ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়কদের নিয়ে ফয়সালার পথে স্পিকার, লক্ষ্মীবারে শুনানি বিধানসভায়

WB Assembly Speaker Rathindranath Basu Photo-SNS

ঋতব্রত-সহ ১০ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের নিয়ে এবার ফয়সালার পথে হাঁটতে চলেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে আগেই জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আর তাই বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে নাগাদ শুনানি ডাকলেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। এখানেই হবে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব। এখানে উপস্থিত থাকার কথা ঋতব্রত শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক এবং তাঁদের পক্ষের আইনজীবী। মমতা তৃণমূলের পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর আইনজীবী উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার পর ভেঙে খান খান হয়ে যায় দল। বিধায়কদের একটা বড় অংশ নিয়ে আলাদা হয়ে যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। তাঁকে বিরোধী দলনেতা করেন স্পিকার। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস থেকে তার আগেই বহিষ্কার করা হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে। বহিষ্কার করা কোনও বিধায়ককে কেমন করে বিরোধী দলনেতা করা হল? উঠছে প্রশ্ন। এই নিয়ে মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে। তার জেরেই এই শুনানি ডেকেছেন স্পিকার।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায় এবং সন্দীপন সাহা-সহ ১০ জন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের পদ খারিজের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ওই মামলা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিধায়ক পদের ভাগ্য নির্ধারণের মূল এক্তিয়ার বিধানসভার স্পিকারেরই। ৮ অক্টোবর তারিখের মধ্যে স্পিকারকে এই আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। আর রাত পোহালেই ৮ অক্টোবর। তাই ডাকা হয়েছে শুনানি।


ঋতব্রত শিবির দল ভেঙে দেওয়ার পর তাঁরা মূল তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক এবং তহবিল নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করেন। নির্বাচন কমিশন আপাতত তৃণমূল কংগ্রেস এবং ঘাসফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দুই শিবিরকে দুটি আলাদা নাম ও প্রতীক দিয়েছে। তা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে উপনির্বাচনে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন শুধুমাত্র স্পিকার। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের সময় বিদেশ সফরে ছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। পরে আটলান্টা এবং লন্ডন সফর সেরে কলকাতায় ফিরলেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুস্থ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার শুনানি ডাকলেন স্পিকার। এখন দেখার কার ভাগ্যে কী আছে।