বার বার অল্পের জন্য এশিয়ান গেমসের পদক হাতছাড়া হওয়ার পর অবশেষে রুপো এল মীরাবাই চানুর ঘরে, পূর্ণ হল বৃত্ত

Photo: Representational Image

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অলিম্পিক পদকজয়ী, কমনওয়েলথ গেমসের তিন বারের সোনা জয়ী—মীরাবাই চানুর ( Mirabai Chanu) ট্রফি ক্যাবিনেটে অভাব ছিল শুধু একটি পদকের। এশিয়ান গেমসের (Asian Games) পদক। বুধবার ৪৯ কেজি বিভাগে সেই অধরা পদকও জিতে নিলেন তিনি। তবে কমনওয়েলথ গেমসে তাঁর সোনা জয়ের পর অনেকেই আশা করেছিলেন সেটি হবে সোনার পদক। কিন্তু ভারতের তারকা ভারোত্তোলক রুপো জিতে এসিয়ান গেমসের (Asian Games) এতদিনের খরা কাটালেন।

চানুর (Mirabai Chanu) বয়স ৩২। এই বিভাগের সবচেয়ে প্রবীণ প্রতিযোগী ছিলেন তিনি। তবে বয়সকে পাত্তা না দিয়েই দ্বিতীয় সেরার খেতাব অর্জন করে নেন মীরাবাই। অলিম্পিকে রুপোজয়ী, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কমনওয়েলথ গেমসে সোনার হ্যাটট্রিক করা মীরাবাই চানু (Mirabai Chanu) মহিলাদের ৪৯ কেজি বিভাগে মোট ১৯৮ কেজির ওজন তুলে রুপো জিতলেন। সোনা পেলেন উত্তর কোরিয়ার রি সং গুম। তিনি মোট ওজন ২১৫ কেজি তোলেন।


মীরাবাইয়ের (Mirabai Chanu) এশিয়ান গেমস (Asian Games)-যাত্রা খুব একটা সুখের ছিল না। ২০১৪ ইনচনে অভিষেকে নবম হয়েছিলেন। ২০১৮ জাকার্তা গেমসে পিঠের চোটের কারণে নামতে পারেননি। ২০২৩ হ্যাংঝৌয়ে উরুর চোট নিয়েও লড়েছিলেন। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১৭ কেজি তুলতে গিয়ে চোটের ধাক্কা খেয়ে শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হন। পদক হাতের মুঠোয় এসেও শেষ মুহূর্তে ফসকে যায়।

এ বার অবশ্য শুরু থেকেই অন্য মীরাবাইকে (Mirabai Chanu) দেখা গিয়েছে। স্ন্যাচে প্রথম দু’টি প্রচেষ্টায় ৮৩ এবং ৮৫ কেজি তোলার পরে তৃতীয় চেষ্টায় ৮৭ কেজি সফল ভাবে তোলেন তিনি। ফলে তিনটি স্ন্যাচই সফল হয়। রি সং গুম অবশ্য সেখানেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দেন এবং ৯০ ও ৯৪ কেজি তুলে এগিয়ে যান।

আরও পড়ুন: আজ শুরু আইএফএ শিল্ড, দুই প্রধানের কাছে ফের বড় চ্যালেঞ্জ, ক্রীড়াসূচি, কোথায়, কখন দেখবেন সরাসরি সম্প্রচার? জেনে নিন বিস্তারিত

ক্লিন অ্যান্ড জার্কে মীরাবাইয়ের (Mirabai Chanu) লড়াই আরও জমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ১১১ কেজি তুলে তাঁর মোট ওজন দাঁড়ায় ১৯৮ কেজি। সেই পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দেয় বহু প্রতীক্ষিত রুপো।

এই পদকের গুরুত্ব শুধু মীরাবাইয়ের (Mirabai Chanu)ব্যক্তিগত সাফল্যে আটকে নেই। এশিয়ান গেমসে (Asian Games) ভারতীয় ভারোত্তোলনের দীর্ঘ খরাও এ দিন কাটল। এর আগে শেষ বার এই প্রতিযোগিতায় ভারোত্তলনে পদক পেয়েছিলেন কর্ণাম মল্লেশ্বরী। ১৯৯৮-এ ব্যাংকক এশিয়াডে রুপো। অর্থাৎ ২৮ বছর পর আবার এশিয়ান গেমসের ভারোত্তোলনে ভারতের নাম উঠল পদকজয়ীদের তালিকায়।

এশিয়াডের আগে মীরাবাই (Mirabai Chanu) জানিয়েছিলেন, এই পদকটাই তাঁর বহু দিনের লক্ষ্য। বলেছিলেন, ‘এশিয়ান গেমসে (Asian Games) পদক জেতাই লক্ষ্য। বহু দিন ধরে এটাই আমার লক্ষ্য। আমার সংগ্রহে একমাত্র এই পদকটাই নেই’।

মীরাবাইয়ের (Mirabai Chanu) কোচ বিজয় শর্মাও আশাবাদী ছিলেন। বলেছিলেন, ‘প্রথম লক্ষ্য হবে স্ন্যাচে তিনটি লিফটই সফল করা, কোনওটিতেই ব্যর্থ না হওয়া। আমরা মোট ২০৫ কেজির লক্ষ্য রাখছি। অনুশীলনে ও এই ওজন তুলেছে এবং সেটা করার ক্ষমতা ওর রয়েছে।’ অতটা ওজন না তুলতে পারলেও নাগোয়ায় পদক জয়ের স্বপ্ন সত্যি করেই দেখালেন তিনি।

যদিও রুপো পেলেন, সোনা নয়—কিন্তু মীরাবাইয়ের (Mirabai Chanu) কাছে এই পদকের মূল্য আলাদা। কারণ, এশিয়ান গেমসের (Asian Games) মঞ্চে এত দিনের অপেক্ষা, চোট, ব্যর্থতা আর চতুর্থ হয়ে থেমে যাওয়ার যন্ত্রণা পেরিয়ে অবশেষে উঠলেন পোডিয়ামে। ভারতীয় ভারোত্তোলনের ২৮ বছরের অপেক্ষারও এখানেই ইতি।

আরও পড়ুন: জাপানের বিরুদ্ধে কোনোরকমে জিতে শ্রেয়সের অজুহাত, ‘তিন ঘণ্টার পথ! জাপানে যাতায়াতের সমস্যা’!

মীরাবাইয়ের (Mirabai Chanu) সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী উত্তর কোরিয়ার রি সং গুম-ই সোনা জেতেন। তিনি পর পর দু’বার এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়ন এবং এই বিভাগের বিশ্বরেকর্ডধারী। তাঁর মোট সেরা লিফট ২১৩ কেজি। ফলে মীরাবাইকে লড়াইয়ে থাকতে হলে নিজের সেরা ছন্দে থাকতে হত এবং সেটাই করলেন তিনি।

এ বার অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাও ছিল ভারতের। ৪৯ কেজি বিভাগে চিন কোনও প্রতিযোগী পাঠায়নি। ফলে পদকের লড়াইয়ে মীরাবাইয়ের (Mirabai Chanu) সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। ২৮ বছর পর ভারোত্তোলনে অপেক্ষার অবসান ঘটানোর দায়িত্ব পালন করেই দেখালেন মীরাবাই চানু (Mirabai Chanu)।

দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/QpMtnNwskj4?si=uGsKkduLs6MYZjED” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>