বিরোধী দলগুলোর উপর লাগাতার এজেন্সি হামলা: শাসকদলের ভরসা কি তলানিতে?

সুরঞ্জন আচার্য
২১ মার্চ রাতে গ্রেপ্তার করা হল দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে৷ দীর্ঘদিন ধরেই আবগারি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁর পিছনে লেগে আছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট৷ ইতিমধ্যে ৯বার সমনও পাঠিয়েছে৷ দিল্লী হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছিলেন কেজরিওয়াল৷ সেই আবেদন খারিজ হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর সরকারি বাসভবনে হানা দেয় ইডি৷ অবশেষে গ্রেপ্তার৷ ইতিমধ্যেই একই অভিযোগে সিবিআই-এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন দিল্লীর উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া এবং অন্য একজন বিধায়ক৷

সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি একটা ভয়ংকর রোগ৷ এমন কোন দুর্নীতি যিনিই করে থাকুন না কেন, তার হয়ে সাফাই গাইবার কোন কারণ থাকতে পারে না৷ কাজেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের হয়ে বলবার কিছুই নেই৷ তিনি সৎ নাকি সত্যিই দুর্নীতিতে জড়িত, সেটা আদালতই ঠিক করবেন৷ কিন্ত্ত তার গ্রেপ্তারির সময় নিয়ে অবশ্যই একটা সন্দেহ জাগছে৷ নির্বাচন কমিশন পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিয়েছেন৷ আর একমাসও নেই প্রথম ধাপের নির্বাচনের৷ আম আদমি পার্টি দিল্লী, পাঞ্জাব আর সন্নিহিত কয়েকটি অঞ্চলে বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ৷ আপের প্রধানপ্রচারক অবশ্যই কেজরিওয়াল৷ এখন যদি তাকে গ্রেপ্তার করে রাখা যায়, তাহলে পার্টির প্রচারের জোর যে কমবে, সেটা স্বাভাবিক৷ উল্টোদিকে গোটা পার্টিটাকেই দুর্নীতিপরায়ণ বলে দাগানোর সুবিধা হয়ে যাবে বিজেপির পক্ষে৷

আরো সন্দেহ জাগছে পাশাপাশি আরেকটি ঘটনার জন্য৷ আয়কর দপ্তর কংগ্রেসের ১১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৮টি বাজেয়াপ্ত করেছে৷ সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়, ১৯৯৪ সালের একটি ১৪ লক্ষ টাকা আয় সংক্রান্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আয়কর দপ্তর একটি নোটিশ পাঠায়৷ ৩০ বছর পরে হলেও সেই নোটিশের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১০, ০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে৷ অথচ তার জন্য ৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হল৷ ফলে অর্থের অভাবে কংগ্রেস নির্বাচনী প্রচারের কাজই শুরু করতে পারছে না৷


এই অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে এক ভয়ংকর প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করছে৷ বকেয়া আয়কর আদায় করা যাবে না বা তার জন্য নোটিশ দেওয়া যাবে না, এমনটা কখনই নয়৷ কিন্ত্ত তারও তো একটা সময়সীমা আছে৷ আয়কর আইন অনুযায়ী একজন আয়করদাতা (এক্ষেত্রে কংগ্রেস)-কে কোন একটি বছরের যাবতীয় হিসাব ও নথি ৮ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হয়৷ আবার যদি কোন কারণে সেই খাতাপত্র নতুন করে খতিয়ে দেখার দরকার পড়ে, তাহলে সেই নির্দেশ থেকে আরো ৬ বছর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ে৷ সেক্ষেত্রে মোট হল ১৪ বছর৷ কিন্ত্ত সেই নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ তো আসতে হবে প্রথম ৮ বছরের মধ্যেই৷ নাহলে তো আয়করদাতার আর কোন দায়বদ্ধতা থাকবে না৷

কংগ্রেসের বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে ১৯৯৪ সালের খাতাপত্র ২০০২ সালের পরে আর মজুত রাখার দরকার পড়ে না৷ আর যদি তার আগেই কোন নোটিশ এসে থাকে, তাহলে বড়জোর ২০০৮৷ তার মধ্যেই আয়কর দপ্তরকে বকেয়ার হিসাব করে নোটিশ জারি করতে হবে৷ ২০০৮ সালের পরে ১৯৯৪ সালের খাতা নতুন করে খতিয়ে দেখার সুযোগ আয়কর আইনেই নেই৷ তাহলে হলটা কী? কংগ্রেস কি মিথ্যে বলছে? নাকি কেন্দ্রিয় সরকারের হুকুমে আয়কর দপ্তর রাজনৈতিক খেলাধুলো শুরু করেছে? হালচাল দেখে তো তেমনটাই মনে হচ্ছে৷

১৯৯৪ সালের হিসাবের ভিত্তিতে কোন বকেয়ার নোটিশ ২০০৮ সালের মধ্যেই পাঠিয়ে দেবার কথা৷ ধরা যাক, সেটাই হয়েছে৷ তাহলে অবশ্য আয়কর দপ্তর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বকেয়া টাকাটা তুলে নিতে পারে, আইনি ভাষায় যাকে বলা হয় গার্নিশি৷ কিন্ত্ত গার্নিশিতেও বকেয়ার থেকে বেশি টাকা তোলা যায় না, তোলা হয় না৷ সেক্ষেত্রে পুরো অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয় কিভাবে? সবটাই তো মনে হচ্ছে হাত আইনের কারবার৷ একমাত্র কংগ্রেসকে অপদস্থ করা ছাড়া অন্য কোন আইনি তাৎপর্য্য এর মধ্যে নেই৷ দুটো ঘটনার সমাপতনই কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারি নিয়ে সন্দেহ বাড়াচ্ছে৷

দুর্নীতির অনুসন্ধান, বকেয়ার সন্ধান অবশ্যই করতে হবে৷ কিন্ত্ত তার মধ্যেও তো একটা যুক্তির অবকাশ থাকবে৷ ধরেই নিলাম, কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ আছে৷ তাহলেই ইডি ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার করল না কেন? তাহলে কি অপেক্ষা করা হচ্ছিল, অভিযোগের চাপে আম আদমি পার্টি কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা থেকে পিছিয়ে আসে কিনা? সেটা আটকানো গেল না বলেই কি এই পদক্ষেপ? এই প্রশ্নের উত্তরটা খুব জরুরী৷ কারণ আনুষঙ্গিক অনেকগুলো ঘটনাও যে আছে!

ধরা যাক, ইলেক্টোরাল বন্ডের কিসসা৷ সুপ্রিম কোর্টের চাপে পড়ে অবশেষে ২১ মার্চ স্টেট ব্যাঙ্ক বন্ডের ইউনিক আইডি সহ পুরো তালিকা তুলে দিল নির্বাচন কমিশনের হাতে৷ আর সেটাই প্রকাশ করা হল৷ এর আগেই যে অসম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ পেয়েছিল, তাতে অনেকগুলো মজার মজার তথ্য ছিল৷ যেমন আম্বানি গ্রুপের কুইক সাপ্লাই চেন প্রাইভেট লিমিটেড৷ এরা বণ্ড কিনেছে ৪১০ কোটি টাকার৷ ২০২২-২৩ সালে এদের কেনা বন্ডের মূল্য ১২৫ কোটি টাকা৷ অথচ একই সময়ে এদের মোট ব্যবিসা ৫০০ কোটি টাকা৷ যদি ২০ শতাংশ হারেও মুনাফা ধরা হয়, তাহলেও হয় ১০০ কোটি৷ সেই থেকেই যাবতীয় খরচা চালাতে হয়৷ সেই কোম্পানি ১২৫ কোটি টাকার বন্ড কিনল কিভাবে? কার কাছে দেনা করল? এটা তো স্পষ্টত আর্থিক চক্রান্ত, যা মানি লন্ডারিং আইনের অন্তর্ভুক্ত৷ তাহলে ইডি কি এর তদন্ত করছে?

করছে যে না, সে আমরা সবাই জানি৷ কারণ সংশোধিত তালিকায় প্রমাণ হয়ে গেছে কুইক সাপ্লাই চেন কর্তৃক খরিদ করা বন্ডের ৯১.৫% পেয়েছে বিজেপি৷ এমন কিসসা ইলেক্টোরাল বন্ড খতিয়ে দেখলে অনেক পাওয়া যাবে৷ কুইক সাপ্লাই নাহয় ভালবাসার খাতিরে কিংবা ভবিষ্যতে আরো ব্যবসা পাবার খাতিরে টাকা দিয়েছে৷ সিবিআই, ইডি, আয়কর হানার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির হাতে বন্ড তুলে দেবার ঘটনাও তো দেখা যাচ্ছে৷ সিএজি রিপোর্টে নাম থাকা মেঘা এঞ্জিনিয়ারিং দিয়েছে মোট ৯৬৬ কোটি টাকার ৬০%৷ এগুলোর তদন্ত কে করবে?

পশ্চিমবঙ্গে চিটফান্ড সূত্রে আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত সিবিআই শুরু করেছিল ২০১৩ সালে৷ ১১ বছরেও কোন ফয়সলা হল কি? একই নাটক বারবার অভিনীত হতে হতে বাসি হয়ে গেছে বলে ২০২৪-এ আর দেখা গেল না৷ নইলে ২০১৪-পরবর্তী প্রতিটি নির্বাচনের আগেই চিটফান্ড নিয়ে সিবিআই-এর দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ত৷ ফল প্রকাশের পরে আবার শীতঘুম৷ কিংবা নারদা কেলেঙ্কারি! ২০১৬ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে৷

সিবিআই এবং ইডি, দুই এজেন্সির তৎপরতা শুরু হয়৷ যেহেতু কয়েকজন অভিযুক্ত ছিলেন সাংসদ, লোকসভার স্পিকারের অনুমোদন ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জ শিট দেওয়া সম্ভব নয়৷ পরবর্তী আট বছরে একটি লোকসভা নির্বাচন হয়ে গেল, আরেকটি হতে চলেছে৷ কিন্ত্ত লোকসভার স্পিকারের আর সময় হল না অনুমতি দেবার৷ কেন? কী উদ্দেশ্য আছে এর পিছনে?

অথচ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে বড্ড জলদি সব কিছু হয়ে গেল৷ নারদা কেলেংকারির ক্ষেত্রে লোকসভার এথিক্স কমিটি একটাই মিটিং করে উঠতে পেরেছিল৷ কিন্ত্ত এক্ষেত্রে একটা মিটিং-এই তার সাংসদপদ কেড়ে নেবার সিদ্ধান্তও হয়ে গেল৷ বর্তনানে আবার লোকপাল সিবিআই-কে নির্দেশ দিয়েছেন তদন্ত করার৷ মহুয়া বিজেপি-তে গেলেন না, এটাই কি তাহলে আসল অপরাধ? আরেকজনের নাম না নিলে গল্পটা ঠিকঠাকবোঝা যাবে না৷ অজিত পাওয়ার, এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ারের ভাইপো৷ ২০১৯ সালে অজিত পাওয়ার বিজেপির সমর্থনে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করেন৷ আর তার অ্যান্টি করাপশন বু্যরো আর্থিক কেলেংকারির ৯টি চার্জ শিট থেকে অজিত পাওয়ারের নাম বাদ দেয়৷ পাওয়ার অবশ্য তারপরেই আবার এনসিপি-তে ফিরে আসেন৷ ওয়াশিং মেশিন ভাজপা নামক যে বিজ্ঞাপনটির কথা শোনা যায়, তাহলে সেটাই কি সত্য? বিপরীত কিছু ভেবে দেখার সুযোগ তো মিলছে না৷

নিজের রাজত্ব নিরঙ্কুশ রাখার জন্য বিজেপি মরণ কামড় দেওয়া শুরু করেছে৷ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর মনোমত না হলেই এজেন্সি লেলিয়ে দেওয়া তো অনেক পুরনো কাহিনী৷ এমনিতেই সুপরিচিত টেলি-মিডিয়ার প্রায় সবটাই চলে গেছে বিজেপি-র সাংসদ বা কাছের লোকদের অধীনে৷ বাকিদের উপর নজরদারি অব্যাহত৷ প্রণয় রায়ের মত প্রবীণ এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সম্পাদকের অভিজ্ঞতাই সবকিছু বুঝিয়ে দেয়৷ তাতেও সম্ভবত হাল সামলানো যাচ্ছে না৷ আর তাই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রেও জবরদস্তি করতে হল৷

এমনিতেই নির্বাচন কমিশনার বলতে আমাদের একজনের নামই মনে পড়ে, টি এন শেষন৷ বাকিরা কে কবে চেয়ারে বসেছেন আর অবসর নিয়েছেন, আমাদের স্মৃতিতে নেই৷ প্রায় সকলেরই কাজ ছিল সরকারের বশম্বদ হয়ে থাকা৷ তাতেও বোধহয় আশঙ্কা যাচ্ছিল না৷ এ যাবৎ নিয়ম ছিল, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কমিটি নিয়োগ করবেন৷ সম্প্রতি কেন্দ্রিয় সরকার সেখানেও আইন সংশোধন করালেন৷ প্রধান বিচারপতির বদলে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একজন কেন্দ্রিয় মন্ত্রী ঢুকলেন সেই কমিটিতে৷ অর্থাৎ সরকারের আধিপত্য যাতে বজায় থাকে, তার বন্দোবস্ত করে ফেলা হল৷

তাতেও কি সামলানো যাচ্ছে? একজন নির্বাচন কমিশনারের পদ ফাঁকা ছিল দীর্ঘদিন ধরেই৷ আচমকাই পদত্যাগ করলেন অরুণ গোয়েল৷ এরপরই একটি সংস্থা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নতুন আইনের বিরোধিতা করে৷ ১৩ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন শুনানির দিন ধার্য করলেন ১৫ মার্চ৷ আর পরদিনই জ্ঞানেশ কুমার এবং সুখবীর সিং-কে নির্বাচনী কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেল৷ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি সামান্য শ্রদ্ধা থাকলে মামলার রায় দেখে নেবার জন্য অপেক্ষা করা হত৷ হল না, কারণ সেই মূল্যবোধটাই আজ বিসর্জিত হয়ে গেছে৷

এখন বাকি পড়ে আছে সুপ্রিম কোর্ট৷ ইলেক্টোরাল বন্ড নিয়ে প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ যা রায় দিয়ে চলেছেন, তাতে অনেক আবর্জনা প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে৷ তাহলে এবার কি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আর তার কেবিনেট সদস্যরাই সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের চেয়ারে বসে পড়বেন? নাকি সেখানেও এজেন্সি হামলা হবে? মোদ্দা কথা একটাই৷ বাজারে যতই দাপিয়ে ৪০০ আসনের কথা বলা হোক না কেন, ভিতরে ভিতরে ঠিক ততটা ভরসা বোধহয় নেই৷ আর তাই এত কায়দাবাজি৷ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গোগোই অবসরের পরই লোকসভায় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হয়েছিলেন৷ তার আগে অবশ্য তিনি সরকারকে যথেষ্ট স্বস্তি দিয়েছিলেন বাবরি মসজিদ এবং রাফায়েল মামলায়৷ প্রধানমন্ত্রী ইদানিং সুদামা আর কৃষ্ণের উদাহরণ দিচ্ছেন ইলেক্টোরাল বন্ড প্রসঙ্গে৷ এই বিষয়ে তিনি কী বলেন, তা অবশ্য কানে আসেনি৷

রাজনৈতিক দল তার বিরুদ্ধপক্ষকে হয়রানির চেষ্টা করবে, সেটা তবুও নাহয় মেনে নেওয়া যায়৷ আবার এমনও নয় যে কেবল কেন্দ্রিয় সরকারই এমন কাজ করছেন৷ বিভিন্ন রাজ্যেই কমবেশি এমন অভিযোগ আছে৷ কিন্ত্ত যেভাবে সংবিধানকে অগ্রাহ্য করার ধারাবাহিক প্রয়াস চলছে, সেটা সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্রের পক্ষেই বিপদজনক৷ একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর মাত্রাহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষা সংবিধানকে পদদলিত করে যাবে, এটা দীর্ঘদিন চলতে পারে না৷ বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের রক্ষক হিসাবে ভূমিকা পালন করতে উদ্যোগী হয়েছেন৷ আশার কথা এটাই৷