শ্রেণিকক্ষে পড়ুয়ারা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না, বিজ্ঞপ্তি জারি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের

Mobile Phone Restricted Classroom Photo-ANI

মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের অনেকের হাতেই এখন স্মার্টফোন রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোন কিনে দিয়েছেন। যাতে পথেঘাটে কোনও সমস্যা হলে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন। আবার পরিবারের লোকজনের কোনও প্রয়োজন হলে তাঁরা যোগাযোগ করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ছাত্রের সঙ্গে। কিন্তু দেখা গিয়েছে, সেই মোবাইল ফোন শ্রেণিকক্ষে অনেকে ব্যবহার করছেন। প্রযুক্তির অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকী সঙ্গে মোবাইল ফোন থাকায় ছাত্রের পড়াশোনায় মনঃসংযোগ নষ্ট হচ্ছে। তাই রাজ্যের স্কুলগুলির পড়াশোনার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

এই শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা নিয়ে নানা অভিযোগ জমা পড়ে প্রথমে স্কুলগুলিতে। তারপর স্কুলগুলির মারফত সেটা জানতে পারে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। আর তারপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবার থেকে শ্রেণিকক্ষের ভিতরে শিক্ষার্থী বা পড়ুয়ারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। এই খবর সামনে আসতেই পড়ুয়াদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে কদিন আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজ্যের সমস্ত জেলার বিদ্যালয়গুলিতে এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্দেশিকা প্রত্যেকটি জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং নির্দেশাবলী মেনে চলতে হবে।

এই কড়া বার্তা তাঁরা পেয়ে এখন পড়ুয়াদের দিকে বাড়তি নজর দিতে শুরু করেছেন। প্রত্যেকটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা ঘুরতে শুরু করেছেন। ছাত্রছাত্রীদের স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যালয়ের ভিতরে শ্রেণিকক্ষের অন্দরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। যুগের সঙ্গে প্রযুক্তি ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে যাওয়ায় এখন বহু শিক্ষার্থীই স্কুলে স্মার্টফোন নিয়ে আসে। এমনকী ক্লাস চলাকালীন অথবা টিফিনের সময়ে স্কুলের ভিতরে ভিডিও এবং সমাজমাধ্যমে রিল তৈরি করার মতো অভিযোগও উঠেছিল একাধিকবার। শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনের উপস্থিতি পড়ুয়াদের মনোযোগ নষ্ট করছিল এবং ছবি বা ভিডিও তোলাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। সেখানে শৃঙ্খলা ফেরাতে ছাত্রদের পড়াশোনাই যে ধর্ম তা মনে করাতে এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে।


তাছাড়া মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কেন এমন পদক্ষেপ করল সেটার কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি বিজ্ঞপ্তিতে। কিন্তু এখন তো নানা কারণে অনলাইন ক্লাস হয়। সেটা যদি হতে পারে তাহলে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ব্যবহার কেন করতে পারবে না? উঠছে প্রশ্ন। আর আগেই পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদও মোবাইল ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের একই পথে হাঁটল। রাজ্যের প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক  সর্বস্তরেই পঠনপাঠনের ভিতরে মোবাইলের প্রবেশ বন্ধে জল কতদূর গড়ায় এখন সেটাই দেখার।