বাংলার ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের সঙ্গীর হাতে এতদিনে উঠল তাঁর সারা জীবনের অবদানের জন্য সম্মান। শেষ রঞ্জি ট্রফি জয়ী বাংলা দলের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর উইকেটসংখ্যা ৫০৪। দেশের হয়ে তিনটি ওয়ান ডে খেলেছেন। তিনি উৎপল চট্টোপাধ্যায়। বহু প্রতীক্ষার পর সিএবির জীবনকৃতি সম্মান (CAB’s lifetime achievement award) পেয়ে জানালেন, ক্রিকেটজীবনের একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।
সোমবার সন্ধ্যায় সিএবি সভাপতি ও প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sourav Ganguly) হাত থেকে বঙ্গ ক্রিকেটের এই সেরা সম্মান পেয়ে (CAB’s lifetime achievement award) আবেগপ্রবণ উৎপল বলেন, ‘১৯৮০ সালে স্কুল ক্রিকেটে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছিলাম। আর আজ জীবনকৃতি সম্মান পেলাম। আমার ক্রিকেটজীবনের বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। এক সময়ের সতীর্থ সৌরভের হাত থেকে এই সম্মান পেয়ে আমি আপ্লুত’।
আরও পড়ুন: মিটমাটের বিবৃতির পর প্রতিবাদ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম সিএবি বনাম সৌরাশিস দ্বৈরথ
তাঁর বাঁ-হাতি স্পিন বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের বাংলার ক্রিকেটে একাধিক স্মরণীয় মুহূর্ত এনে দিয়েছে। ক্রিকেট থেকে অবসরের পরে বাংলার স্পিন কোচ হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। প্রদীপ্ত প্রামাণিক, আমির গনিদের তৈরিও করেছেন।
তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে (CAB’s lifetime achievement award) দিয়ে খুশি সৌরভও (Sourav Ganguly) । সিএবি প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘ডেভিডদা (উৎপলের ডাক নাম) ময়দানের যোদ্ধা। ওঁর মতো ফিট ক্রিকেটার খুব কম দেখেছি। যদি ভুল না করি, ৪০ বছর বয়সের পরেও ক্রিকেট খেলেছে। এই সম্মান ওঁর প্রাপ্য। ডেভিডদার হাতে পুরস্কার তুলে দিতে পেরে আমারও ভাল লাগছে।’ শুধু উৎপল নন, জীবনকৃতি সম্মান দেওয়া হল প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটার পূর্ণিমা চৌধুরীকেও। যিনি ভারতের হয়েও মাঠে নেমেছেন।
আলিপুরের এক প্রেক্ষাগৃহে সিএবি-র বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী উৎসবে (CAB’s lifetime achievement award)বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার দেওয়া হয় সুদীপ কুমার ঘরামি ও তনুশ্রী সরকারকে। সেরা পেসার মহম্মদ শামি। দলীপ ট্রফি চলার ফলে শামি ও সুদীপ আসতে পারেননি। অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরে সেরা বোলার হলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লর ছেলে অগস্ত্য শুক্ল।
তবে বিতর্ক এড়াল না পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান (CAB’s lifetime achievement award)। নির্বাসিত পেসার রবি কুমারের হাতে পুরস্কার তুলে দেয় সিএবি। অনূর্ধ্ব-২৩ কর্নেল সি. কে. নাইডু প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার পুরস্কার পান তিনি। বয়স ভাঁড়ানো ক্রিকেটারকে কেন পুরস্কৃত করা হল, এই প্রশ্ন তো উঠবেই। এর উত্তরে সিএবি সচিব বাবলু কোলে জানান, ‘ও তো বোর্ডের প্রতিযোগিতার জন্য পুরস্কার পেয়েছে। তখন তো নির্বাসিত হয়নি’।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আশিস নেহরা। তিনি সৌরভের (Sourav Ganguly) সঙ্গে বহুদিন পর একই মঞ্চে থাকতে পেরে বেশ খুশি। গুজরাত টাইটান্সের কোচ ছিলেন তিনি। শুভমান গিল ও হার্দিক পান্ডিয়াকে একসঙ্গে সামলানোর অভিজ্ঞতার কথা শোনান তিনি। বলেন, ‘একজন দক্ষিণ মেরুতে তো অন্যজন উত্তরে। তবে দু’জনেরই শেখার আগ্রহ রয়েছে’।
দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/k4BX9a-NBVE?si=GxVKVPifb3fU4tX-” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>