কেরিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা করেছিলেন কয়েক দিন আগেই। বার বার চোটের সঙ্গে লড়াই করে খেলাধুলার চাপ আর নিতে পারছিলেন না বলেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতের অন্যতম সেরা হেপ্টাথলিট স্বপ্না বর্মণ (Swapna Barman)। সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর বিরুদ্ধে ডোপিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হল। যা ভারতীয় তথা বাংলার অ্যাথলেটিক্সে এক বড়সড় ধাক্কা।
নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ায় ২৯ বছরের স্বপ্নাকে (Swapna Barman)সাময়িক ভাবে নির্বাসিত করেছে জাতীয় ডোপিং বিরোধী সংস্থা নাডা। নাডার সাম্প্রতিক ‘প্রভিশনালি সাসপেন্ডেড’ অ্যাথলিটদের তালিকায় ২০১৮ এশিয়ান গেমসে (Asian Games) সোনা জেতা এই বাঙালি অ্যাথলিটের নাম রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, স্বপ্নার(Swapna Barman) নমুনায় পাওয়া গিয়েছে নিষিদ্ধ অ্যানাবলিক-অ্যান্ড্রোজেনিক স্টেরয়েড বোল্ডেনোন। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আপাতত সাময়িক নির্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে স্বপ্নার(Asian Games) প্রতিক্রিয়া বা পরবর্তী শুনানির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে স্বপ্নার(Swapna Barman) নাম জড়িয়ে রয়েছে এক ঐতিহাসিক সাফল্যের সঙ্গে। ২০১৮-র জাকার্তা এশিয়ান গেমসে(Asian Games) হেপ্টাথলনে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন স্বপ্না(Swapna Barman)। তিনিই প্রথম ভারতীয় হেপ্টাথলিট, যিনি এশিয়ান গেমসে (Asian Games) সোনা জিতেছিলেন।
এর আগে ২০১৬-র রিও অলিম্পিক্সেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন স্বপ্না(Swapna Barman)। এশীয় পর্যায়েও সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরেই চোট তাঁর কেরিয়ারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতেই অবসরের ঘোষণা করে স্বপ্না(Swapna Barman) জানিয়েছিলেন, চোটে জর্জরিত শরীর আর উচ্চ স্তরের প্রতিযোগিতার ধকল নিতে পারছে না।
খেলাধুলো ছেড়ে স্বপ্না জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে বিধানসভা ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে জিততে পারেননি, দলও খুব খারাপভাবে হেরেছে। মাঝখান থেকে রেলের চাকরিটাও তাঁকে খোয়াতে হয়। এর পরে রাজনীতির ময়দানও ছেড়ে দেন স্বপ্না।
ভোট পরবর্তী হিংসার শিকারও হন তিনি। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় স্বপ্নার(Swapna Barman) বাড়িঘর। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্বপ্না বর্মন(Swapna Barman) দাবি করেন, বিধানসভা নির্বাচনে হারার পর থেকেই তাঁর কাছে বিভিন্ন ধরনের হুমকি আসত। এমনকী, হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁর পরিবারকেও। ১৫ মে রাতে তাঁর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
জীবনে এমন অনেক ঝড়-ঝাপটা সামলে তিনি এক নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। সমাজ মাধ্যমেও লিখেছিলেন, ‘একটা পথ বন্ধ হয়ে গেলে আরেকটা পথ খুলে যায়। সে রকমই কোনও পথের অপেক্ষা রয়েছি’। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ মানুষ জানান, ‘স্বপ্নাকে আগামীদিনে কোচের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। বেঙ্গালুরুর একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে কোচের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে।’ যদিও স্বপ্না সেই কথা পুরোপুরি স্বীকার করেননি। সোনাজয়ী এই অ্যাথলিটের কথায়, ‘প্রচুর মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসা তো ফেলতে পারি না। পথ খোলা রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।’
আরও পড়ুন: ফের বিশাল কয়েথের হাতই টাই ব্রেকারে জেতাল মোহনবাগানকে, ডুরান্ডের ফাইনালে ফের ডার্বি
এত কিছু সামলানোর পর যখন তিনি নতুন জীবন শুরুর কথা ভাবছিলেন, তখনই এক নতুন ঝড় আছড়ে পড়ল তাঁর জীবনে। এরকমই একটা সময়ে তাঁর ডোপ পরীক্ষায় নিষিদ্ধ পদার্থ ধরা পড়ার খবর সামনে এল। দেশের অন্যতম সফল হেপ্টাথলিটের কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এই নতুন বিতর্ক কী ভাবে সামলাবেন স্বপ্না, এ বার সেটাই দেখার। তবে লড়াই যে ছাড়বেন না লড়াকু স্বপ্না (Swapna Barman), এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
নাডার এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, ‘অবসর ঘোষণা করলেও স্বপ্না সাময়িক ভাবে নির্বাসিত থাকবে। তাকে শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে ‘বি’ নমুনা পরীক্ষার আবেদনও জানাতে পারবে’।
তিনি আরওবলেন, ‘যদি ভবিষ্যতে সে অবসর ভেঙে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় তবুও শুনানিতে দোষী প্রমাণিত হলে তার উপরে নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে। অবসর ঘোষণা করলেই কেউ ডোপিংয়ের অপরাধ থেকে ছাড়া পায় না। ওর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে’।অর্থাৎ, স্বপ্নার জীবনে শুরু হতে চলেছে এক নতুন লড়াই, নিজেকে কলঙ্কমুক্ত করার লড়াই। সেই লড়াই তিনি কী ভাবে লড়বেন, এখন সেটাই দেখার।
দেখুন: তিন দিনের সফরে শিলিগুড়ি, বাগডোগরায় অমিত শাহকে স্বাগত শুভেন্দুর