শমিত মণ্ডল
রানির বর হরি যে এমন হুট করে মরে যাবে, তা কে ভেবেছিল! রানি নিজে তো ভাবেইনি, রানির বোবা শাশুড়ি এমনকি পাড়া- প্রতিবেশী কেউই ভাবেনি। হয়তো হরিও ভাবেনি। মাঝেমাঝেই পেট ব্যথা হতো হরির। বাজার চলতি ওষুধ খেয়ে সামাল দিত। ইদানিং হোমিওপ্যাথ কানাই ঠাকুরের ওষুধ খেয়ে ভালোই ছিল। বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে বাজার কমিটির মাতব্বরদের পিকনিকে অংশগ্রহণ করবে বলে বাড়ির রাতের মিল অফ করে দিয়েছিল। বাজারের মধ্যে হরির স্টেশনারি দোকান। বিক্রিবাটা ভালোই হয়। রানি অবশ্য সাবধান করে দিয়েছিল— তুমি পেটরোগা মানুষ, বুঝেশুনে খাবে কিন্তু। আর খবরদার মদের আসরে বসবে না। সাবধান।
Advertisement
কিন্তু দুঃখের বিষয় রানির সাবধানবাণী কোনও কাজে আসেনি। ইয়ার-বন্ধুদের ‘আন্তরিক’ অনুরোধ, মাঝেসাঝে মদ খেলে হার্ট ভাল থাকে, মদ না খেলে সে আবার পুরুষ মানুষ? এরকম পরামর্শ, হালকা ধিক্কার ঠেলে বেচারা হরি আত্মপ্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। হয়তো সে নিজেও ভেতরে ভেতরে ইচ্ছুক ছিল। কেননা বোতলবন্দী এই পানীয়ের স্বাদ-গন্ধ তার অপরিচিত নয়। আজ না হয় সে পেটরোগা, কিন্তু চিরকাল তো সে এমন ছিল না।
Advertisement
তা হরি খেল, ভালোই খেল। তার প্রিয় খাসির মাংস সে খেল মন্দ না। সঙ্গে মাপমতো ফ্রায়েডরাইস। বন্ধুরা বাহবা দিল। সুগন্ধি পান খেলে কী হবে, রানি ঠিক টের পেল বোতলবস্তুর সুবাস। গভীর রাতে সে আর চেঁচামেচি করল না। শুধু হিসহিস করে বলল— সকাল হোক, তোমার হচ্ছে! কিন্তু সে সৌভাগ্য আর রানির হল না। ভোর থেকে হরির শুরু হল বমি-পায়খানা। ঘরের ওষুধে কোনো কাজ হল না। রানি ভয় পেয়ে সামনের বাড়ির মাসিমাকে ডেকে আনল। মাসিমা মহকুমার বড় হাসপাতালের আয়া। তিনি নুন-চিনির সরবত খাওয়ানোর নিদান দিয়ে তখনি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিতে বললেন।
ঘণ্টা দেড়েক পরে যখন হরিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল, তখন হরির কথা জড়িয়ে গেছে। হাত-পা ঠান্ডা। চিকিৎসা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে হরি চোখ বুজল। আকস্মিকতার অভিঘাতে রানি থম মেরে গেল। দুশ্চিন্তা শোককে ঠেকিয়ে রাখল। হাত শূন্য। দুটো মানুষের পেট চলবে কী করে? সংসারে নানারকমের খরচ। হরির বাজারি বন্ধুরা এগিয়ে এল। দোকানের বিশ্বস্ত কর্মচারী গৌতম সাহস দিল— বৌদি আপনি দোকান খুলুন। আমি তো আছি, কোনো অসুবিধা হবে না। প্রথম প্রথম একটু বাধো-বাধো লাগত। আস্তে আস্তে তা কেটে গেল। বরং এখন অনেক মেয়ে-বৌরা আসে, সাজগোজের জিনিস, মেয়েদের ব্যক্তিগত জিনিস স্বচ্ছন্দে কেনাকাটা করে।
সানি, হরির মৃত্যুর দিন থেকেই সঙ্গে সঙ্গে ছিল। শ্মশান-খরচ, শ্রাদ্ধের বেশির ভাগ খরচ সানিই দিল। বাজারে বিরাট সারের দোকান। রমরম করে চলছে। প্রায় রোজই একবার করে আসে বাড়িতে। কী লাগবে, না লাগবে খোঁজ-খবর নেয়। এটাসেটা সাংসারিক জিনিস হাতে করে আনে। প্রথম প্রথম না-না করত রানি। কিন্তু সানি শুনলে তো! সত্যি কথা বলতে কী সানির জবরদস্ত বাইকের গোঁ-গোঁ শব্দ শুনতে পেলে এখন খুশি হয় রানি।
হরির মৃত্যুর পর রানির শাশুড়ি কেমন জবুথবু হয়ে গেছে। এখন শুধু কাঁদে, কেমন একটা বিকট শব্দ করে কাঁদে। আগে যেটুকু কাজকর্ম করত এখন সেটুকুও করে না। কেমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। রানি প্রথম প্রথম শাশুড়ির সঙ্গে নিজেও কেঁদেছে, সান্ত্বনা দিয়েছে, কিন্তু এখন আর শোককে প্রশ্রয় দেয় না। কেন না জীবনের যে লড়াই ও লড়ছে, তাতে কাঁদলে চলবে না।
এখন কান্না মানেই পিছিয়ে পড়া। তাছাড়া একলা একটা স্বাধীন জীবনের যে স্বাদ সবেমাত্র পেতে শুরু করেছে, তাকে রানি নষ্ট করতে চায় না। এই সব কারণে শাশুড়ির সঙ্গে দূরত্ব কিছুটা তৈরি হয়েছে।
এদিকে দিনে দিনে সানির চোখের ভাষার পরিবর্তন ঘটছে। আগে ছিল উপকারীর বরাভয়। কিন্তু এখন ভালোবাসার অনেক অব্যক্ত কথা। কদমের ডালে প্রথমে আসে কুঁড়ি, তারপরে ফোটে ফুল। প্রথমেই তো ফুল ফোটে না! এখন শুধু অপেক্ষা। বর্ষার ঘনঘোর মেঘের মতো, যে কোনো সময় বৃষ্টি নামতে পারে। রানি প্রতীক্ষা করছে ওই বৃষ্টির জন্য।
দোকান-বাজার, পাড়ার মধ্যে দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে যে একটু আধটু কানাকানি চলছে না, এমন নয়। রানি এসব গায়ে মাখে না। লোকেদের কাজই তো কূটকচালি করা। বরং এতে রানির সুবিধা হল। যেটুকু আগল ছিল, তাও মুছে গেল। রানি এখন স্বচ্ছন্দে সানির বাইকে চেপে রোল খেতে যায়।
বৃহস্পতিবার বাজারের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। আগের দিন প্রস্তাব দিল সানি— চলো, কাল দু’জনে সিনেমা দেখে আসি। শুনেছি অক্ষয় নাকি ফাটাফাটি অভিনয় করেছে। রানি শাশুড়িকে খাইয়ে দাইয়ে বেরোল। কিন্তু বেরোবার সময় শাশুড়ি কেমন একটা অদ্ভুত শান্ত চোখে তাকিয়ে থাকল। রানি ওই অস্বস্তিকর দৃষ্টি থেকে তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে পড়ল।
এই প্রথম রানির হাত ধরল সানি। না, সিনেমা হলে পাশে বসে কোনো দুষ্টুমি করেনি সানি। কিন্তু সিনেমা শেষে এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে চাইল না। ‘খিদে পেয়েছে’ বলে ছোট ছেলেদের মতো বায়না করে একটা দামি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল রানিকে।
রানি না-না করেছিল। শাশুড়ি বাড়িতে একলা আছে তাও জানাতে ভুলল না। সানির ওই এক কথা— কতক্ষণ আর লাগবে! খাবারের অর্ডার দিয়ে প্রতীক্ষার সময় রানির হাত নিজের হাতের মধ্যে টেনে নিল সানি। গাঢ় গলায় বলল— এবার তো একটা ডিসিশন নিতে হবে তোমাকে। আমি তো মাইরি ফিদা হয়ে আছি। অনেক দিন তো হলো!
রানির মনে হল রেস্টুরেন্টে নয়, একটু আগে দেখা সিনেমার গোলাপ বাগানে ও যেন বসে আছে, মাথার ওপর দিয়ে হু-হু করে রঙিন মেঘ ভেসে যাচ্ছে। নায়ক আর নায়িকা দু’জন কেমন মাটিতে পা না ছুঁইয়ে ভেসে ভেসে হেঁটে আসছে দর্শকদের দিকে, নেপথ্যে একটা চমৎকার গানও শোনা যাচ্ছে, সঙ্গে মানানসই বাজনা। সেরকমই এখন শুধু ওরা দু’জন। এই জগতচরাচরে আর কেউ কোথাও নেই। আর কী চাই! স্বপ্ন দেখতে তো বাধা নেই কোনো।
দু-স্টেশন উজিয়ে জেলার বিখ্যাত দোলমেলা। দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ এই মেলায় আসে। অনেকটা জায়গা জুড়ে বিরাট মেলা বসবে। সার্কাস, ইলেকট্রিক নাগরদোলা, মরণকূপ, কথা বলা পুতুল, ভবিষ্যৎদ্রষ্টা টিয়াপাখি আরো কত কিছু! ক’দিন পরে শুরু হবে মেলা। সানি প্রস্তাব দিল মেলা দেখতে যাওয়ার। পুরোটাই যাওয়া হবে সানির বাইকে। বাইক! আহ্ সানির চেয়েও যেন বেশি পুরুষালি ওর বাইকটা! কেমন হু-হু করে চলে! এ গাড়ি সে গাড়ির পাশ কাটিয়ে, অনেক গাড়ির ভিড়ে ঠিক ফাঁকফোকর খুঁজে ফাঁকা রাস্তায় চলে আসে। ওর গাড়িতে চড়ার মজাই আলাদা।
ধোপদুরস্ত পোশাক খুব বেশিদিন অমলিন থাকে না। সে যতই না তুমি সাবধানে রাখো। চলার পথে কিছু না কিছু ধুলো-ময়লা ওই পোশাকে লাগবেই। অনেকটাই সামলে-সুমলে চলছিল রানি; দেখাদেখি সানিও। কিন্তু একসঙ্গে আসা-যাওয়া করার সময় হালকা হাসি, বা দুটো একটা ছোট মন্তব্য ওদের কানে এলেও ওরা তা গায়ে মাখেনি। কিন্তু সেদিন হলো কী চৌমাথার মোড়ে ভিড়ের রাস্তায় তিনটে ছেলে একটা বাইকে চেপে যাচ্ছিল। তা যাক না, নিষেধ তো নেই। কিন্তু কিছুতেই সানির বাইককে রাস্তা দিচ্ছিল না। সানি বারবার হর্ন বাজিয়ে রাস্তা চাইছিল। একটু ফাঁকা পেয়ে সানি ওদের পাশ দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় ওরা একসঙ্গে বিকট স্বরে উলুধ্বনি করে উঠল। সঙ্গে বিচ্ছিরিভাবে চেঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করল— অ্যাই সানি, এইটা কি তোর বউ নাকি রে? উলু উলু উলু…। সানি সঙ্গে সঙ্গে বাইক ঘুরিয়ে ওদের কাছে এল। রানির নিষেধ অগ্রাহ্য করে বাইক থেকে নামল সানি। রানি দেখল ছেলেগুলোর বয়স বেশি নয়। সবাই মুখচেনা। শুরু হল তর্কাতর্কি, গালাগালি। হাতাহাতি শুরু হওয়ার মুখে পথচারী মানুষজন ছাড়িয়ে দিল ওদের। ছেলেগুলো দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে হুস করে বাইক চালিয়ে চলে গেল।
একবুক মনখারাপ নিয়ে বাড়িতে ফিরল রানি। মনে হল যেন একগলা কাদাপাঁক ঠেলে বাড়ি ফিরল। তাড়াতাড়ি খেতে দিল শাশুড়িকে। নিজে কিছুই খেল না। শুয়ে পড়ল তাড়াতাড়ি। ঘুম নেই চোখে। চোখ বন্ধ অবস্থায় টের পেল শাশুড়ি এসেছে ঘরে। চোখ খুলল রানি। দেখল শাশুড়ি এসে রানির মাথার কাছে বসল। রানির মাথায়, কপালে খুব আদরে, মমতায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। রানি আর পারল না। এতক্ষণের চেপে রাখা অবরুদ্ধ আবেগ এবার কান্নায় রূপান্তরিত হল। ডুকরে কেঁদে উঠল রানি।
শিমুল-পলাশ আর মাদার ফুলের রঙের ছটার সঙ্গে সঙ্গে এসে গেল দোল মেলা। দোলের দিন রঙের ভয়ে মেলায় গেল না ওরা। গেল তার পরের দিন। রানি এবার সঙ্গে নিল ওর শাশুড়িকে। তা নিয়ে মুখ ভার করল সানি।
—আঃ, ওই বুড়িটাকে আবার নেওয়ার দরকার কী!
—আহা, বাড়িতেই তো থাকে সারা দিন। এত বড় একটা ধাক্কা গেল! মানুষজনের মুখ দেখতে পেলে মনটাও ভালো লাগবে।
—যত সব ফালতু ঝঞ্ঝাট। সানি তেতো গেলার মতো মুখ করে বলল।
—চলোই না। দেখো, খারাপ লাগবে না। মানুষটা এমনিতে খারাপ না।
—হ্যাঁ, ধোয়া তুলসি পাতা! শালা এমন করে তাকায় মনে হয় চোখ দুটোতে মেশিন চালিয়ে দিই।
—ছিঃ! ভর্ৎসনার দৃষ্টিতে সানির দিকে তাকাল রানি।
না, বাইক নয়, শাশুড়ির সঙ্গে ট্রেনে চাপল রানী। স্টেশনের গেটের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল সানি। ওরকমই কথা হয়েছিল। একটা টোটো ওদের মেলার পাশে মাঠে নামিয়ে দিল। টোটোওয়ালা ছেলেটা বলল— আপনারা বেলাবেলি এসেছেন তাই মেলা পর্যন্ত আসতে পারলেন। এরপর গাড়ি আটকে দেবে। তখন যারা আসবে তাদের অনেকটা রাস্তা হেঁটে আসতে হবে। রানি দেখল দলে দলে লোক চলেছে মেলায়। কাছেই রাধাকৃষ্ণের মন্দির। সেখানে পুজো দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু হরি মারা গিয়েছে এখনও এক বছর হয়নি, অশৌচ চলছে। পুজো দেওয়া না গেলেও দেবতা দর্শনে বাধা নেই। রানি যত্ন করে শাশুড়ির হাত ধরে মন্দিরে নিয়ে গেল। বুড়ির দু’চোখে জল। এদিকে সানি সমানে ঘ্যান-ঘ্যান করে চলেছে ইলেকট্রিক নাগরদোলায় চাপবে। মেলার হাজার মজা না লুটলে এখানে আসা কেন? ওতো আগেই বলেছিল এ সব বুড়িধুরিদের নিয়ে মেলায় আসার দরকার নেই। সানির ওপর বিরক্ত হয়ে রানি শাশুড়িকে মন্দিরের বারান্দায় বসিয়ে ‘এক্ষুণি আসছি’ বলে নাগরদোলার দিকে এগিয়ে গেল।
নাগরদোলার সামনে তুমুল ভিড়। অনেকক্ষণ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তারপরে দু’জন উঠতে পেল। সানি আইসক্রিম খেতে খেতে হ্যা-হ্যা করে হাসতে লাগল। তখনই নাগরদোলা থেকে রানি দেখতে পেল ছেলে দুটোকে। সেদিনের বাইকে ছিল। এখন দু’জন নাগরদোলার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে।
দু’জনের মুখে গা-জ্বালানো হাসি। বোঝা গেল পায়ে পা বাঁধিয়ে ঝগড়া করতে চায়। রানি সাবধান করে দিল সানিকে। সানি যেন ওদের পাতা ফাঁদে পা না দেয়।
প্রথমে এল ধুলোঝড়। তারপরে সত্যিকারের ঝড়। সঙ্গে মেঘ গর্জন আর তুমুল বৃষ্টি। দু-একটা দোকানের হালকাপলকা চালা ঝড়ের দাপটে উড়ে গেল। আগেই থেমে গিয়েছিল নাগরদোলা। ছেলে দুটোও কখন যেন চলে গিয়েছিল। একটা লোহালক্কড়ের দোকানে দাঁড়াতে চেয়েছিল সানি। কিন্তু রানি রাজি হল না। মন্দিরে, শাশুড়ির খোঁজে চলল। অন্ধকার। তার ছিঁড়ে গেছে। কারেন্ট আসেনি এখনও। সানি ওর মোবাইলের টর্চ জ্বাললো। নেই। যেখানে বসেছিল রানির শাশুড়ি সেখানে নেই। আশেপাশে কোথাও নেই। সবাই ঝড়জল নিয়ে ব্যস্ত। একটা বুড়ির খোঁজ কে রাখে! তারপরে আলো এল। সারা মেলা তন্নতন্ন করে খুঁজেও মানুষটার দেখা পাওয়া গেল না। মেলার পুলিশ ফাঁড়িতে সব জানানো হল। আরও অনেক মানুষ হারিয়েছে। এবার রানির শাশুড়ির নামে ঘোষণা শুরু হল— পারুলবালা দাস, আপনি যেখানেই থাকুন পুলিশ ফাঁড়িতে চলে আসুন, আপনার বাড়ির লোকেরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, পারুলবালা দাস…। রানি কেঁদে ফেলল।
এখন গভীর রাত। সারা পাড়া ঘুমিয়ে। রানি চোখের জল মুছে অবাক হয়ে দেখল অন্ধকারে একটা উজ্জ্বল দ্বীপের মতো শুধু ওদের বাড়িতেই আলো জ্বলছে। কারা যেন কথা বলছে। গেটের শব্দ পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল মেলার ছেলে দুটো। পেছনে রানির শাশুড়ি। রানি দৌড়ে গিয়ে শাশুড়িকে জড়িয়ে ধরল। শাশুড়ির মুখে একগাল হাসি। একটা ছেলে বলল— ঠাকুমাকে বহুত মেহনত করে খুঁজে পেয়েছি। বৌদি, একটু চা খাওয়াও না মাইরি! অন্য ছেলেটা হাই তুলে বলল— বেশ, কড়া করে করবে। হেভি ঘুম পেয়েছে। মেলায় অনেক মানুষ থাকলেও রানির মনে হচ্ছিল ও যেন একটা জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপের মধ্যে ছিল। ও যেন একা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর এখন? ও আর একা নেই। এখন ও একটা আশ্রয় পেয়েছে।
Advertisement



