চিটফান্ডের টাকা ফেরাতে চালু হোক ‘দুয়ারে কমিটি’

আলোক সোম
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এমপিএস-এর টাকা ফেরানোর জন্য গঠিত হয়েছিল তালুকদার কমিটি৷ এমপিএসের প্রায় ৪০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে ৫ লক্ষ আমানতকারীকে ১৭৬৫ কোটি টাকা ফেরানোর গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছিল কমিটির ওপর৷ কমিটি কাজ শুরু করেছিল ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে৷ সম্প্রতি কমিটির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, গত ১ মার্চ অবধি তাঁরা এমপিএসের ৩১৭৪ জন আমানতকারীকে ফেরাতে পেরেছেন মাত্র ২ কোটি ১০ টাকা! হাইকোর্টের লৌহ প্রাকারের অন্তরালে থাকায় এতদিন কমিটির কার্যকলাপ সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যাচ্ছিল না৷ এখন এই তথ্যগুলি প্রকাশ্যে আসায় আমানতকারীদের মাথায় হাত পড়েছে৷

কিন্ত্ত কমিটির কাজের কেন এমন শ্লথগতি, আমানতকারীদের আইনজীবীদের একাংশ কাজের এই শ্লথ গতির জন্য কমিটির অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন৷ কমিটির ওয়েবসাইটে ঢুকে জটিল এক পদ্ধতির মাধ্যমে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়৷ আমানতকারীদের বেশিরভাগই যেহেতু গ্রামবাংলার স্বল্প শিক্ষিত মানুষ, তাই তাঁদের যেতে হচ্ছে নিকটবর্তী শহর বা গঞ্জের সাইবার কাফেতে৷ সেই কাফে যাঁরা চালান তাঁরাও যথেষ্ট পারঙ্গম নন৷ ফলে আবেদনটিতে ত্রুটি-বিচু্যতি থেকে যাচ্ছে এবং সেটি পত্রপাঠ বাতিল হয়ে যাচ্ছে৷ আবার নতুন করে আবেদন করতে হচ্ছে, আবারও সেটি একইভাবে বাতিল হচ্ছে এবং এইভাবেই চলতে থাকছে৷ সাইটের ছাঁকনি গলে বেরোতে পারছেন দু’চারজন৷ বাকিদের তাঁতের মাকুর মতো একবার ঘর, একবার কাফেতে ঘুরপাক খেতে হচ্ছে৷

একজন গরিব খেটেখাওয়া মানুষের পক্ষে নিজের কাজকর্ম ফেলে এইভাবে বারে বারে সাইবার কাফেতে গিয়ে পড়ে থেকে কার্যসিদ্ধি করা সম্ভব? প্রত্যেকবার তাঁদের কিছু অর্থদণ্ডও দিতে হচ্ছে৷ সেইজন্যই আমানতকারীদের আইনজীবীদের একাংশ ‘অনলাইন’ ব্যবস্থার বদলে ‘অফলাইন’ ব্যবস্থা চালু করার দাবি রেখেছেন৷ আমানতকারী তাঁর সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে কমিটির অফিসে উপস্থিত হবেন৷ কমিটির আমলারা সেইসব কাগজপত্র যাচাই করে সন্ত্তষ্ট হলে সরাসরি তাঁকে টাকা পেমেন্ট করে দেবেন৷ কাগজপত্র যথাযথ না হলে কী করণীয় সেটাও বাতলে দেবেন৷ সেই পরামর্শ মেনে আমানকারী তাঁর আবেদনের নিষ্পত্তি করে চলে যাবেন৷


এক্ষেত্রে মুশকিল হচ্ছে, দুশো-পাঁচশো বা দু’হাজার পাঁচ হাজার টাকার জন্য কোনও আমানতকারীর পক্ষে মালদা বা মুর্শিদাবাদ, দিনহাটা বা দিনাজপুর থেকে কলকাতায় কমিটির অফিসে আসা খুবই কঠিন ব্যাপার৷ প্রথমত বেশিরভাগ আমানতকারীই একা আসতে পারবেন না৷ তাঁকে একজনকে সঙ্গে করে আনতে হবে৷ সেক্ষেত্রে উভয়েরই এক বা দু’দিনে রুটিরুজি নষ্ট হবে৷ আসা যাওয়া থাকা ও ফিরে যাওয়ার খরচও কম হবে না৷ তেমন ক্ষেত্রে কমিটির ডাক পেয়েও হয়ত অনেক আমানতকারী আসতে পারবেন না৷

মজার কথা হচ্ছে, কমিটির দায়িত্বভার হাতে নিয়েই অফলাইন পেমেন্টের এই সমস্যার দিকটি আন্দাজ করে ফেলেছিলেন বিচারপতি শৈলেন্দ্রপ্রসাদ তালুকদার এবং এই সমস্যার সমাধানের পথটিও ছকে ফেলেছিলেন তিনি এবং সেকথা জানিয়েও দিয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমে৷ এই প্রসঙ্গে কলকাতার এক দৈনিক সংবাদপত্র ০৪.০৩.২০১৬ তারিখে ‘এমপিএস-র টাকা ফেরাতে প্রশাসনেই আস্থা কমিটির’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে লিখেছিল, ‘‘সারদায় প্রতারিতদের টাকা ফেরানোর জন্য সরাসরি কলকাতায় এসেই আবেদন জানাতে বলেছিল বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশন৷ কিন্ত্ত এমপিএসের প্রতারিতদের টাকা ফেরাতে বিপরীত পতেই হাঁটতে চাইছে বিচারপতি শৈলেন্দ্রপ্রসাদ তালুকদার কমিটি৷ টাকা ফেরাতে জেলাস্তরেই প্রতারিতদের আবেদন জানানোর পরিকল্পনা করেছে কমিটি৷ রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকেই ব্যবহার করে এ কাজে এগোতে চাইছে তারা৷ জানা গিয়েছে, আবেদনপত্র গ্রহণ এবং সেগুলি প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখার কাজটি জেলা প্রশাসনের ওপরই ছাড়তে চাইছে কমিটি৷

কিন্ত্ত কেন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সে কাজ করতে চাইছে কমিটি? বিচারপতি তালুকদারের কথায়, প্রতারিতদের আমাদের কাছে পেঁৗছনোর দরকার নেই, আমরাই তাঁদের কাছে পেঁৗছতে চাইছি৷ তাঁরা ইতিমধ্যেই অনেক হয়রানি ও প্রতারণার শিকার৷ ফের যাতে তাঁদের আর হয়রানি না হয় সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য৷

কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশনের অভিজ্ঞতাও এভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে কমিটিকে৷ সারদায় ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৩ লাখ৷ তার মধ্যে ৫ লক্ষ ভুক্তভোগীকে প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশন৷ কিন্ত্ত পাঠানোর পরেও প্রায় ১০২ কোটি টাকার চেক ফেরত চলে আসে কমিশনের দফতরে৷ কারণ আবেদনপত্রে ভুল ঠিকানার কারণে তা পেঁৗছনো যায়নি৷ শুধু তাই নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষ কলকাতায় এসে আবেদন জানানোয়, একদিকে যেমন তাঁদের হয়রানিও হয়েছিল, তেমনি কমিশনের দফতরে ত্রাহি ত্রাহি রব পড়ে গিয়েছিল৷ তবুও সেই কমিশনে ছিলেন ৭০ জন কর্মী, আর এমপিএসের টাকা ফেরাতে গঠিত কমিটিতে রয়েছেন মাত্র ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী৷ স্বভাবতই, এই সংখ্যক কর্মী দিয়ে ওই কাজ সামলানো দুঃসাধ্য৷

কত মানুষ টাকা রেখেছিলেন এমপিএসে? তাঁদের গচ্ছিত টাকার পরিমাণই বা কত? এখনও এই ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা নেই কমিটির কাছে৷ তবে সেই সংখ্যা ৫ লক্ষেরও বেশি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে৷ কমিটি মনে করছে, বিকেন্দ্রীভূতভাবে জেলার মাধ্যমে ব্লক স্তরে আবেদন জানানোর এবং তা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা করা গেলে একদিকে যেমন চাপ কমবে, অন্যদিকে প্রতারিতদের হয়রানিও এড়ানো যাবে৷ তবে, কবে থেকে, কতদিনের মধ্যে সেই আবেদন জানাতে হবে, তা এখনও স্থির করেনি কমিটি৷ বিচারপতি শৈরেন্দ্রপ্রসাদ তালুকদার জানান, এ বিষয়ে পাবলিক নোটিস দিয়েই জানানোর ব্যবস্থা করা হবে যথাসময়ে৷’’

প্রশাসনিক কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে জেলার মাধ্যমে ব্লক স্তরে আবেদনের নিষ্পত্তির এমন এক চমৎকার পরিকল্পনা থেকে সরে গিয়ে কেন কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ব্যবস্থায় গেল কমিটি, সেটা একটা রহস্য৷ তবে তার ফল যে ভালো হয়নি সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝছেন আমানতকারীরা৷ তাই বর্তমানের কেন্দ্রীভূত অনলাইন ব্যবস্থা বাতিল করে বিচারপতি তালুকদারের সাবেক পরিকল্পনামাফিক অফলাইন ব্যবস্থা অর্থাৎ ব্লকের মাধ্যমে আবেদনের নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু করা উচিত হবে বলে মনে করছেন আমানতকারীদের ওই আইনজীবীরা৷

ব্লক অর্থাৎ রাজ্য প্রশাসনিক পরিকাঠামোর মাধ্যমে আবেদনের নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু করা জরুরি বা অনিবার্য হয়ে ওঠার আরও একটি কারণ, এখন শুধু এমপিএস নয়, কমিটির ঘাড়ে এসে পড়েছে সারদা-সহ আরও ৫৪টি সংস্থা, যাদের সম্পত্তির মূল্য অন্তত ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকা, আমানতকারীর সংখ্যা অন্তত ৪০ লক্ষ৷ একটি কেন্দ্রীয় দফতরের মাধ্যমে এখন বিপুল সংখ্যক আমানতকারীর আবেদনের নিষ্পত্তি সম্ভব?
এখন ওই ব্লক স্তরের প্রশাসনিক পরিকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির সুবাদে৷ ওই কর্মসূচির অনুকরণে ‘দুয়ারে কমিটি’ কর্মসূচি চালু করা গেলে আমানতকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিকটবর্তী শিবিরে নিয়ে গিয়ে আবেদন জানাবেন৷ আবেদন যথাযথ হলে পেমেন্টের ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন৷ আর আবেদন যথাযথ না হলে ওখানে বসেই ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাড়ি থেকে এনে সঙ্গে সঙ্গে আবেদনের নিষ্পত্তি করে চলে যেতে পারবেন৷ অতঃপর তাঁদের সবার ছাড়পত্র অনলাইন ব্যবস্থা মারফত চলে আসবে কেন্দ্রীয় অফিসে৷ সেখান থেকে পেমেন্ট হয়ে যাবে দিনের দিনই কিংবা যত দ্রুত সম্ভব৷

প্রয়োজনে আমানতকারীদের আইনজীবীদের নিয়ে কয়েকটি পরিদর্শক দল গড়ে দেওয়া যেতে পারে, যাঁরা শিবিরে শিবিরে ঘুরে ঘুরে কাজের তদারক করবেন এবং ভুলত্রুটি দেখলে সেগুলি শুধরে নেওয়ার পরামর্শ দেবেন, আর সেই ভুলত্রুটি যদি পদ্ধতিগত হয় তাহলে সেটা কমিটির কাছে রিপোর্ট করবেন৷ কমিটি সেগুলি শুধরে নেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেবেন৷

তবে সরকারকে শুধু আবেদনের নিষ্পত্তির ভার দিলেই হবে না, দিতে হবে চিটফান্ডের সম্পত্তি বিক্রির দায়িত্বও৷ সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ওইসব ৫৫টি কোম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির একাংশ এতদিনে বেহাত হয়ে গেছে, একাংশ পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে, বাকি অংশ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামলে এখনও উদ্ধার হওয়ার আশা আছে৷ আরও দেরি করলে সে সবের পরিণাম হবে সঞ্চয়িতা, ভেরোনা, ওভারল্যান্ডের মতোই৷

সঞ্চয়িতা, ভেরোনা, ওভারল্যান্ড হতে চলা এমনই একটি সম্পত্তি বা প্রকল্প এমপিএসের দহিজুড়ি বহুমুখী কৃষি খামার৷ ওই খামারটির পরিণাম কী হয়েছে তার একটা আন্দাজ পাওয়া যেতে পারে ১০.০২.২০১৯ তারিখে একটি বৃহৎ সংবাদপত্রে প্রকাশিত ‘রিসর্ট কিনুক সরকার, আর্জি প্রতারিতদের’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি থেকে— ‘‘কয়েকশো একর জমির ওপর তৈরি হয়েছিল বিলাসবহুল রিসর্ট৷ সেখানে কৃষি খামারের পাশাপাশি ছাগল, গরু, মুরগি, শুয়োরের খামারও ছিল৷ মাছ চাষও হত৷ জৈব সার ব্যবহার করে হরেক কিসিমের আনাজ ফলানো হত৷ ছিল ফলের বাগান৷ ঝাড়গ্রামের উপকণ্ঠে দহিজুড়ির দিঘিশোলে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা এমপিএসের ওই রিসর্ট এবং কৃষি খামার কেন্দ্র অথবা রাজ্য সরকারকে অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে৷ সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি শেখর ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চে ওই প্রস্তাব দেন ওই অর্থলগ্নি সংস্থার আমানতকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, অরিন্দম দাস৷ রিসর্টটি এখন বন্ধ রয়েছে৷

বিভিন্ন অর্থলগ্নি সংস্থার আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শৈলেন্দ্রপ্রসাদ তালুকদারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়ে দিয়েছে হাইকোর্ট৷ কমিটির কাজের তদারকি করছেন বিচারপতি বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ৷ এমপিএসের আমানতকারীরা টাকা ফেরত না পেয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন৷ তাঁদের দায়ের করা মামলার শুনানিতে সম্প্রতি বিকাশবাবুরা প্রস্তাব দেন, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারকে ঝাড়গ্রামের ওই রিসর্টটি কিনে নিতে নির্দেশ দিক ডিভিশন বেঞ্চ৷ যে টাকা মিলবে সেই টাকা আমানতকারীদের বিলি করে দেওয়া যেতে পারে৷ আইনজীবীরা আদালতে জানান, হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার ওই রিসর্টের দামের মূল্যায়ন করেছে ৮৮৭ কোটি টাকা৷ আইনজীবীরা জানান, তালুকদার কমিটির কাছেও আমানতকারীরা এমন প্রস্তাব দিয়েছেন৷

আইনজীবীরা জানান, দিঘিশোল মৌজায় প্রায় ৬০০ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে ওই রিসর্ট৷ খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ বিভাগ ও মিনারেল ওয়াটার তৈরির প্ল্যান্টও ছিল সেখানে৷ বন্ধ হওয়ার সময় স্থানীয় ৯ হাজার বাসিন্দা এমপিএসের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করতেন৷ রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার রিসর্টটি অধিগ্রহণ করে পুনরায় চালু করলে ওই এলাকায় বেকারত্ব কমবে৷ স্থানীয় বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন৷

২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ‘এমপিএস গ্রিনারি ডেভেলপার্স লিমিটেড’ সংস্থার যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল নেওয়ার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিল৷ তার পরেই জেলা প্রশাসন রিসর্টটি বন্ধ করে দেয়৷ আইনজীবী অরিন্দম দাস জানান, এমপিএসের ওই রিসর্ট নিলামের জন্য তিন বার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, কেউ কিনতে আগ্রহ দেখাননি৷ চতুর্থবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্ত্ততি শুরু হয়েছে৷ এবারেও কেউ আগ্রহ না দেখালে ফের আদালতে আবেদন জানানো হবে, রাজ্য বা কেন্দ্রকে ওই রিসর্টটি কিনে নিতে নির্দেশ দেওয়া হোক৷

আইনজীবী জানান, ‘সারদা, রোজভ্যালির মতো অর্থলগ্নি সংস্থার হোটেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আদালতের নির্দেশে৷ কিছু ক্ষেত্রে আবার কোর্টেরই নির্দেশে সমবায় তৈরি করে কর্মীরা সংস্থা চালাচ্ছেন৷ ঝাড়গ্রামের রিসর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক দিকে ৯ হাজার লোক কর্মহীন হয়েছেন, তেমনই কেউ কিনতে না চাওয়ায় আমানতকারীদের টাকা ফেরতের বিষয়টিরও সমাধান হচ্ছে না৷’

এই রিপোর্ট প্রকাশের পর পাঁচ বছর অতিক্রান্ত৷ ঝাড়গ্রামের ওই বিলাসবহুল রিসর্টটি এখন সম্পূর্ণ ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে৷ কোন মূর্খ কিনবে সেই ভাগাড়? সুতরাং সরকারি অধিগ্রহণ ছাড়া গত্যন্তর নেই৷ কিন্ত্ত আদালত কোনও সম্পত্তি কেনার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারে না৷ সেইজন্য আমানতকারীদের সংগঠনগুলিকে সম্মিলিতভাবে সরকারের কাছে আবেদন জানাতে হবে ওই সম্পত্তি অধিগ্রহণের জন্য৷

তবে একটা প্রশ্ন অবশ্যই তোলা যায়৷ সরকারকে যদি ওই রিসর্টটি অধিগ্রহণ করে পুনরায় চালু করার দায়িত্ব নিতেই হয়, তাহলে সেটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কেন? এমপিএসের সঞ্চয় প্রকল্পগুলি যে বিধিসম্মত ছিল না, একথা সত্য৷ কিন্ত্ত সেই কারণে আমানতকারীদের টাকায় বিধিসম্মতভাবে তৈরি ওই রিসর্ট তথা বহুমুখী কৃষি খামারটি বন্ধ করে দেওয়া বিধিসম্মত হয়েছিল কি? ঔচিত্যের প্রশ্নটিকে যদি বাদও দেওয়া যায়, কোনও অবৈধ সম্পর্কের জেরে কোনও সন্তানের জন্ম হলে, রাষ্ট্র সেই সন্তানকে গলা টিপে মেরে ফেলবে, না কি তাকে বাঁচিয়ে রাখার এবং মানুষ করার দায়িত্ব নেবে?

কী ছিল দহিজুড়ির ওই রিসর্ট তথা বহুমুখী কৃষি খামার, তার কিছু কিছু ছবি ধরা আছে সংবাদপত্রের পাতায়, বিশেষ করে মার্কসবাদী মুখপত্র এবং একটি সহযোগী বামপন্থী পত্রিকায়৷ সেই ছবিগুলিতে চোখ রাখলে বোঝা যাবে আমাদের অবিমৃশ্যকারিতার বহরটা৷ তবে সে বৃত্তান্ত বারান্তরে৷