বরফ গলছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে! ক্রিকেট সফর নিশ্চিত করতে দিল্লির দ্বারস্থ ঢাকা

Photo: Representational Image

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে দীর্ঘদিনের শৈত্য কাটতে শুরু করেছে। আর সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী মাসে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিশ্চিত করতে সক্রিয় হয়েছে ঢাকা। শুধু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)-এর সঙ্গেই নয়, নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলেও যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ।

সূত্রের খবর, আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের টি-২০ ও ওয়ানডে দলকে বাংলাদেশ সফরে আনতে মরিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। ৩০ জুলাই বিসিবি (BCB) সভাপতি তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal) বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসকে (Mithun Manhas) চিঠি লিখে সফরের বিষয়ে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারেরও সহযোগিতা চেয়েছে বিসিবি, যাতে সফর আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনও প্রশাসনিক জটিলতা না থাকে।

আরও পড়ুন: মাঝরাতে শহরে দুই বিদেশি তারকা মিগুয়েল, ইকোনোমিডিস, বিমানবন্দরে দুই প্রধানের সমর্থকদের মধ্যে প্রায় হাতাহাতির উপক্রম


এই সফরে তিনটি এক দিনের আন্তর্জাতিক এবং তিনটি টি-২০ ম্যাচ হওয়ার কথা। যদিও এই সিরিজটি প্রথমে ২০২৪ সালে হওয়ার কথা ছিল। পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির জেরে তা দু’দফা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সূচি বদলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছ।

বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যমে খবর, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও বৈঠক করেন তামিম। উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি স্তরে উদ্যোগ নিয়ে ভারতের সফর নিশ্চিত করা। অন্য দিকে, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের বক্তব্য, এই সিরিজ শুধু ক্রিকেট নয়, দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ আশাবাদী, দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বার ভারতের সফর বাস্তবায়িত হবে। যদিও এখনও বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা ও মতপার্থক্য রয়েছে, তবু চলতি বছরে বিভিন্ন স্তরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

গত মে মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান দিল্লিতে এসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বছরের গোড়াতেই বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রিসভার সচিব-সমমর্যাদা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: রোহিত-কাণ্ডে চাপে অজিত আগরকর! প্রধান নির্বাচকের পদে ইতি, বোর্ডের নজরে লক্ষ্মণ?

ত্রিবেদী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পরে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে ত্রিবেদী সে দেশের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এমন কোনও সমস্যা নেই, পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলে যার সমাধান করা সম্ভব নয়’।

তবে এখনও পর্যন্ত বিসিসিআই (BCCI) সরকারি ভাবে সফরের অনুমোদন দেয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ দপ্তরের সবুজ সঙ্কেত মিললেই সূচি ঘোষণা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেটকে দেখা হয়। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই বিসিসিআই (BCCI) এবং বিসিবির (BCB) সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়ে।

এরই জেরে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ২০২৬-এর আইপিএলে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সেই সিদ্ধান্তের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ থেকেও দলকে সরিয়ে নেয় বিসিবি। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছিল বিসিবি (BCB)। কিন্তু সেই আবেদন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) খারিজ করে দেয়। এরপরই বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ। তাদের পরিবর্তে টুর্নামেন্টে সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।

তবে সেই অধ্যায়ের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর নয়াদিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কের সমীকরণে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

https://youtube.com/shorts/LAmJhKqCa8A?si=LP9Lii3DIr5B4D3S

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলায় সেই আবহে ক্রিকেটকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সেতুবন্ধন হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ঢাকা। এখন নজর ভারতের সরকার ও বিসিসিআইয়ের (BCCI)  সিদ্ধান্তের দিকে। সফর চূড়ান্ত হলে প্রায় দু’বছর পর ফের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হবে ভারত ও বাংলাদেশ।