উত্তরবঙ্গে মমতা শুনলেন চা-শ্রমিকদের সুখ-দুঃখের কথা

নিজস্ব প্রতিনিধি— প্রাকৃতিক দু্র্যোগে বিপর্যস্ত জলপাইগুডি়, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারও৷ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী এদিন চালসার আইভিল চা বাগানে যান৷ স্রেফ বৈঠক নয়, বাগানে দাঁডি়য়ে শ্রমিকদের সঙ্গে চা পাতাও তোলেন মমতা৷ রাস্তায় পাশে দোকানে ঢুকে চা বানান নিজে হাতে৷ এদিকে লোকসভা ভোটের মুখে বিপাকে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকরা৷ কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাডি়র দিচ্ছেন তাঁরা৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটের পর প্রশাসন প্রশাসনের মতো ওদের সঙ্গে বসবে, বসে সিদ্ধান্ত নেবে৷ এখন যাতে ওদের ব্যবসা বন্ধ না হয়, কর্ম বন্ধ না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার জন্য উত্তরবঙ্গ জেলার সমস্ত প্রশাসনকে অনুরোধ করছি৷ ব্রডলিপ প্য়ান্টগুলিকে বলার জন্য চা পাতাটা কেনাটা যেন বন্ধ করে৷ এটা মানবিক কারণে, কোনও রাজনৈতিক কারণে নয়৷ মানুষের জীবন জীবিকার লড়াই৷ সবাই এসেছিলেন, সবার সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে’৷

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আগামিকাল থেকে আমরা জনসভা শুরু হয়ে যাচ্ছে৷ প্রথম সভা মাথাভাঙায়. মাথাভাঙা করে মালবাজারে, ওখানে সভা আছে আমার৷ পরশু দিন সভা আছে জলপাইগুডি় আলিপুরদুয়ার, পরের দিন বালুরঘাটের তপন আর রায়গঞ্জের হেমতাবাদে৷ ১৭ তারিখে অসমে যেতে পারি৷ আমাদের ৪ প্রতিনিধি ওখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে’৷

উত্তরবঙ্গের একাংশ এখনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ছবি বর্তমান৷ বিপর্যয়ের দিন রাতেই জলপাইগুডি় পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বর্তমানে উত্তরবঙ্গেই রয়েছেন৷ বুধবার চালসার চা বাগান পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এলাকার মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি৷ শোনেন তাঁদের অভাব অভিযোগও৷ নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে ফের জনতার মাঝে মিশে যেতে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ এদিন চালসার চা বাগান পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে ঢুকে পডে়ন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানে নিজে হাতে চাও বানান৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রাস্তা ও পানীয় জলের বিষয়ে নিজেদের সমস্যার কথা জানান গ্রামবাসীরা৷ সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, ‘এখানে পঞ্চায়েতের কোনও অফিসার উপস্থিত রয়েছেন কিনা’৷ এরপরই সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি৷


এরপরই ফেরার সময় একটি চা দোকানে ঢুকে পডে়ন মুখ্যমন্ত্রী৷ মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে রীতিমতো শশব্যস্ত হয়ে পডে়ন চা দোকানের কর্মী৷ মুখ্যমন্ত্রীকে চেয়ার দেওয়ার জন্য দৌড়াদোডি় শুরু হয়৷ ইশারায় সকলকে থামিয়ে একেবারে দোকানের উনুনশালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী৷ নিজে হাতে চা বানান৷ দিনের শেষে কী রকম রোজগার হয়? তার খোঁজখবরও নেন৷ এদিন ফের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ আবাসের টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র৷ মু্খ্যমন্ত্রীর এও অভিযোগ, যাদের ঘর ভেঙে পডে়ছে তাদের নাম ছিল তালিকায়৷ কিন্ত্ত কেন্দ্র না বাডি়র টাকা দিচ্ছে, না রাস্তার৷ পাহাডে়র উন্নয়নেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কোনও ভূমিকা নেই বলে দাবি মমতার৷ তবে রাজ্য সরকার পাহাডে়র উন্নয়নে সদা তৎপর বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী৷