বিচারপতি অভিজিতের রাজনীতি ভালো চোখে দেখছেন না বেনারসের বাঙালিরা

প্রবীর ঘোষাল, বারাণসী: বিচারপতির চেয়ার ছেড়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজ বোধহয় খুব একটা ভালো চোখে দেখছে না৷ অন্তত তিন-চারদিন ধরে বারাণসী ঘুরতে আসা বহু বঙ্গবাসীর মুখে সেটাই বার বার শুনেছি৷ তাঁদের মোদ্দা কথা, বিচারপতি হিসেবে যেভাবে অভিজিৎবাবু কাজ করেছেন, তারপর তাঁকে ভোটের মঞ্চে দেখতে একেবারেই বেমানান লাগছে৷ তারপর তিনি ‘সমাজ বদলের’ যেসব বাণী শোনাচ্ছেন, সেসবও খুবই অবাস্তব বলে মনে হচ্ছে আমজনতার৷

আমরা বেনারস বেড়াতে এসে, অনেক বাঙালি পর্যটকের সঙ্গে কথা বলেছি৷ যেহেতু ভোটের ডঙ্কা বেজে গিয়েছে, সেহেতু আলাপ-আলোচনায় অবধারিতভাবে এসে পড়েছে রাজনীতির কথা৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মা-মাটি-মানুষের সরকার সম্পর্কে ভালোমন্দ দু-রকম কথাবার্তাই শোনা গিয়েছে৷ তবে, সিংহভাগ মানুষের মুখেই মমতার প্রশংসা৷ বাংলার উন্নতির জন্য তাঁর নিরলস প্রয়াসের প্রশংসা করেছেন অনেকেই৷ তবে, সন্দেশখালি কাণ্ডে প্রথমেই শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করলে বিতর্কের অবকাশ থাকত না বলে অনেকে মত দিয়েছেন৷

আবার অভিজিৎবাবুর রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে অনেক বেশি সরব গড়পড়তা বাঙালি৷ নৈহাটি থেকে এসেছেন শ্রীধর চৌধুরি৷ মধ্যবয়সী শ্রীধরবাবু সরকারি কর্মচারী৷ সঙ্গে বলে দিলেন, ‘বিচারপতি অনুচিত কাজ করেছেন৷ এখন তো মনে হচ্ছে, চাকরি ছাড়ার আগেই তাঁর রাজনীতির সঙ্গে যোগ ছিল৷’ শ্যামবাজারের বাসিন্দা, কলেজে অধ্যাপনা করেন সর্বাণী চন্দ৷ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ তিনি৷ বললেন, ‘ভাবতাম স্যার আশুতোষের মতো একজন বাঙালিকে দেখছি৷ সত্যিই একের পর এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন অভিজিৎবাবু৷ তিনি কিনা শেষে বিজেপি দলে নাম লেখালেন?’


বারাণসী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভোটকেন্দ্র৷ কিন্ত্ত স্থানীয় মানুষদের রাজনীতিতে বিশেষ আগ্রহ নেই৷ এমনকি শনিবার মোদি সেখানে এলেন, রাস্তা আটকে পুলিশ দাঁড়ানোর পর লোকজন জানতে পারলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরে দেশের প্রধানমন্ত্রী আসছেন৷ কিন্ত্ত শিবরাত্রি উপলক্ষে বহু বাঙালি পরিবার বারাণসীতে বেড়াতে চায়ের দোকানে, রেস্তরাঁয় বসে বাংলার রাজনীতি নিয়ে গল্পে মশগুল!

এই গল্পের মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত চরিত্র সদ্য বিচারপতির পদ ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া অভিজিৎবাবু৷ আলোচনায় দেখলাম, সকলেই ধরে নিয়েছেন বিচারপতি ভোটেও দাঁড়াবেন৷ অনেকেরই ধারণা, ভোটপ্রার্থী হিসেবে ময়দানে নামলেই অভিজিৎবাবুর মোহভঙ্গ হবে৷ তখনই বুঝতে পারবেন, তাঁর দেশ গড়ার স্বপ্ন আর বাস্তবের ফারাকটা৷ আকাশ-পাতালের চেয়েও বেশি৷

গড়িয়ার বাসিন্দা বাপ্পা চৌধুরি শিক্ষিত বেকার৷ পরিবারের সঙ্গে এসেছেন বাবা বিশ্বনাথের দর্শনে৷ চায়ের দোকানে আলাপ হল৷ তিনিও অখুশি অভিজিৎবাবুর আচরণে৷ বাপ্পা বলেছিলেন, ‘রাজনীতির আঙিনায় আজকের কোনও ভালো লোকের ঠাঁই নেই৷ বিচারপতির আক্কেল সেলামী হতে আশা করি বেশি সময় লাগবে না৷’