সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে ভারতীয় শিবিরে চিন্তা বাড়াল অর্শদীপ সিং (Arshdeep Singh)-এর চোট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট করতে নেমে কাঁধে চোট পেয়েছেন ভারতের বাঁহাতি পেসার। শনিবার বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ ম্যাচ।
তার আগে অর্শদীপের (Arshdeep Singh) চোট কতটা গুরুতর, তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভারতীয় পেসারের শারীরিক অবস্থা কেমন, জানালেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। আপাতত অর্শদীপের (Arshdeep Singh) দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় ভারতীয় দল।
বুধবার হায়দরাবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ২৪ রানে হেরে যায় ভারত। সেই ম্যাচের শেষ ওভারে চোট পান অর্শদীপ (Arshdeep Singh)। শামার জোসেফের একটি দ্রুতগতির বাউন্সার তাঁর বাঁ কাঁধে লাগে। যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা যায় ভারতীয় পেসারকে। মাঠে ছুটে আসেন দলের ফিজিও। চিকিৎসার পর ব্যাট করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আর চালিয়ে যেতে পারেননি অর্শদীপ (Arshdeep Singh)।
ম্যাচের পর তাঁর চোট নিয়ে সঞ্জু (Sanju Samson) বলেন, ‘অর্শদীপের কাঁধে বরফ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। দ্রুতগতির বলে ওর চোট লেগেছে। আশা করছি, তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে।’ তবে অর্শদীপের (Arshdeep Singh) চোট কতটা গুরুতর, কিংবা শনিবারের ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। ফলে সিরিজ নির্ণায়ক ম্যাচের আগে তাঁর ফিটনেসের দিকে নজর থাকবে ভারতীয় দলের।
শেষ ওভারে কী ঘটেছিল?
ভারতের ইনিংসের শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫ রান। হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট। সেই সময় শামার জোসেফের দ্রুতগতির বাউন্সারে কাঁধে চোট পান অর্শদীপ (Arshdeep Singh)। যন্ত্রণার মধ্যেও ব্যাট করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সম্ভব হয়নি।
ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার অর্শদীপকে (Arshdeep Singh) ব্যাটিং ছেড়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানেই শেষ হয়ে যায় ভারতের ইনিংস। ২৪ রানে ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সিরিজ জিততে মরিয়া ভারত
চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে হারের পরেও ভারতীয় দলের মনোবল ভেঙে যায়নি বলে জানিয়েছেন সঞ্জু (Sanju Samson)। বরং সিরিজের শেষ ম্যাচে জিততে মুখিয়ে রয়েছে দল।
সঞ্জু (Sanju Samson) বলেন, ‘এখন সিরিজ ২-২। সব কিছু নির্ভর করছে বেঙ্গালুরুর ম্যাচের উপর। শেষ ম্যাচের জন্য আমরা খুবই উদ্দীপ্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওরা আমাদের দেশে এসে দু’টি ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে। এ বার ফাইনাল ম্যাচের পালা।’
আরও পড়ুন: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে নিজেদের আরও ধারালো করাই লক্ষ্য নতুন অধিনায়ক স্মৃতির
‘তিলকের আউটই টার্নিং পয়েন্ট’
সঞ্জু (Sanju Samson) বলেন, ‘ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় তিলক আউট হওয়ার পর। আমরা তখন বেশ ভাল জায়গায় ছিলাম। প্রতি ওভারে ১০-১২ রান করে খুব ভাল ভাবে তুলছিলাম। চাপের পরিস্থিতিতে রেড্ডি এবং তিলক দু’জনেই খুব ভাল ব্যাট করছিল। আমার মনে হয়, তিলক আউট হওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা ভালই রান তাড়া করছিলাম।’
‘পাঁচ উইকেট হারানোর পরেও যে ভাবে ম্যাচের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা গিয়েছিল, সেটা সত্যিই ভাল দিক। দুই তরুণ ক্রিকেটার চাপ সামলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াই করছিল। এটা দলের কাছে দারুণ একটা প্রাপ্তি।’
এর আগে ২৩ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন সঞ্জু নিজেই। নিজের ব্যাটিং উপভোগ করলেও শেষ পর্যন্ত দল জিততে না পারায় হতাশ তিনি।
সঞ্জু (Sanju Samson) বলেন, ‘দল হারলে যা-ই করো না কেন, সব কিছুর অনুভূতিই আলাদা হয়ে যায়। এই মুহূর্তে আমি সত্যিই খুব হতাশ। অবশ্যই ম্যাচটা জিততে চেয়েছিলাম। ব্যাট করতে নেমে খুব উপভোগ করেছি। ইনিংসটা খেলে খুব ভাল লেগেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিততে পারলে আরও ভাল লাগত।’
প্রথম দিকে সিরিজে এগিয়ে থাকলেও পর পর দু’টি ম্যাচ জিতে লড়াইয়ে ফিরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে শেষ ম্যাচে যে দল জিতবে, সিরিজও যাবে তাদের দখলে। ভারতের কাছে এখন দু’টি বড় চ্যালেঞ্জ—বোলিংয়ের ভুল শুধরে নেওয়া এবং অর্শদীপের (Arshdeep Singh) ফিটনেস নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো। শেষ ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, তা স্পষ্ট না হলেও ভারতীয় শিবিরের আশা, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বাঁহাতি পেসার।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/N6g_XzAG6tA?si=EeyLWB5_19By5aAn” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>