চলতি এশিয়ান গেমসে (Asian Games) শুটিংয়ে একের পর এক হতাশার পর অবশেষে সোনার ঝলক দেখা গেল। মিক্সড টিম ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে কমলজিত ও সুরুচি সিং (Shooters Kamaljeet-Suruchi) জুটি শুধু যোগ্যতা অর্জন পর্বে শীর্ষে থেকেই ফাইনালে উঠলেন না, শেষ পর্যন্ত দেশকে এনে দিলেন সোনার পদকও।
ফাইনালে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিল ভারতীয় জুটি (Shooters Kamaljeet-Suruchi)। প্রথম ১০টি শটের পরই ২০২.৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন কমলজিত-সুরুচি। শেষ পর্যন্ত ৪৮৪.৬ পয়েন্ট নিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তাঁরা। দক্ষিণ কোরিয়ার সুহিয়ন হং ও গেউন চু ৪৭৮.০ পয়েন্ট নিয়ে রুপো পান। ইরান জেতে ব্রোঞ্জ, তাদের স্কোর ৪১৫.৮।
যোগ্যতা অর্জন পর্বে শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন দুই ভারতীয় শুটার। প্রথম সিরিজে ১৯৬ পয়েন্ট করার পরে দ্বিতীয় সিরিজে ১৯৫ যোগ করে মোট ৩৯১-এ পৌঁছে যান তাঁরা। শেষ ২০টি শটেও সেরা ছন্দে ছিলেন এই জুটি। ফলে আরও ১৯৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন কমলজিত-সুরুচি। সব মিলিয়ে তাঁদের স্কোর দাঁড়ায় ৫৮৭, যার মধ্যে ছিল ২৯টি ‘ইনার ১০’। ২১টি জুটির মধ্যে সবার উপরে থেকেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তাঁরা। এই স্কোরটি যোগ্যতা পর্বের নতুন এশিয়ান গেমস রেকর্ড এবং যোগ্যতা পর্বের এশিয়ান রেকর্ডের সমান।
এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ ব্যক্তিগত বিভাগে দু’জনের কেউই ফাইনালে উঠতে পারেননি। কমলজিত ব্যক্তিগত যোগ্যতা পর্বে নবম এবং সুরুচি ২৬তম হয়েছিলেন। এমনকী পুরুষ ও মহিলা দলগত ১০ মিটার এয়ার পিস্তলেও পদক পায়নি ভারত। ফলে মিক্সড টিম ইভেন্টটিই ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ।
কমলজিত-সুরুচির এই সোনা ভারতের ২০২৬ এশিয়ান গেমসে দ্বিতীয় সোনার পদক। এর আগে মহিলা ক্রিকেট দল সোনা জিতেছিল। শুটিংয়ে তাই এই সাফল্য ভারতীয় দলের কাছে শুধু একটি পদক নয়, হতাশার পর দারুণ প্রত্যাবর্তনেরও গল্প।
আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের ষষ্ঠ দিন ভারতের এই সোনালি বার্তা দিয়ে শুরু হওয়ার পর শুটিংয়ে একই সঙ্গে রুপোও। পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশন টিম ইভেন্টে রুপো জিতেছে ঐশ্বর্য প্রতাপ সিং তোমর, নীরজ কুমার ও রুদ্রাঙ্কশ পাটিলের দল। এই দুই পদকের সৌজন্যে এশিয়ান গেমসে ভারতের মোট পদকসংখ্যা পৌঁছে গেল ১৯-এ।
ঐশ্বর্য প্রতাপ সিং তোমর, রুদ্রাঙ্কশ পাটিল এবং নীরজ কুমারের ত্রয়ী পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশন টিম ইভেন্টে মোট ১৭৬২ স্কোর করে রুপো জেতেন। ১৭৬৬ স্কোর করে সোনা জিতেছে চিন। কোরিয়া ১৭৫১ স্কোর করে ব্রোঞ্জ পেয়েছে।
ব্যক্তিগত থ্রি পজিশন ইভেন্টের ফাইনালেও জায়গা করে নিয়েছেন ঐশ্বর্য ও নীরজ। ঐশ্বর্য ৫৮৯ স্কোর করে তৃতীয় এবং নীরজ ৫৮৮ স্কোর করে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। তবে রুদ্রাঙ্কশ ব্যক্তিগত ফাইনালে উঠতে পারেননি। কারণ, একটি দেশ থেকে সর্বোচ্চ দু’জন শুটারই ব্যক্তিগত ফাইনালে অংশ নিতে পারেন।
অ্যাথলেটিক্সে জোড়া পদক, ১০০ মিটার সেমিফাইনালে অনিমেষ-গুরিন্দরবীর
এশিয়ান গেমসে ভারতের অ্যাথলেটিক্স অভিযান শুরু হল পদক দিয়ে। প্রথম দিনেই এল দু’টি পদক—মহিলাদের ১০,০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জেতেন সীমা, আর মিক্সড ৪x৪০০ মিটার রিলেতে রুপো পায় ভারত। একই সঙ্গে পুরুষদের ১০০ মিটারের সেমিফাইনালে উঠলেন দেশের তারকা অ্যাথলিট অনিমেষ কুজুর ও গুরিন্দরবীর সিং।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>TRACK PAR TOOFAN, BHARAT KE NAAM SILVER! 🥈<br><br>Team India storms to a sensational SILVER medal in the 4x400m Mixed Relay at the 20th Asian Games Aichi-Nagoya 2026! ⚡🏃♂️🏃♀️<br><br>Watch the 20th Asian Games Aichi-Nagoya 2026 on Sony Sports Network TV channels & Sony LIV.… <a href=”https://t.co/oVUbF1nJcz”>pic.twitter.com/oVUbF1nJcz</a></p>— Sony Sports Network (@SonySportsNetwk) <a href=”https://x.com/SonySportsNetwk/status/2103152259211432245?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 24, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
অ্যাথলেটিক্সে দিনের প্রথম বড় সাফল্য আসে সীমার হাত ধরে। মহিলাদের ১০,০০০ মিটারের ফাইনালে ৩২ মিনিট ৫০.০৫ সেকেন্ড সময় করে তৃতীয় হন তিনি। ১৬ বছর পরে এই ইভেন্টে এশিয়ান গেমসে পদক পেল ভারত। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে মহিলাদের ১০,০০০ মিটারে এটি ভারতের তৃতীয় পদক। বাহরাইনের উইনফ্রেড ইয়াভি ৩২:৩৯.১৮ সময় করে সোনা এবং জাপানের নোজোমি তানাকা ৩২:৪১.৫৪ সময় করে রুপো জেতেন।
তার কয়েক মিনিট পরেই আসে আরও একটি পদক। মিক্সড ৪x৪০০ মিটার রিলেতে পুভাম্মা এমআর, বিশাল থেন্নারাসু, ভিত্যা রামরাজ এবং মনু টিএস-এর ভারতীয় দল রুপো জেতে। শেষ মুহূর্তে দুরন্ত দৌড়ে তাঁরা ভিয়েতনামকে মাত্র ০.০০৮ সেকেন্ডে পিছনে ফেলে দেন।
তবে দিনের আরও বড় খবর আসে স্প্রিন্টে। পুরুষদের ১০০ মিটারে অনিমেষ কুজুর ও গুরিন্দরবীর সিং দু’জনেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন। প্রথম হিটে তৃতীয় হয়ে ১০.৩৬ সেকেন্ডে সেমিফাইনালে ওঠেন অনিমেষ।গুরিন্দরবীরও পিছিয়ে থাকেননি। চতুর্থ হিটে দ্বিতীয় হয়ে ১০.৩৮ সেকেন্ড সময় করেন তিনি।
মহিলাদের ট্রিপল জাম্পে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া করেন আশা ইলাঙ্গো। ১৩.৮৩ মিটার লাফ দিয়ে তিনি ব্রোঞ্জজয়ী চিনের ই লি-র সমান দূরত্বে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় সেরা লাফ কম হওয়ায় চতুর্থ স্থানে শেষ করতে হয় তাঁকে।
তবে দিনের পদকের তালিকা এখানেই থামছে না। মিক্সড ডাবলস টেবিল টেনিসে দিয়়া চিতালে ও মনুষ শাহ ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালে উঠে পদক নিশ্চিত করেছেন। অর্থাৎ এই ইভেন্ট থেকেও অন্তত একটি পদক নিশ্চিত।
স্কোয়াশেও সুখবর। মিক্সড ডাবলসে অভিজ্ঞ জোশনা চিনাপ্পা ও ভেলাভান সেন্থিলকুমার সেমিফাইনালে উঠে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জোশনার সঙ্গে তরুণ ভেলাভানের জুটি ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি সংযোজন ঘটাল।
হকিতেও ভারতীয় মেয়েদের দাপট অব্যাহত। পুল বি-র ম্যাচে জাপানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠল ভারত। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় জাপানকে চাপে রাখে ভারতীয় দল। শেষ পর্যন্ত তিন গোলের সুবাদে শেষ চারে জায়গা করে নেয় তারা।
এ বার নজর কাবাডিতে। পুরুষ ও মহিলা—দুই ভারতীয় দলই সেমিফাইনাল খেলতে নামবে। ফলে আরও দু’টি পদকের দরজা খুলে যেতে পারে ভারতের সামনে।
অ্যাথলেটিক্সেও রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। মহিলাদের শটপুট ও পোল ভল্টের পাশাপাশি পুরুষদের ১০,০০০ মিটার এবং হ্যামার থ্রো-তে ভারতের প্রতিযোগীরা নামবেন।
স্কোয়াশের মহিলাদের সিঙ্গলসে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবেন অনাহত সিংহ ও তন্বী শর্মা। ফলে দিনের শেষে ভারতীয় পদক তালিকায় সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: কাস্টমসের ধাক্কা সামলে জয় দিয়ে শিল্ড শুরু ইস্টবেঙ্গলের
ভল্টে ষষ্ঠ বাংলার জিমন্যাস্ট প্রণতি
পদক জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নেমেছিলেন। শেষ পর্যন্ত পোডিয়ামে ওঠা হল না। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ভল্টের ফাইনালে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করলেন ভারতের একমাত্র জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক। আট জনের ফাইনালে তাঁর মোট স্কোর ১৩.১০০।
প্রণতির জন্য এই এশিয়ান গেমসের যাত্রাটা মোটেই সহজ ছিল না। পায়ের চোটের ধাক্কা সামলে জাপানের মাটিতে নেমেছিলেন তিনি। যোগ্যতা পর্বে ১২.৯১৬ স্কোর করে সপ্তম স্থানে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলেন বাংলার এই জিমন্যাস্ট।
ফাইনালে দু’টি ভল্টই বেশ স্থির ভাবে করেন প্রণতি। প্রথম ভল্টে তাঁর স্কোর ১২.৯০০, দ্বিতীয় ভল্টেও একই স্কোর। দু’টি ভল্টেই তাঁর ডিফিকাল্টি স্কোর ছিল ৪.৪ এবং এক্সিকিউশন স্কোর ৮.৫০০। সঙ্গে ০.২০০ বোনাস যোগ হয়ে মোট স্কোর দাঁড়ায় ১৩.১০০।
এই ইভেন্টে সোনা জিতেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়েও সিও-জিয়ং। তাঁর স্কোর ১৪.১০০। রুপো পেয়েছেন উত্তর কোরিয়ার আন চ্যাং-ওক, ১৩.০৩৩ স্কোর করে। ব্রোঞ্জ চিনের ডু সিউয়ের, তাঁর স্কোর ১২.৮০০। ফলে পদক থেকে বেশ কিছুটা দূরেই থামতে হল প্রণতিকে।