খোদ যাদবপুরে আক্রান্ত দুই বিজেপি কর্মী, অসামাজিক কাজের প্রতিবাদ করতেই ফাটল মাথা

BJP Worker Injured Photo-SNS

খাস কলকাতায় আক্রান্ত হলেন দু’জন বিজেপি কর্মী। খোদ যাদবপুর থানা এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল বলে অভিযোগ। তারই প্রতিবাদ করেন ওই দুই বিজেপি কর্মী। তখন তাঁদেরকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠল। তবে এই অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। যাদবপুর থানার অন্তর্গত লালকা মাঠের কাছে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের নাম সৌম্যদীপ সাহা এবং রাতুল মণ্ডল। ওই দুই বিজেপি কর্মী দাবি করেছেন, মধ্যরাত ১টা নাগাদ বাড়ি ফেরার পথে লালকা মাঠ এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ দেখে প্রতিবাদ করেন তাঁরা। এই প্রতিবাদ করতেই তাঁদের মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শনিবার যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা।

এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, মধ্যরাতে ওই রাস্তা দিয়েই বাড়ি ফিরছিলেন বিজেপি কর্মী সৌম্যদীপ সাহা। তখনই লালকা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় অসামাঝিক কাজ করতে দেখেন তিনি। সৌম্যদীপের সঙ্গে ছিলেন রাতুলও। তিনিও প্রতিবাদ করেন। এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলতে থাকেন। তখনই সৌম্যদীপ-রাতুলের উপর চড়াও হওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর আধলা ইট দিয়ে সজোরে তাঁর মুখে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। তার জেরে মুখ ফেটে গুরুতর আহত হন সৌম্যদীপ। বিজেপি যুব মোর্চার দুই নেতা আক্রান্ত হয়েছেন এভাবেই। একজন বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি এবং অন্যজন সাধারণ সম্পাদক। যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার ১ নম্বর মণ্ডলের যুব মোর্চার সভাপতি সৌম্যদীপ সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক রাতুল মণ্ডল।

অন্যদিকে সৌম্যদীপের ঠোঁটের কাছে আঘাত লেগেছে এবং নাক ফেটে গিয়েছে। ইট দিয়ে মারা হয় তাঁকে। রাতুল মণ্ডলকেও ইট দিয়ে মাথায় মারা হলে তাঁর মাথায় ৪টে সেলাই পড়েছে। আহত দুই বিজেপি কর্মীকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সৌম্যদীপ অভিযোগ করেন, ‘আমরা রোজ রাতেই ফিরি। আমাদের মণ্ডল লাগোয়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে নোংরামো করা, মহিলাদের নিয়ে রাস্তাঘাটে নোংরামো, নেশা করা যাতে বন্ধ হয় তাই প্রতিবাদ করেছিলাম। গতকাল রাতেও আমি দু’জনকে দেখতে পেয়ে ভাল কথায় তাদের নিষেধ করি। তারপর ওরা পিছু নিয়ে আমায় দাঁড় করিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি রাতুলকে ডাকি। তখনই আমাদের দু’জনকেই ইট দিয়ে মারা হয়। আমার নাকের অবস্থা খুব খারাপ। রাতুলের মাথায় সেলাই পড়েছে। ওদের এলাকায় আগে দেখিনি। এখানকার কেউ নয়। ওরা নিজেদের তৃণমূল বলে পরিচয় দেয়। ওরা অসামাজিক কাজ করছিল। নেশা করছিল। মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করছিল।’


তাছাড়া নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পালটা দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে দলীয় রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তবে আক্রান্ত রাতুলের অভিযোগ, পুলিশ অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করছে।’