালীন চিৎকার—সমাজমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের একাংশের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ টেনিস দুনিয়া। আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিলেন একাধিক তারকা।
দর্শক টানতে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে টেনিসের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এ বার ইনফ্লুয়েন্সারদের নজিরবিহীন ভাবে সুযোগ দিয়েছে ইউএস ওপেন কর্তৃপক্ষ। টুর্নামেন্টের মূল পর্বও এ বার ১৫ দিন ধরে হচ্ছে। মিক্সড ডাবলস প্রতিযোগিতাকে মূল পর্বের আগের সপ্তাহে আলাদা করে আয়োজন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে টেনিসকে আরও বেশি করে সমাজমাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাই এখন বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছেন নাওমি ওসাকা। প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে ইনফ্লুয়েন্সারদের একটি অংশের চিৎকারে তিনি এবং তাঁর প্রতিপক্ষ দু’জনেই সমস্যায় পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন জাপানের প্রাক্তন গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী।
আরও পড়ুন: ‘এক বছরের বিস্ময় নয়, শচীনের মতো দীর্ঘ কেরিয়ার চাই’- বৈভবকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা বোর্ডের
ওসাকার কথায়, ‘স্পষ্টতই, আপনি যদি কোনও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেখতে আসেন, তা হলে সেই খেলাটাকে সম্মান করতে হবে। আমার মনে হয়, ইনফ্লুয়েন্সাররা নিজেদের দর্শকদের কাছে টেনিসকে জনপ্রিয় করে তুললে সেটা ভাল ব্যাপার হতে পারে। কিন্তু বিষয়টি আরও ভাল ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, বিশেষ করে আমার প্রথম রাউন্ডের ম্যাচের মতো পরিস্থিতিতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাধারণত ম্যাচ এবং কোর্টের দিকেই মনোযোগ রাখি। কিন্তু একটা সময় এমন হয়েছিল যে কয়েক জন দর্শক চিৎকার করছিলেন এবং সেটা বেশ পরিষ্কার ভাবে শোনা যাচ্ছিল। আমার মনে হয়, আমার প্রতিপক্ষও এতে বিরক্ত হয়েছিল।’
ওসাকার কথায়, সমস্যা শুধু দর্শকের শব্দে নয়, ম্যাচ চলাকালীন ইনফ্লুয়েন্সারদের আচরণেও। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওয় দেখা যায়, এক দল ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাচ চলার মাঝেই ইনস্টাগ্রামের জন্য ভিডিও বানাচ্ছেন। তাঁদের আচরণে আম্পায়ারকে হস্তক্ষেপ করে ‘বিঘ্ন’ ঘটানোর জন্য সতর্ক করতে হয়।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>Influencers are taking over the US Open and this guy has had enough <a href=”https://t.co/OnEOiwoR68″>pic.twitter.com/OnEOiwoR68</a></p>— Barstool Sports (@barstoolsports) <a href=”https://x.com/barstoolsports/status/2095178727013453970?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 2, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
ওসাকার সঙ্গে একমত জেসিকা পেগুলাও। ২০২৪ ইউএস ওপেনের রানার্স পেগুলা মনে করেন, ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি নেই তাঁর। কিন্তু সীমারেখা মেনে চলা জরুরি।
পেগুলার বক্তব্য, ‘ইনফ্লুয়েন্সাররা এসে ইউএস ওপেনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন, সেটা আমি বুঝতে পারি। কিন্তু তাঁদের ছবি তোলা এবং সেলফি লাইট ব্যবহার করার ভিডিও দেখলে বিষয়টা কঠিন হয়ে যায়। এখানে মানুষ খেলতে নেমেছেন, তাঁদের কাছে এটা কেরিয়ার এবং কাজ। বিষয়টা কিছুটা অসম্মানজনক বলে মনে হয়। আমার মনে হয়, ব্যাপারটা একটু বেশি মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।’
তবে সম্পূর্ণ ভাবে ইনফ্লুয়েন্সারদের বিরুদ্ধে নন ডানিল মেডভেডেভ। প্রাক্তন ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন মনে করেন, টেনিসকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া অবশ্যই ভাল। কিন্তু তার জন্য ম্যাচের পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না।
মে়ভেডেভ বলেন, ‘আমরা যত বেশি টেনিসের প্রচার করার চেষ্টা করব, ততই ভাল। খেলাটি যত জনপ্রিয় হবে, ততই ভাল।’
তবে সঙ্গে সতর্কও করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘খেলা চলাকালীন যদি কোনও কিছুতে সমস্যা হয়, যেমন আলো দেখা যায়, তা হলে অবশ্যই আম্পায়ারকে বলতে হবে। কিন্তু খেলা চলার মাঝখানে এমন কিছু ঘটলে পরিস্থিতি সামলানো কখনও কখনও কঠিন হয়ে যায়।’
টেনিসকে নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে সমাজমাধ্যমের গুরুত্ব যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট। কিন্তু তার সঙ্গে ম্যাচের শৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড়দের মনঃসংযোগের ভারসাম্য কী ভাবে বজায় রাখা হবে, ইউএস ওপেনের এই নতুন বিতর্কে এই প্রশ্নটাই বড় আকার নিয়েছে।
দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WEeXpNvrVVE?si=THpxlCpJGKPucNNz” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>