• facebook
  • twitter
Wednesday, 18 March, 2026

চাকরি বাতিল নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি– লোকসভা নির্বাচনে প্রচারে এসে মালদহ উত্তরের সভা থেকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ তিনি বললেন, ‘যুবপ্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে তৃণমূল৷ ২৬ হাজার পরিবারের রুজিরুটি শেষ করে দিয়েছে৷’ নিয়োগ থেকে রেশন, ভোটের বাজারে রাজ্যের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি৷ এসবের মাঝে ২০১৬ সালের প্যানেলের ২৬ হাজার

নিজস্ব প্রতিনিধি– লোকসভা নির্বাচনে প্রচারে এসে মালদহ উত্তরের সভা থেকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ তিনি বললেন, ‘যুবপ্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে তৃণমূল৷ ২৬ হাজার পরিবারের রুজিরুটি শেষ করে দিয়েছে৷’ নিয়োগ থেকে রেশন, ভোটের বাজারে রাজ্যের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি৷ এসবের মাঝে ২০১৬ সালের প্যানেলের ২৬ হাজার চাকরি বাতিল বিজেপির কাছে নতুন ‘অস্ত্র’৷ শুক্রবার মালদহের সভা থেকে সেই ‘অস্ত্রে’ই শাসকদলকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী৷ চাকরি বাতিল ও যুবপ্রজন্মের ভবিষ্যৎ নষ্টের জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করলেন তিনি৷ বললেন, ‘যুবপ্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে তৃণমূল৷ ২৬ হাজার পরিবারের রুজিরুটি শেষ করে দিয়েছে৷ এত গুলো পরিবার অন্ধকারে৷’ মোদির কথায়, ‘একদল চাকরি পেতে ধার করে তৃণমূলকে টাকা দিয়েছে৷ আজ পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে৷’ তবে শুধু চাকরি দুর্নীতি নয়৷ আরও একাধিক দুর্নীতির ইসু্যতে এদিন রাজ্য সরকার তথা তৃণমূলকে দুষেছেন মোদি৷ উল্লেখ্য, নিয়োগ দু্র্নীতি নিয়ে গত কয়েকবছর ধরে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি৷ দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট৷ বেতন ফেরতের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে৷ ঘটনাচক্রে যোগ্যরাও শাস্তির কোপে পডে়ছেন৷ যা নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্র৷ বাংলায় এসে গোটা ঘটনার দায় তৃণমূলের কাঁধেই চাপালেন মোদি৷ ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার৷

শুক্রবার দেশে দ্বিতীয় দফার লোকসভা নির্বাচন৷ এই দ্বিতীয় দফায় এরাজ্যেও তিন কেন্দ্রে রয়েছে লোকসভা নির্বাচন৷ যার মধ্যে দার্জিলিং, রায়গঞ্জ ও বালুরঘাটে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে৷ আর এই দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিনেই রাজ্যে ভোট প্রচার করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ আজ মোদিকে ঘিরে মালদহের নির্বাচনী জনসভায় প্রচুর মানুষের জমায়েত হয়৷ সেই বিপুল মানুষের সমাবেশের মধ্যে থেকে স্লোগান ওঠে ‘মোদি, মোদি, মোদি’ বলে৷ সভায় অভাবনীয় সাড়া পেয়ে আনন্দে আপ্লুত মোদি বলে ওঠেন, ‘এত ভালোবাসা কপালে জোটে না৷ মনে হচ্ছে, আমি হয় গত জন্মে বাংলায় জন্মেছিলাম৷ নয়তো পরের জন্মে আমি বাংলার মায়ের গর্ভে জন্ম নিতে চলেছি৷ আমার বাংলাকে এভাবে ভেঙে পড়তে দেব না৷ আপনাদের ভালোবাসা ব্যর্থ হতে দেব না৷ এই ভালোবাসা ফিরিয়ে দেব৷’

Advertisement

আর সেই বক্তৃতা শুনে উদ্বেল জনতা কলরব শুরু করতেই মোদি ভাষণ থামিয়ে দেন৷ মোদির ভাষণে আপ্লুত জনতাকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটু শান্ত হয়ে বসুন, আমার কথা শুনুন৷’ এরপর তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই উৎসাহ, ভালোবাসা আমি মাথায় করে রাখব৷’ বক্তৃতার মাঝে মোদি বলেন, বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি, দর্শন, প্রগতি, সবেতেই এগিয়ে ছিল বাংলা৷ সেই বাংলা আজ ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে৷
তবে মোদির এই বক্তৃতার মধ্যে আবেগ ও সত্যের চেয়ে রাজনৈতিক কৌশল দেখছে রাজনৈতিক মহল৷ কারণ এবার লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের স্লোগান, ‘তৃণমূলের গর্জন, বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন৷’ মোদি তৃণমূলের এই স্লোগানের পাল্টা দিতেই তিনি নিজেকে বাংলার খুব কাছের মানুষ বলে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন৷

Advertisement

Advertisement