বুকে ব্যথা নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি বিধানসভার স্পিকার, ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়কদের ভবিষ্যৎ কী?

WB Assembly Speaker Rathindranath Basu Photo-SNS

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারকে। গতকাল রাতে হঠাৎই তাঁর তীব্র বুকে ব্যথা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন আশঙ্কাজনক বুঝেই তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। এখন  চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। তাঁকে আইসিইউ-তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। কোনও জটিলতা নেই বলেই খবর। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে হাতে আর পাঁচদিন সময় রয়েছে। তারপরই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে স্পিকারকে। সেটা এই অসুস্থতা কাটিয়ে কতটা সম্ভব? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিদ্রোহী বিধায়কদের ভবিষ্যৎ কী? জানতে চান সকলেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সময়ের মধ্যেই সেটা করতে হবে। তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ঋতব্রতপন্থী ১০ বিধায়ককে নিয়ে সময়মতো সুপ্রিম কোর্টে জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায় এবং সন্দীপন সাহা-সহ ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের পদ খারিজের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ওই মামলা নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিধায়ক পদের ভাগ্য নির্ধারণের মূল এক্তিয়ার বিধানসভার স্পিকারেরই। ৮ অক্টোবর তারিখের মধ্যে স্পিকারকে এই আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সুতরাং আর পাঁচদিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে হবে অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুকে। তা না হলে আবার মামলা হবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বলেই সূত্রের খবর।


তাছাড়া মূল দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে ঋতব্রত শিবির। তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের মামলায় ভর্ৎসনা শুনতে হয়েছে। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই মামলাতেও সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। সুতরাং সবদিক থেকে চাপে রয়েছে ঋতব্রত শিবির। এই আবহে কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশগুলির স্পিকারদের সম্মেলনে যোগ দিতে কেপটাউনে গিয়েছিলেন অধ্যক্ষ। পরে আটলান্টা ও লন্ডন সফর সেরে কলকাতায় ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, ‘হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে। যথা সময়ে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়ে দেব।’ ২০২৬ সালেই প্রথমবার ভোটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন রথীন্দ্রনাথ বসু। কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রর জন্ম কোচবিহারেই।