এক ম্যাচে ৫১টি লাল কার্ড! ফুটবল মাঠে নজিরবিহীন কাণ্ড ব্রাজিলে, গিনেসের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার দাবি

Image: X

ফুটবল মাঠে লাল কার্ড দেখা নতুন কিছু নয়। কখনও দু’এক জন, কখনও বা একই ম্যাচে তিন-চার জন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। কিন্তু একটি ম্যাচে ৫১টি লাল কার্ড! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ব্রাজিলের মাটিতে ঘটে গেল এমনই ঘটনা। দুই দলের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ মিলিয়ে মোট ৫১ জনকে লাল কার্ড দেখালেন রেফারি। এমন নজিরবিহীন ঘটনায় ভেঙে গেল এক ম্যাচে সর্বাধিক লাল কার্ড দেখানোর পুরনো বিশ্বরেকর্ড।

ঘটনাটি ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় ডিভিশনের সেমিফাইনালের প্রথম পর্বের। মুখোমুখি হয়েছিল উবেরল্যান্ডিয়া এবং মামোরে। গত ১ নভেম্বর পার্কে দো সাবিয়া স্টেডিয়ামে আয়োজিত সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে এগিয়ে ছিল মামোরে। কিন্তু ফুটবলের লড়াই ছাপিয়ে গেল মাঠের ভিতরের বিশৃঙ্খলা (Brazilian U-20 clash)। দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষ ক্রমশ ভয়াবহ আকার নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় রেফারিকে।

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>🇧🇷 Brazil football match sets Guinness record with 51 red cards The referee sent off 43 players and 8 coaches. Players used chairs and stretchers and attacked those already on the ground. Six ball boys reportedly joined the fight. Only the police managed to separate them. The brawl erupted in the second half of the Minas Gerais U20 state championship game between Uberlândia and Mamoré and lasted nearly 40 minutes.</p>&mdash; Visegrád 24 (@visegrad24) <a href=”https://x.com/visegrad24/status/2117997032111579620?ref_src=twsrc%5Etfw”>November 4, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>


ম্যাচের ৫৪ মিনিটে মামোরের হয়ে তৃতীয় গোল করেন হোয়াও ভিত্তর। স্কোরলাইন তখন ৩-১। গোলের পরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে উবেরল্যান্ডিয়ার রিজার্ভ বেঞ্চের দিকে উস্কানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করেন মামোরের ফুটবলার ডাভি ফার্নান্দেস বিটেনকোর্ট। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন প্রতিপক্ষের ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফেরা।

অভিযোগ, উবেরল্যান্ডিয়ার গোলকিপিং কোচ পাওলো সার্জিও দিয়াস দোস সান্তোস মাঠে ঢুকে ডাভিকে ধাক্কা দেন। তার পরেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। দুই দলের ফুটবলার, পরিবর্ত খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন (Brazilian U-20 clash)। একে অপরকে ঘুষি, লাথি মারার পাশাপাশি মাঠে চেয়ার এবং স্ট্রেচার ছোঁড়ার ঘটনাও ঘটে।

এমনকী সংঘর্ষে জড়িয়ে (Brazilian U-20 clash) পড়েন বল বয়রাও। রেফারির রিপোর্ট অনুযায়ী, ছ’জন বল বয়ও মারামারিতে অংশ নিয়েছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলে এই বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় সামরিক পুলিশকে।

আরও পড়ুন: ওড়িশার বিরুদ্ধে জিতে শীর্ষস্থান আরও পাকা করাই লক্ষ্য মোহনবাগানের, ফিরছেন ম্যাকলারেন?

এই ঘটনায় মোট ৫১ জনকে বহিষ্কার করেন রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোশঘিচ মোদেস্তো। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জন ফুটবলার এবং আট জন দুই দলের কোচিং স্টাফের সদস্য।

সংঘর্ষের আগে তিন জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৪৮ জনের বহিষ্কারের কথা ম্যাচ রিপোর্টে উল্লেখ করেন রেফারি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে মাঠে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মে লাল কার্ড দেখানোর পরিস্থিতিও ছিল না। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের রিপোর্টে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত করা হয়। ম্যাচটিও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন: এগিয়ে গিয়েও হার, হাচিওনের কাছে বিধ্বস্ত ইস্টবেঙ্গলের মেয়েরা! তবু এশীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আশা এখনও আছে!

মাঠের বাইরেও পরিস্থিতি শান্ত ছিল না। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পুলিশি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ১৪টি দরজা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। শৌচাগার, শাওয়ার, লকার রুম, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্রেরও ক্ষতি হয়।

এত দিন একটি ফুটবল ম্যাচে সর্বাধিক লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আর্জেন্টিনার পঞ্চম ডিভিশনের ম্যাচে ক্লাব আতলেতিকো ক্লেপোলে এবং ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে মোট ৩৬ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। দুই দলের প্রথম একাদশ এবং পরিবর্ত খেলোয়াড় মিলিয়ে কাউকেই ছাড়েননি রেফারি।

এ বার ব্রাজিলের ম্যাচে সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে গেল ৫১টি লাল কার্ড। অর্থাৎ পুরনো রেকর্ডের চেয়ে ১৫টি বেশি বহিষ্কার। তবে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, নতুন রেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এখনও দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তাদের ওয়েবসাইটে এখনও ২০১১ সালের আর্জেন্টিনার ম্যাচটিই সর্বাধিক লাল কার্ডের স্বীকৃত রেকর্ড হিসাবে রয়েছে।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/RJaUOzFfzes?si=dzi3AxMJJnLJAXmg” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>