যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনে জয়জয়কার বামপন্থার

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনে জয়জয়কার বামপন্থার। (Photo: Twitter | @sweetprosenjit)

প্রথমবার প্রার্থী দিয়ে চমকে দিলেও ছাত্র নির্বাচনে জয়ী হয়ে চমক দেওয়ার ধারা অব্যাহত রাখতে পারল না এবিভিপি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র নির্বাচনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল বাম এবং অতিবাপন্থী সংগঠনগুলি। উল্লেখযােগ্যভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে এবিভিপি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরই দাপট দেখিয়ে এসেছে বামপন্থী এবং অতিবামপন্থী সংগঠনগুলি। এই প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছিল এবিভিপি।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের সিএএ এবং এনআরসি সিদ্ধান্তর বিরােধিতা হােক বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়ার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ, মােদি সরকারের বিরুদ্ধে বরাবরই সক্রিয় প্রতিবাদের পথে হেঁটেছে যাদবপুর। স্বাভাবিকভাবেই ছাত্র নির্বাচনের ফলাফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেরুয়া প্রভাব পড়বে কিনা, তা ছিল বড় প্রশ্ন।


বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভােটগণনা প্রক্রিয়া শুরু হয়। গণনার শুরুতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিছিয়ে যায় এসএফআই। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে এবিভিপি। যদিও এই বিভাগে প্রথম হওয়া অতিবামপন্থী সংগঠন ডিএসএফের থেকে বহু মার্জিনে পিছিয়েছিল এবিভিপি। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সবকটি আসনে বিপুল ভােটে জয়ী হয়েছিল অতি বামপন্থী সংগঠন ডিএসএফ।

এদিকে কলা বিভাগে এসএফআই-এর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় ডিএসএফ-এর। কিন্তু শেষমেশ জয়ী হয় এসএফআই। অবশ্য সংস্কৃত বিভাগে কয়েকটি ভােট পেয়েছে এবিভিপি।

অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রতিবারের মতাে জয়লাভ করেছে উই দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট (ডব্লিউ টি আই)। ৩৯টি আসনের মধ্যে যে ৮টি আসনে ভােট হয়েছিল সেই আটটি আসনেই জয়লাভ করেছে এই দল। অন্যদিকে এই ছাত্র নির্বাচনে কোনও দাগ কাটতে পারেনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। মােটের ওপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রার্থী দিলেও ছাত্রছাত্রীদের সমর্থন জোটেনি এবিভিপির। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখতে না পেলেও মােটেও আশাহত নন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘােষ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র নির্বাচনের প্রেক্ষিতে মতামত দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২’য় হয়েছে এবিভিপি। এই উত্থান ‘ট্রেলার’ এবং পুরাে ‘ছবি’ এখনাে বাকি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে বাম সংগঠনগুলি জয়ের ধারা অব্যাহত রাখায় কার্যত খুশি রাজ্য বাম নেতৃত্ব। বাম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী জানান, এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা প্রমাণ করেছে যে তারা বিজেপি বা তৃণমূলের বিভাজনের রাজনীতিকে সমর্থন করে না।