রাজ্যে এখন পালাবদল হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি সরকার চলছে। বিধানসভায় প্রথম রাজ্য বাজেট পেশ করেছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। তারপর থেকে শুরু হয়েছে অধিবেশন। সেখানে বিরোধী দল হিসাবে রয়েছে-কালীঘাট তৃণমূল, বিদ্রোহী শিবিরের তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম, আইএসএফ এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। আর শাসকদলের বিধায়করা তো রয়েছেনই। মন্ত্রী ছাড়াও অনেক বিধায়কও রয়েছে বিজেপির। এই বিপুল সংখ্যক বিধায়কদের (শাসক-বিরোধী) কাজকর্ম কেমন, পারফরম্যান্স কেমন এগুলি বিচার করে এবার থেকে দেওয়া হবে ‘সেরা বিধায়ক’ পুরষ্কার। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্পিকার রথীন্দ্র বোস।
বিধানসভার স্পিকার হাউস পরিচালনা করেন। কিন্তু সেখানেই তিনি থেমে থাকবেন না। এবার থেকে বিধানসভা পরিচালনা থেকে শুরু করে বিতর্কে অংশগ্রহণ সবদিক বিবেচনা করে, বিধায়কদের কাজের পারফরম্যান্স এবং উপস্থিতির হারের উপর ভিত্তি করে তাঁদের পুরষ্কার দেবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। আগামী পাঁচ বছর প্রতি বছর একজন করে বিধায়ককে ‘সেরা বিধায়ক’ সম্মান দেওয়া হবে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস। তবে এক্ষেত্রে স্পিকার নথি সরবরাহের কাজ করবেন। আর তার উপর ভিত্তি করেই বিধায়কদের মিলবে পুরষ্কার। এই মূল্যায়ন ও রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট এজেন্সিকে বলে বিধানসভা সূত্রে খবর।
এবার রাজ্য বিধানসভায় শাসক-বিরোধী মিলে বিপুল সংখ্যক বিধায়ক রয়েছে। তবে তার মধ্যে এমন ১৮১ জন সদস্য রয়েছেন যাঁরা প্রথমবারের জন্য বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে গণতন্ত্রের পীঠস্থানে এসেছেন। এই নবীন বিধায়কদের ভূমিকা কিছু কম নয়। তাঁরাও নানা বিষয়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন। তই তাঁদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস পরামর্শ দেন, শাসক এবং বিরোধী উভয় শিবিরের অভিজ্ঞ প্রবীণ বিধায়কদের কাছ থেকে কাজ শিখে নিতে হবে। বিধানসভার অনেক নিয়মকানুন আছে। আইনসভার কাজ এখানেই হয়। একাধিক কমিটি রয়েছে এখানে। সেখানে কী কী কাজ হয়, কেমন করে হয় সব শিখে নিতে হবে বিধায়কদের। বিশেষ করে যাঁরা প্রথমবার জিতে বিধায়ক হয়ে বিধানসভায় এসেছেন।
তবে বিধানসভার এবারের অধ্যক্ষও প্রথমবার জিতে বিধানসভায় এসেছেন। আর স্পিকার পদে আসীন হয়েছেন। তাই স্পিকার জানান, নিজের এলাকা এবং সামগ্রিক রাজ্য উন্নয়নের স্বার্থে কেমনভাবে বিধানসভার মঞ্চকে সঠিক এবং কার্যকর উপায়ে ব্যবহার করা যায় সেটা অভিজ্ঞ বিধায়কদের কাছ থেকে শিখে নিতে পারেন প্রথমবার জয়ী হওয়া প্রতিনিধিরা। বিধানসভা সূত্রে খবর, ‘সেরা বিধায়ক’ নির্বাচনের প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ এবং পেশাদারি মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে। সেখানে থাকবে-বিধানসভার অধিবেশনে বিধায়কদের উপস্থিতি এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে তাঁদের পারফরম্যান্স। আগামী ৫ বছরের মেয়াদে প্রত্যেক বছর একজন নির্বাচিত সদস্যকে ‘সেরা বিধায়ক’ হিসেবে পুরষ্কৃত করা হবে। এটা নতুন পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।